শীতের সকালের রোদটা সেদিন একটু বেশি মিষ্টি ছিল। বাসস্ট্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিল। তার নাম নিহা।
হাতের মুঠোয় ছিল একটা চিঠি— লেখা, কিন্তু কখনো দেওয়া হয়নি। ঠিক তখনই বাস থেকে নামল ছেলেটা। চেনা হাসি, চেনা চোখ—আরমান। অনেকদিন পর আজ তাদের দেখা।তাদের পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে। একই বই, একই টেবিল, আর ধীরে ধীরে ভাগ হয়ে যাওয়া কফির কাপ। কখন যে বন্ধুত্ব ভালোবাসায় রূপ নিয়েছিল, কেউই বুঝতে পারেনি। কিন্তু জীবন সবসময় সহজ হয় না। ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব আর নীরবতায়একসময় আলাদা হয়ে গিয়েছিল তারা। তবুও নিহা আজও প্রতিদিন আরমানকে লেখা চিঠিগুলো জমিয়ে রেখেছিল। আরমান ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো । বলল, “আমি অনেক দূরে গিয়েছিলাম,কিন্তু তোমার থেকে কখনো না।” নিহার চোখ ভিজে উঠল। সে চিঠিটা এগিয়ে দিল। আরমান পড়তে পড়তে থমকে গেল। চিঠিতে লেখা ছিল— “যদি কোনোদিন ফিরে আসো, আমি তখনো এখানেই থাকব—তোমার জন্য।” চারপাশের সব শব্দ থেমে গিয়েছিল। আরমান নিঃশব্দে নিহার হাত ধরল। “চলো, এবার একসাথে চলি।” সেই সকালে বাসটা আর আসেনি। কিন্তু তাদের সামনে খুলে গিয়েছিল নতুন একটা পথ। ভালোবাসার, বিশ্বাসের, আর একসাথে থাকার।
🌸 শেষ নয়—এটাই ছিল নতুন শুরুর গল্প।