পুরুষকে প্রিন্স ট্রিটমেন্ট দেবেন না!
একজন মেয়ের সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর অন্য কোনো পুরুষের সাথে সম্পর্ক করতেই পারে। কিন্তু পুরুষের সমস্যা হলো সে মেয়েটিকে একটা সময় আর মেনে নিতে পারে না। প্রথম দিকে ডোপামিনের উন্মাদনায় সে মেয়েটির সকল অতীত মেনে নেয়। সে প্রমাণ করতে চায় আমি সুপারম্যান। তোমার অতীত নিয়ে আমি তোমাকে কখনোই প্রশ্ন করব না। সে যৌনতার প্রতিযোগিতায় নিজেকে শ্রেষ্ঠতম প্রমাণ করতে চায়। এটা হলো প্রতিযোগী পুরুষকে অযোগ্য প্রমাণ করে মেয়েটিকে দখল করার একটি কৌশল। যাকে বলে "Zero Sum Game"!
কিন্তু ডোপামিনের খেলা শেষ হওয়ার পর পুরুষের ব্রেন পরিবর্তন হয়ে যায়। সে মেয়েটিকে যখন একবার জয় করে ফেলে তখন তার মধ্যে সুপারম্যান সিন্ড্রোম দেখা দেয়। সে মনে মনে প্রশ্ন করে, তার অতীতের বয়ফ্রেন্ড তার সাথে কীভাবে সেক্স করেছিলো? সে কি আমার থেকেও ভালো পারফর্ম্যান্স দিতে পারতো? যেই মেয়ে এত এক্সপার্ট তার নিশ্চয়ই অতীতে আরও অনেকের সাথেই সম্পর্ক ছিল? এভাবে দিন দিন তার মস্তিষ্ক অতীতের প্রেমিকের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করতে শুরু করে।
কিন্তু প্রশ্ন আসে, সম্পর্কের শুরুতে তুমি কেন তার অতীত মেনে নিয়েছিলে? কেন তাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলে? তার জীবনের অতীতের পুরুষগুলো যদি তোমার থেকেও যোগ্যতম হয়ে থাকে, তাহলে কেন সে তাদের ছেড়ে তোমার সাথেই সম্পর্ক করেছিল? সে তোমাকে শ্রেষ্ঠতম পুরুষ মনে করেছিল বলেই তো সে তোমার সাথে মুভ অন করেছিল। তুমি কেন এখন নতুন করে তোমার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে যাচ্ছো? কেন তুমি কাল্পনিক পুরুষের কাছে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার জন্য তোমার প্রেমিকার উপর শারীরীক ও মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছো? তোমার প্রেমিকা কি মহাবিশ্বের সময়ের নিয়ন্ত্রক? সে স্পেস-টাইমকে কন্ট্রোল করতে পারে? সে কি ঈশ্বর? সে কি জানত, তুমি নামক কেউ এই ইউনিভার্সে আছে যার সাথে তার প্রেম হবে? পৃথিবীতে এমন কোনো নারী আছে যে জীবনে কারও প্রেমে পড়েনি?
আসলে এটা পুরুষের কোনো চারিত্রিক সমস্যা বা দুর্বলতা নয়, এটা তার একটি টিকে থাকার কৌশল। সেক্সের পর পুরুষের মস্তিষ্কে ডোপামিন কমে যায়, তখন তার মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন ও ভেসোপ্রেসিন হরমোন তৈরি হয়, তার মধ্যে মেয়েটির প্রতি অ্যাটাচমেন্ট তৈরি হতে শুরু করে। কিন্তু সমস্যা হলো এ সময় পুরুষের মস্তিষ্ক থ্রেট ডিটেকশন মুডে প্রবেশ করে, পুরুষের জেলাসির সার্কিট সক্রিয় হয়। এটা পুরুষের মস্তিষ্কের একটি মেকানিক্যাল ত্রুটি, এটা তার কোনো অন্যায় নয়।
আসলে প্রাগৈতিহাসিক সময়ে কোনো ডিএনএ টেস্ট ছিল না। তাই পুরুষের জানার উপায় ছিল না, তার প্রেমিকার গর্ভে তার ডিএনএ অথবা তার এক্সের ডিএনএ। অনেক সময় পুরুষ নিজের অজান্তে এক্সের ডিএনএ'কে নিজের ডিএনএ মনে করে জেনেটিক্যালি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এছাড়া প্রস্তর যুগে কোনো গর্ভনিরোধ পিলও ছিল না। যে সব মেয়ের অতীতে একাধিক বয়ফ্রেন্ড ছিল তারা ছিল পুরুষের জন্য এক একটি থ্রেট। তাই পুরুষের ব্রেনে তৈরি হয়েছে "Retroactive jealousy"। সে অবচেতনে ভাবে, অতীতের পুরুষ মানেই সম্ভাব্য জিনগত হুমকি। এটা যুক্তি দিয়ে তৈরি হয়নি। এটা তৈরি হয়েছে লক্ষ লক্ষ বছর আগে।
আজকের যুগে আমি নিশ্চিত করে জানি যে আমার প্রেমিকার গর্ভে তার এক্সের ডিএনএ নেই কিন্তু মস্তিষ্ক এখনো তার আদিম নিউরাল সার্কিট ধরে রেখেছে। এই আদিম সার্কিট পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে ক্রমাগত নির্যাতন করে যাচ্ছে। একজন মেয়ে তার প্রতি যত ডেডিকেশন দেখায় সে তাকে আরও বেশি বিপজ্জনক মনে করে। তার অবচেতন মন ধরে নেয়, মেয়েটি তার অতীত জীবনের ক্রাইম হাইড করার জন্য তার প্রতি এত উচ্চমাত্রিকভাবে ডেডিকেটেড। মেয়েটি তাকে যতই সুপারম্যান প্রমাণ করতে চায়, ছেলেটি ততোই থ্রেট ফিল করে। মেয়েটি নিউট্রাল থাকলে পুরুষটি ভাবে তার অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ, প্রিন্স ট্রিটমেন্ট দিলে ভাবে নিশ্চয়ই আমি বোকা। এটা একটা প্যারাডক্স!
এখানে বাস্তবতা অপ্রাসঙ্গিক, তার ব্রেন নিজেই নিজের মতো একটি গল্প তৈরি করে নিজেকে বোকা বানায়। তার মনে বারবার একটাই প্রশ্ন জাগে, যে মেয়ে অতীতে একাধিক পেনিস নিয়েছে, আমার পেনিস কি তার জন্য যথেষ্ট তো?
পুরুষের ব্রেন এখানেই মূলত ভুল করে। নারীর যৌন সন্তুষ্টি কোনো “মাইলেজ কাউন্টার” না যে ব্যবহার বাড়লে সংবেদন কমে যাবে। নারীর যোনি অথবা নার্ভাস সিস্টেম কোনো রাবার ব্যান্ড না যে টান পড়লে ঢিলে হয়ে যায়। এগুলো পর্নোগ্রাফিক মিথ।
পুরুষের ব্রেন সেক্সকে দেখে "male-male competition" হিসেবে কিন্তু সে যেটা বুঝতে চায় না তা হলো সেক্স মানেই বন্ডিং নয়। সেক্স হলো পুরুষের "ranking system"। সে সেক্সের মাধ্যমে নিজের ডমিন্যান্স সিগন্যাল দেয়, সে প্রমাণ করতে চায় "আমি আলফা"। তাই পুরুষের মস্তিষ্ক প্রশ্ন করে, সে কি আমার থেকেও বড় ছিল, আমার থেকেও ভালো করেছিল। এই প্রশ্নগুলো নারীকে নিয়ে না, এগুলো পুরুষের নিজের "status anxiety"।
দেখুন, একটা মেয়ে অতীতে অনেক পেনিস পেলে ফিউচারেও অনেক পেনিস পেতে চাইবে এটা সঠিক নয়। সেজন্যে যৌনকর্মী রাও জীবনে সঙ্গী চান।একজন মেয়ে একজন পুরুষের কাছে কেবল যৌনতা নয় সেফটি ও সিকিউরিটি চায়। সে আপনার সাথে অ্যাটাচড। আপনি যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে তাকে সন্দেহ করতে থাকেন আপনার সাথে তার অ্যাটাচমেন্ট ছিঁড়ে যাবে। আপনি এতদিন তার সম্পর্কে যা সন্দেহ করেছেন আল্টিম্যাটলি তাই প্রমাণ হবে, সে অন্য কারও সাথে সম্পর্ক করে বসবে!!
তখন আপনার মধ্যে একটা হ্যালুসিনেশন তৈরি হবে, আরেহ, আমি তো আগে থেকেই জানতাম সে এমন! আমার সন্দেহই তো শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হলো! আপনার ব্রেন এভাবে সারাজীবন আপনাকে বোকা বানাবে, এটা বোকামির একটা অন্তহীন লুপ। অনুগ্রহ করে এটা রিপিট করবেন না।
আজ আমার একজন ফলোয়ারকে এই টপিক বুঝিয়েছিলাম। তাকে বলেছিলাম, আপনার প্রেমিকাকে "স্যরি" বলুন। ছেলেটি তার প্রেমিকাকে যখন স্যরি বলে মেয়েটি আর বিশ্বাস করে না, মেয়েটি প্রশ্ন করে, আপনি কি আজ ড্রিংকস করেছেন!