
১. হযরত মুহাম্মদ (সা.): পরম ধৈর্য ও নৈতিক বিপ্লব
এই আসরের মধ্যমণি তিনি। যাঁর গুণ ছিল 'আল-আমিন' বা পরম বিশ্বস্ততা।
- বিশেষ গুণ: ক্ষমা ও ধৈর্য। ঘোরতর শত্রুকেও তিনি ক্ষমা করে দিতেন।
- মূল জ্ঞান: তিনি শিখিয়েছেন যে, প্রকৃত বীর সে নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়, বরং সে-ই প্রকৃত বীর যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে, সততা আর চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকলে শূন্য থেকে শুরু করেও পুরো পৃথিবীকে জয় করা সম্ভব।
২. স্যার আইজ্যাক নিউটন: একাগ্রতা ও গভীর চিন্তা
ঘরের এক কোণে বসে তিনি একটি প্রিজম নিয়ে আলোর কারসাজি দেখছেন।
- বিশেষ গুণ: তীব্র একাগ্রতা। কথিত আছে, তিনি যখন কোনো গবেষণায় মগ্ন হতেন, তখন খাওয়া-দাওয়ার কথা ভুলে যেতেন।
- মূল জ্ঞান: তিনি বলতেন, "আমি জানি না জগত আমাকে কীভাবে দেখে, কিন্তু আমার কাছে নিজেকে মনে হয় সমুদ্রতীরে খেলা করা এক বালক—যে কেবল সত্যের বিশাল সমুদ্রের সামনে দু-একটি ঝিনুক কুড়িয়েছে।" তাঁর জীবন শেখায়, বড় আবিষ্কারের জন্য দরকার অসীম ধৈর্য।
৩. আলবার্ট আইনস্টাইন: কল্পনা ও মানবিকতা
তিনি তাঁর চিরাচরিত হাসি নিয়ে কথা বলছেন নিউটনের সাথে।
- বিশেষ গুণ: গণ্ডিবদ্ধ চিন্তার বাইরে ভাবা (Out of the box thinking)। * মূল জ্ঞান: তিনি বিশ্বাস করতেন, "কল্পনাশক্তি জ্ঞানের চেয়েও শক্তিশালী।" তিনি শিখিয়েছেন যে, কোনো সমস্যাকে সেই একই চিন্তা দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়, যা দিয়ে সমস্যাটি তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।
৪. স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু: প্রকৃতির ভাষা বোঝা
একপাশে তিনি একটি লতানো গাছের পালস বা স্পন্দন মাপছেন। বাঙালি এই বিজ্ঞানী বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিলেন।
- বিশেষ গুণ: অদৃশ্যকে দেখার ক্ষমতা। যখন সবাই ভাবত গাছ জড় পদার্থ, তখন তিনি প্রমাণ করলেন গাছেরও প্রাণ আছে।
- মূল জ্ঞান: তিনি শিখিয়েছেন যে, বিজ্ঞানের কোনো সীমানা নেই। তাঁর অমূল্য জ্ঞান ছিল—উদ্ভিদ এবং প্রাণীর জীবনের মধ্যে এক গভীর ঐক্য রয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশেও যে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকা যায়, তিনি তার জীবন্ত উদাহরণ।
৫. ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস: পরার্থপরতা ও সামাজিক উদ্ভাবন
টেবিলের অন্য প্রান্তে তিনি একটি ক্ষুদ্র ঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার নকশা করছেন।
- বিশেষ গুণ: সহমর্মিতা। তিনি পুঁজিবাদের প্রথাগত নিয়ম ভেঙে গরিব মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা চালু করেছিলেন।
- মূল জ্ঞান: তাঁর মতে, "পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ একজন উদ্যোক্তা।" তিনি বিশ্বাস করেন যে, দারিদ্র্য মানুষের সৃষ্টি নয়, এটি আমাদের ব্যবস্থার সৃষ্টি। তাঁর জীবন থেকে আমরা শিখি কীভাবে ক্ষুদ্র একটি ধারণা দিয়ে কোটি মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়া যায়।
উপসংহার: এই মনীষীরা আমাদের শুধু জ্ঞান দিয়ে যাননি, বরং শিখিয়ে গেছেন যে—স্বপ্ন দেখলে হবে না, সেই স্বপ্নের পেছনে পাগলের মতো ছুটতে হবে। অন্ধকারকে গালমন্দ না করে নিজের ভেতরে ছোট একটা মোমবাতি জ্বালানোই হলো প্রকৃত জ্ঞান।
| ব্যক্তিত্ব | মূল গুণ | আমাদের জন্য শিক্ষা |
|---|---|---|
| মুহাম্মদ (সা.) | নৈতিকতা | চরিত্রই আসল শক্তি। |
| নিউটন | পরিশ্রম | গভীর পর্যবেক্ষণ সত্যের দুয়ার খুলে দেয়। |
| আইনস্টাইন | সৃজনশীলতা | জ্ঞান সীমিত, কিন্তু কল্পনা অসীম। |
| জগদীশ চন্দ্র বসু | দেশপ্রেম ও মেধা | বিজ্ঞানে কোনো জাতিভেদ নেই, সত্য সবার জন্য। |
| ডক্টর ইউনুস | সহমর্মিতা | অন্যের উপকারের মধ্যেই নিজের প্রকৃত সার্থকতা। |