সবসময় কবি থাকি না। খুব শীত পরলে খানিকটা হয়ে উঠি। থাকি অপেক্ষা রত। আঁধারের। কখন হবে যে সন্ধ্যা। বেশীক্ষণ লাগে না। সন্ধ্যা নামে। বলি যে, কি করবা আজকে। সন্ধ্যা বলে যে চলো এদের কোন একটাকে মেরে ফেলি।
আমি ফোন হাতে নেই। নিয়মানুযায়ী ফেসবুকে ঢুকলাম। আমার আড়াই হাজার ফ্রেন্ড আছে। এটা প্রিয় সংখ্যা আমার। আড়াই হাজার বন্ধুর বেশী হলেই একটা সমস্যা বোধ করি।
যেমন আজকে এরকম হয়ে গেছে। একান্ন দেখাচ্ছে। মানে হ্যাক। কারণ আমি আড়াই হাজারের পর কখনই রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করব না। আমার মনে হল যে আকামটা করল সে চিকন, কালো ও অনেক লম্বা। শুয়োর ছেলেটা।
এজন্যই বের হচ্ছি। বাইরে। গল্পটাও এই নিয়েই। যে, ফ্রেন্ড লিস্টের যে কোন একজনকে মেরে ফেলতে হবে আজকে রাতে। ব্রক্ষান্ডের ব্যালেন্স ঠিক রাখার ওয়াস্তে।
এই মানুষটা, মানে প্রোটাগনিস্ট, ধরুন আমিই সেটা, একটা সাইকো মার্কা বাল-ছাল। অয় মদ খায়। গাঞ্জা খায়। কিন্তু কাট-বডি আছে। সিজোফ্রেনিক। লগে বাইপোলারও। তাও হয় যদি।
এন্ড শিয দা গ্রেটেস্ট পোয়েট এভার টু এগজিস্ট ইন বেংগালি লিট্রেচার!
strikethrough--
এন্ড হিয দা গ্রেটেস্ট পোয়েট এভার টু এগজিস্ট ইন বেংগালি লিট্রেচার!
তার প্রকাশিত কবিতার সংখ্যা- জিরো
তার রচিত কবিতার সংখ্যা- অগণিত
হা হা। ধরতে পারসেন কি বিষয়টা আপনারা? এই লোক আমাকে টাকা দিসে। বলসে এটা লিখে দিতে। এই গল্প আসলে ওরে লয়ে বিজ্ঞাপন। মানে এটা একটা কপি। আড়াই হাজার শব্দ। ট্যাকাও আড়াই হাজার।
আবার চুদতেও চায়। এই আড়াই হাজারের মধ্যেই। এমন হারামজাদা!
আপনারা চার পাঁচ প্যারার বেশী চলে আসছেন। এই জন্যে জানায়ে দিলাম। মানে আসলে এদ্দূর কে পড়ে! আমি এরকম জানাচ্ছি কারণ একটা ক্যাচাল আছে। আমার মনে হয় লোকটা মার্ডারার। সে কাওকে খুন করসে।
আরেকটা হইল সে আমাকে এই লেখার জন্য কিওয়ার্ডও দিসে “খুন”। আর বলসে “সেক্স” হইল সেকেন্ডারি কিওয়ার্ড। আমার একটু লজ্জা লাগছিল তখন। মেসেঞ্জারের ওপার থেকে কবি কিভাবে জানি বুঝলেন।
“আপনি লজ্জা পাচ্ছেন নাকি?”
“না,, মানে আগে কখনও করি নাই তো।”
“ওহ,,,হা হা, কোন ব্যাপার না। আমি সব শিখায়ে দিব। আর ফোন দিবেন।”
পরে বলে যে উনি আরও টাকা দিবে। শুধু ঠিকমত লিখতে হবে। টাইটেলও তারই দেয়া। বাক্য হবে ছোট ছোট। অজটিল। এবং ম্যানলিনেস থাকতে হবে।
কি ঝামেলা হল একটা। আমি তিনদিন চেষ্টা করলাম। পরে ফোন দেই। মদ খাইসিলেন উনি। ফোন ধরে বললেন,
“হ্যালো সন্ধ্যা।”
“হ্যালো…”
“কি?”
“কই কি?”
“আচ্ছা, কাজ কর ঠিক করে। মানে কি আর বলব তোমারে। তুমি তো আসো টাসো না। খালি ফোনেই।”
“লেখাটা আগাইতেসে না।”
“ কিওয়ার্ডের উপ্রে ফোকাস কর। খুন আর সেক্স শব্দ দুইটা কয়েক প্যারাগ্রাফ পরপরই রাখবা। বোঝ নাই?”
“হুমম।”
খুন নিয়ে লেখা মনে হয় সহজই আসলে। একটু খেয়াল করার ব্যাপার খালি। আশেপাশেই তো হতেই থাকে এসব খুন টুন।
কারণ, আরেক গ্রেট পোয়েটও তো ইন্টারভিউয়ে বলেছিলেন যে, খুন করা ছাড়া আর কিইবা কারণে বাইরে বের হবে লোক? নাকি এমন বলসিলেন যে, আপনে বাইরে বাইর হয়ে দুই তিনটা খুন খারাবি না করলে কেউ আপনাকে কোনদিন বুঝবে না। যেটাই হয়। আমি তো এতও সিরিয়াস না এসব নিয়ে।
অনেক আগে একদিন দুই দিন বেরিয়েছিলাম রাস্তায়। সকালে। তারপর একটু বিকালে চারটার দিকে আরেকদিন।
দেখেছি ড্রেনের পাশে কুকুরা সেক্স করে। রিক্সাওয়ালারা পেশাব করে। আর ড্রেনের একটু দূরে লেকের পাশে মানুষরা আর মেয়েরা। হা হা। আমি হাসছিলাম। কিন্তু ঘিন্নাও লাগছিল। ছেলেটা এসে আমাকে চড় মারল। বলল, শালী মদখোর। খাড়া তুই। য়োই। অইপ। হাউয়া মাগী। আর মেয়েটা ওড়না ঠিক করতেসে।
পরে আমি লাফ দিয়া পানিতে পইড়া গেছি। শীতকাল ছিলো না তখন। গরমের টাইম। পরে ডুইবাই গেছিলাম। অরাই বাচাইসে তখন। আর পুলিশেও দিছে। এসআই আমাকে বলল প্রতিমাসে একবার আইসা দেখা করে যাইতে। তাইলে কিছু বলবে না।
তাই যাইনা বাইরে বাল ছাল। খালি এসআইয়ের সাথে দেখা করতে মাসে একবার আরকি। কিন্তু আজকে তো রাতটা একটু ডিফরেন্ট।
ঘর থেকে বেরুতে বেরুতেই রাত বাইরে। নীচে এসে দেখি ঘন অন্ধকার। তাই মার্লবোরো ধরাতে বাধ্য হই।
বাসার সামনে একটা রিক্সা। চালকবিহীন। একা দাড়িয়ে আছে। তার চারপাশে কুয়াশা। কেমন রহস্য রহস্য। রিক্সার চকচকে লাল প্লাস্টিক। ঝিকমিক সোনালী জড়ি ফিতা এসব। মনে হচ্ছে শাড়ি গয়না পড়ে দাড়িয়ে থাকা। তারোপর চালকবিহীন।
কাছে যাই। কন্ঠে ম্যানলিনেস নিয়ে বলি,
‘যাবে নাকি?’
একপ্রকার আলোড়ন হয়। অন্ধকার থেকে একটা লোক বেরিয়ে আসে। পৃথিবীর সবচেয়ে কদর্য লোকটি তিনি। তার আগমনে পরিবেশে পরিবর্তন ঘটে। আলোর টোন পাল্টে যায়। গতিও। আগে গেরুয়া কমলা ছিল। এখন লাল কমলা। আর মধ্যখানে এই লোকটার প্রচন্ড খারাপ চেহারাটা একটা ব্ল্যাক হোলের মত প্রকট হচ্ছে।
মার্লবোরোতে গভীর টান দিয়ে, আমি উঠে পড়ি।
ওর (মানে এই রিক্সাটার) ঠিক ওপরেই সোডিয়াম লাইট। কমলা আলো কুয়াশার সাথে মিশে মজা পাচ্ছে। আমি রিক্সায় বসে দূর থেকে এই দৃশ্যটাকে দেখি। যে সোডিয়াম লাইট। উজ্জ্বল প্রাণদায়িনী জিরাফ মাতা;
-- কিন্তু হে মা তব বিষন্ন বিলাস! খেয়ালি মেলানকোলিক তিনি। তাই রাত, কুয়াশা, অন্ধকার এসব চারপাশে। এবং আমিও। আর রিক্সাও। আর রাস্তাও। সব। নিজেকে রোগগ্রস্থ মনে হয় আমার।
এই রাস্তাটা সরু। দুই পাশে দেয়ালের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ। দেয়ালের ওপাশে খাল। কিছু মাঠ। কোনটা আগে আর পরে, মানে দেয়ালের পর পরই পানি আর পানা আর কিছু পরে মাঠ, নাকি মাঠ আর পরে পানি আর এর মধ্যেই কোথাও পানা ও মাছের সংসার, এটা মনে থাকে না।
দেয়ালও কিছু দূর ইটের। কিছু দূর টিনের। কোন একটা জায়গায় জানি চায়ের দোকান আছে। মার্লোবোরোর আগুন সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। দোকানদার হেসেছিলেন। না না হেসেছিল। কম বয়সী ছেলে।
আরেকটা জায়গা আছে সবাই গাঁজা খায়। সুঁই ফোটায়। ওখানে রড, ইড, কাদাপানি, ব্যবহৃত কনডম ইত্যাদি পড়ে থাকে। যেখানে ঘটনা ঘটে সেখানে প্রচুর ইট। ছোট ছোট। ধূসর, সাদা ও কালো রঙ মিলানো। একটা স্মল ম্যান মেড মাউন্টেন।
গাঁজার লোকগুলা একজন বসে মাউন্টেনের চূড়ায়। তার কি জানি একটা গুরুত্ব আছে। এখন খেয়াল নেই।
পরে আরেক জায়গায় গিয়ে একটা গাছ না ফুল এরকম বিষয় থাকবেই। এসব সমন্ধে আমি অবগত। শুধু সময় ও স্থানের কোথায় তাদের অবস্থান কখন কেমন হয় এটা আমি জানতে পারি না কখনও। দেয়া হয় না বলেই পারি না।
প্রকৃত প্রস্তাবে এই পৃথিবী গু দিয়ে তৈরী। আমি বিশ্বাস করি এখানে সবই বিভ্রান্তি। প্রচন্ড শীত লাগছে। বুকে টাইট ভাব। মার্লবোরোর গন্ধ নর্দমার ঘ্রাণের চেয়ে প্রবল হয়ে ওঠে। সবটাই ভুল। এসব আসলে হচ্ছে না। কারণ আমি তাই মনে করি।
(শ্রদ্ধেয় স্যার,
বাকী পনেরশ শব্দ আপনি অন্য কাওকে দিয়ে লিখায় নেন।
এখানে এক হাজার শব্দ আছে। আমাকে ওটার টাকা বিকাশে দেন।
আপনে বললে আইসাও নিতে পারি
💓👄
সন্ধ্যা)
--------------------------
---------------------------
------------------
['কামোন বেবি শেক ইট' সময়ের সাথে আপডেটেড হতে থাকে। এর প্লট, চরিত্র, শব্দ সংখ্যা সময়ের সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল। ট্রেডিশানাল সাহিত্যের মত স্থির নয়। আমার অনুমতি সাপেক্ষে অন্যরাও আপডেট করতে পারবে। কেউ এই লেখা ব্লগ থেকে ডিলিট করাতে চাইলে সেটিও পারবেন। সেজন্য টাকা দিতে হবে।]