Posts

ফিকশন

ছায়াহীন মানুষের দিনলিপি

January 17, 2026

Shimul Suchi

23
View


### ছায়াহীন মানুষের দিনলিপি
আয়নার ভেতর দাঁড়িয়ে আমি প্রথমবার বুঝলাম— মৃত্যু মানে অন্ধকার না। মৃত্যু মানে *অপেক্ষা*। 

বাইরে স্কুলঘণ্টা বাজে। নতুন মাস্টার— *আমি নই*— ক্লাস নিচ্ছে। সে আমার মতোই হাঁটে, কথা বলে, এমনকি বোর্ডে লিখলেও হাতের কাঁপুনিটা এক। কিন্তু একটা পার্থক্য আছে— সে কখনো আয়নার দিকে তাকায় না। কারণ সে জানে, তাকালেই আমি তাকে দেখব। 

 আয়নার নিয়ম


এই ঘরের আয়না একতরফা না। যে একবার ছায়া হারায়— সে আয়নার ভেতর *থাকে*, আর বাইরে থাকা মানুষটা শুধু *সময়ের ধারক*। 

আমি দেয়ালে হাত রাখি। চুন খসে পড়ে। নিচে পুরোনো লেখাগুলো ভেসে ওঠে—
> “আমরা সবাই ছিলাম।
এখন আমরা নাম।” 

আমি তখন বুঝি— রাশেদ, রায়হান— এগুলো আসল নাম না। এগুলো *পরিচয়ের খোলস*। 

 গ্রামের ভুল


গ্রামের মানুষ ভাবে— শেষ ঘর মানুষ খায়। তারা ভুল। শেষ ঘর *নাম* খায়। যে নিজের নাম নিয়ে সন্দেহ করে— যে আয়নায় নিজের চোখে চোখ রাখে— ঘর তাকে সময় দেয়। এক বছর। তারপর নামটা আলাদা করে রাখে, আর মানুষটাকে ভেঙে ফেলে। 

 এক বছরের শেষ রাত


সেই রাত আসে। নতুন মাস্টার ঘুমাতে পারে না। তার ছায়া আজ সারাদিন নড়েনি। সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। আমি তার পেছনে। সে ফিসফিস করে বলে—
“আমার নামটা কি ছিল?” 

আমি হাসি। এই প্রথম আমার ছায়া ফিরে আসে। আমি বলি—
“নাম থাকলে মুক্তি থাকে। তুমি সেটা ছেড়ে দিয়েছো।” 😈

আয়না কালো হয়। ঘর নিশ্বাস নেয়। 🕸️

 পরের সকাল


পরদিন গ্রামে আর কোনো মাস্টার নেই। স্কুল বন্ধ। শেষ ঘরের দরজা খুলে আছে। দেয়ালে নতুন লেখা—
> “যে নিজের নাম ভুলে যায়,
সে আমাকে চিনে ফেলে।” 

আয়নার ভেতর এখন অনেকেই দাঁড়িয়ে। সবাই আমার মতো। ছায়াহীন। 

আমি দেয়ালে শেষ লাইনটা লিখি—


 *“নামহীন ঘর এখন পূর্ণ।”* 

ঘরটা তখন হাসে। আর বাইরে… একজন পথিক থামে, শেষ ঘরের দিকে তাকিয়ে বলে—
“এখানে কি কেউ থাকে?”

Comments

    Please login to post comment. Login