Posts

চিন্তা

জাইমাকে রাজনীতিতে স্বাগত

January 19, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

35
View

ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বাংলাদেশে প্রথম জনসম্মুখে পলিসি মেকিং বক্তব্য দিলেন আজ। ধীরস্থির বাংলা বক্তব্যের সাথে ব্রিটিশ একসেন্টে ইংরেজিটাও দুর্দান্ত লেগেছে। দীর্ঘদিন ব্রিটেনে থাকবার অভ্যস্থতায় হয়ত বাংলার চেয়ে ইংরেজি স্পিচটাই সাবলীল শোনা গেছে।

জাইমা তাঁর বক্তব্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন, প্রথমত নারীরা এদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী। তাদের পেছনে রেখে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত একটা দেশে বহু মতের বহু দৃষ্টিভঙ্গীর মানুষ থাকবেন। কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের সবাইকে এক টেবিলে আলোচনায় বসতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সংস্কৃতি।

জাইমা রহমান বাংলাদেশের বড় পলিটিক্যাল ডাইন্যাস্টি বহন করছেন। তাঁর দাদার মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং দাদিমার আপসহীন গণতন্ত্রচর্চার জন্য নিঃসন্দেহে তিনি প্রাউড ফিল করতে পারেন। আমাদের ধারণা রিটায়ারমেন্টে যাওয়ার অনেক আগে থেকেই মিস্টার তারেক রহমান একমাত্র কন্যা জাইমাকে রাজনীতির পাঠ দিয়ে নিচ্ছেন। কূটনীতিকদের সাথে বৈঠকে পিতা তাঁর কন্যাকে পাশে রেখে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল ও কূটনীতি চেনাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও কন্যাকে চোখে চোখে রাখছেন।

আমরা সবসময় নারীর ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতার কথা বলি। পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান্তরালে কাজ করবে নারী -এমন স্বপ্নই দেখি। নারী কেবল পুরুষের দাসত্ব স্বীকার করে ঘর সামলাবে; এমন পশ্চাৎপদ চিন্তা ও চেতনার বিরোধিতা করি। গণতান্ত্রিক, সাম্যবাদী, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, ন্যায়বিচার ও বহুত্ববাদী একটা সমাজ গড়তে জাইমা রহমানের মতো সুশিক্ষিত নারী যদি নেতৃত্বের জায়গায় হাল ধরেন; এরচেয়ে আনন্দের আর কিছুই হয় না।

মিজ জাইমা রহমানের পারিবারিক মূল্যবোধ দেখেই অনুধাবন করা যায় আর যাই হোক Bigotryকে তিনি একদমই পাত্তা দেবেন না। ইতোমধ্যে তাঁর মাথায় স্কার্ফ নাই কেন এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই -Reactionary যেই গ্রুপটা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে জিইয়ে রাখা মারাত্মক বিভাজন ঘুচিয়ে ঐশী ধর্ম কিংবা লোকাচার; কোনো ইস্যুতেই ঐকমত্যে থাকতে পারে না। দেশের Patriarchal societyতে জাইমার মতো ঋদ্ধ নারীদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাল ধরা জরুরি। কোনো চাপ, সমালোচনা বা অভিমানে যেন রাজনীতি থেকে তিনি পিছিয়ে না আসেন; এই প্রত্যাশা রাখি।

বাংলাদেশের মতো কঠিন কঠোর বন্ধুর পথে জাইমা রহমানের পলিটিক্যাল জার্নিটাকে সাধুবাদ জানাই।

লেখক: সাংবাদিক 
১৮ জানুয়ারি ২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login