বিকেলের আকাশটা সেদিন অদ্ভুত রকম নরম ছিল। বিকেলের আকাশটা সেদিন অদ্ভুত রকম নরম ছিল। রোদ আর মেঘের লুকোচুরি খেলায় যেন শহরটাও একটু বেশি রোমান্টিক হয়ে উঠেছিল। পার্কের পুরোনো বেঞ্চে বসে ছিল মেয়েটা—তার নাম মেহরিন। হাতের মুঠোয় ফোন, কিন্তু চোখ দুটো ছিল দূরের আকাশে। মেহরিন বিশ্বাস করত, কিছু ভালোবাসা শব্দ চায় না— শুধু একজন মানুষের উপস্থিতিই যথেষ্ট। প্রতিদিন বিকেলে সে ওই বেঞ্চেই এসে বসত। কারণ ঠিক একই সময়ে,ঠিক একই পথ ধরে একজন ছেলে হেঁটে যেত। তার নাম আরিফ।একদিন হঠাৎ বৃষ্টি নেমে গেলে দুজনেই একই ছাতার নিচে দাঁড়িয়েছিল। তাদের পরিচয় হয়েছিল খুব সাধারণভাবে।সেই প্রথম চোখাচোখি, সেই প্রথম নীরব হাসি— আর সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল এক অদ্ভুত অনুভূতি। তারা খুব বেশি কথা বলত না। কিন্তু পাশাপাশি হাঁটলেই মনে হতো, সব না বলা কথাগুলো নিজে থেকেই বোঝা হয়ে যাচ্ছে। একদিন আরিফ হঠাৎ বলল, “জানো, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা না বললেও মনটা শান্ত লাগে।” মেহরিন মুচকি হেসে শুধু বলেছিল, “হয়তো সেটাই ভালোবাসা।” দিন যায়, সময় বদলায়। কিন্তু পার্কের সেই বেঞ্চ, বিকেলের সেই সময়— সব আগের মতোই থাকে। একদিন আরিফ হাতে করে একটা ছোট চিঠি এনে দেয়। চিঠিতে লেখা ছিল— “ভালোবাসার ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে বুঝেছি, ঠিকানাটা আসলে তোমার হৃদয়ের ভেতরই।” মেহরিনের চোখ ভিজে উঠেছিল। সেদিন আর কোনো শব্দের দরকার হয়নি। দুজনের হাতের আঙুল জড়িয়ে যাওয়াই ছিল সব প্রশ্নের উত্তর। ভালোবাসা কখনো জোরে আসে না। সে আসে চুপচাপ, ঠিক বিকেলের হালকা বাতাসের মতো— যা হৃদয়ে ছুঁয়ে যায়, আর থেকে যায় অনেকদিন।
🌷 শেষ হলেও, ভালোবাসা রয়ে যায়।