Posts

চিন্তা

দেশের চাবি কার হাতে?

January 17, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

47
View

"দেশের চাবি আপনার হাতে" -এই স্লোগানে অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট ২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

সরকার বলছে, নিঃসন্দেহে জুলাই সনদ ফ্যাসিবাদ দূরীকরণে আ.লীগ ছাড়া সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবিত এযাবৎকালের বড় প্রেসক্রিপশন। যেটি বাস্তবায়নে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে গোলাপী ব্যালটে হ্যাঁ-না গণভোটের মাধ্যমে পাবলিক ম্যান্ডেট নেয়া হবে।

সরকারি প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, 
আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে-
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে।

• সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।
• সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।
• বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
• যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
• সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে।
• ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
• দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
• আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে।
• দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।
• রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।

উপরের বিষয়াবলীতে "হ্যাঁ" ভোট দিলে সবকিছু পাওয়া যাবে, "না" ভোট দিলে কিছুই পাওয়া যাবে না -প্রচারপত্রের শেষে এমনটা বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে উপনীত হওয়া জুলাই সনদের বিষয়সমূহ মোটাদাগে দুইভাগে বিভক্ত। (ক) সংবিধান সংস্কার সাপেক্ষে সংস্কারের বিষয়সমূহ এবং (খ) আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়সমূহ। প্রথমভাগে ৪৭টি অনুচ্ছেদ এবং দ্বিতীয় ভাগে ৪৭টি নিয়ে সর্বমোট অনুচ্ছেদ ৮৪টি।

এই অনুচ্ছেদগুলোতে কোনোটি ৩২টি, কোনোটি ৩০, ২৯, ২৫, ২৪, ২৩টি রাজনৈতিক দল বা জোট একমত হয়েছে। কোনো কোনো দল দ্বিমত পোষণ করেছে বা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।

ঐকমত্য কমিশনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপির এককভাবে সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। এবং জামায়াতের অভিজ্ঞতা আছে বিএনপির সাথে সহদল হিসেবে। দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতাবিহীন বাকি দলের গণসমর্থন সর্বজনবিদিত নয়।

জুলাই সনদে বর্ণিত পয়েন্টগুলোতে দ্বিমতের খুব বেশি সুযোগ নাই। আমরা কেউই চাই না -ক্ষমতাসীন কোনো একটি দল বা ব্যক্তি একচ্ছত্রভাবে পাওয়ার এক্সারসাইজ করে নিজেকে বা দলকে ফ্যাসিজমের কন্টক মালা পরাক। আমরা 'হ্যাঁ'তে ভোট দেব 'না'কি নাতে ভোট দেব এরচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল অথবা দলগুলো কি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে?

ঐকমত্যের ঘোষণা অনুযায়ী প্রস্তাবিত জুলাই সনদের ৮৪টি অনুচ্ছেদের ৭১টিতে 'রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত' অংশে নোট হিসেবে লিখা হয়েছে:
"অবশ্য কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে তাহলে তারা সেইমতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।"

তার মানে দাঁড়ালো সংবিধান সংশোধন বা আইন, অধ্যাদেশ ও বিধি সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বলটি চূড়ান্ত বিচারে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কোর্টে রেখে দেয়া হয়েছে। তাহলে আমরা ন্যায্যতার পক্ষে সত্যিকারের পরিবর্তিত দেশের চাবিটা কার কাছে খুঁজব?

লেখক: সাংবাদিক 
১৭ জানুয়ারি ২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login