ঘাড়ে ভুত লাগা ভালো।দূর্বল মানুষ সবল হয়ে যায়।মোল্লা বাড়ির বউ সারিন, শারীরিক ভাবে দূর্বল। সাত চড়ে কথা কয় না।কিন্তু ভুত লাগলে। ওরে বাবা!
সন্ধ্যা কেবল পার হয়েছে। ঘোরঘোর অন্ধকার। রান্না ঘরের বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে সারিন উঠানে ঝাপিয়ে পড়লো।
- সরে যা।আমি যাবো।
সারিনের শ্বশুর মাজিদ মোল্লা ছুটে এলো।
- বউমা কোথায় যাবা?
- সরে যা।
বলেই নাক বরাবর এক ঘুষি। নাক ফেটে রক্তে গোফ ভিজে গেলো মাজিদ মোল্লার।ছুটে এলো শাশুড়ী। হাতে ঝাটা।
- শালার ভ্যানওয়ালার বাচ্চা। তোর এতো বড়ো সাহস?
- এই, খবরদার।আমি নদে মুচি।আয়।
সারিনের চোখ লাল। ক্রিকেট বলের মতো বড়ো বড়ো। অন্ধকারেও আগুনের মতো দাউদাউ জ্বলছে।
দজ্জাল শাশুড়ী ভয় পেয়ে গেলো।ঝাটা উঁচিয়ে তেড়ে এলো।সারিন চালালো লাথি।তলপেটে লাগলো।শাশুড়ী চিত হয়ে পড়লো উঠানে। ছুটে এলো ননদ, দেবর।তাদের অবস্থাও খারাপ হয়ে গেলো।সারিন ছুটে বেরিয়ে গেলো বাগানের দিকে।গলির ভিতর হাত মুঠো করে ধরলো আফজাল হুজুর।
সারিন শান্ত।
- এই কাল সন্ধ্যাকালে কোথায় যাচ্ছো?
- তোর বাড়ি।আমি তোর বউ হবো।
- তুই তো মুচি।
- তুই হরেন মুচির বউয়ের কাছে যাস না?
হুজুর স্তব্ধ হয়ে গেলো।যে ঘটনা দুনিয়ায় কেউ জানে না- এ জানলো কীভাবে? না এ ভুত।ভুতরা সব জানে।
আফজাল হুজুর নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,"ঠিক আছে। তুই যা বলবি তাই হবে।"
- হবে?
-হবে।বাড়ির ভিতর চল।
- চলো।
সারিনকে উঠানের মাঝে খুঁটির সাথে বাঁধা হলো। মুখে গামছা পেচানো হলো।তারপর মাইর।কাঁচা কঞ্চি এবং ঝাটার সপাং সপাং বাড়ি।নদে চলে গেলো।যাওয়ার সময় বড় এক ঘড়া পানি দাঁতে করে নিয়ে গেলো।
কিন্তু কিছুদিন পর বেঈমান হুজুরের লাশ পাওয়া গেলো আষাঢ়ুর ফাঁকা মাঠে তাল গাছের মাথায়।
নদের ভুত
হুমায়ূন কবীর
১৬/১/২৬