বেশ কয়েক মাস এভাবে কেটে যায়। ধীরে ধীরে পদ্ম আগের মতো চঞ্চল হয়ে উঠে, তবু মনে একটা অদ্ভুত দোলাচল চলে,, যেটা পদ্ম সারা জীবন খুব যত্নে নিজের ভেতর আগলে রাখবে।
তুলির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে দেরি নেই কিন্তু তুলির থেকে বেশি চিন্তিত পদ্ম। কারণ, অনেক আশা নিয়ে তুলির মা -বাবা পদ্মের কাছে পড়াতে দিয়েছে।
এখন আগের থেকে অনেক ফ্রি সময় কাটে পদ্মের। কিছু সময় সংসারের কাজে মাকে সাহায্য করে। বিকেল বেলা আগের মতো বান্ধবীদের সাথে গল্পে কাটে।
একদিন পদ্মের খোঁজে তুলি বাড়িতে আসে। হাতে মিষ্টি আর একটা প্যাকেট নিয়ে। কারণ তুলি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পদ্মের মা তুলিকে নাস্তা দিয়ে গেলো। ওরা অনেক ক্ষণ গল্প করে।
তুলি যাওয়ার সময় পদ্মের হাতে প্যাকেট টা দিয়ে বলে""আপু এটা মা দিয়েছে তোমাকে আর বলেছে কাল এটা পড়ে একবার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে।
রাতে পদ্ম প্যাকেট টা খুলে একটা হালকা নীল রঙের শাড়ি দেখে, ভীষণ খুশি হয় কারণ ওর প্রিয় রঙ হলো নীল।।
পরের দিন, শাড়িটা পড়ে কপালে কালো টিপ দিয়ে চুল গুলো খোলা রেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু একটা ভাবে। কিছুক্ষণ পর তুলিদের বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো।
পথে দেখলো, তুলি দাঁড়িয়ে আছে।
তুলি “”আপু তোমাকে ভীষণ মিষ্টি দেখাচ্ছে “”
পদ্ম""(লজ্জা কন্ঠে)""তুমি এখানে কি করো ? আমি তো তোমাদের বাড়িতেই আসছি।
তুলি উওর না দিয়ে পদ্মের হাত ধরে পুরোনো রাস্তাটার পাশে একটা মাঠে নিয়ে এলো।
মূহুর্তে পদ্মের মুখটা বিষন্নতায় ভরে ওঠে।আজ নতুন করে তার বুকের ভেতর শূন্যতা ভর করে।
কারণটা তার অজানা নয়,,,,,।।
পদ্ম নিজেকে সামলে নেয়,"" হঠাৎ এখানে কেনো আনলে ?
তুলি একটা লাল জবা ফুল পদ্মের চুলে লাগিয়ে দিতে দিতে বলে""এখন ঠিক আছে “”।
পদ্মের সৌন্দর্য আরো গাঢ় হয়ে ফুটে উঠল।
“”এই যে শুনছেন “”!!
পদ্ম ভাবে এটা তার মনের ভুল।
“”শুনুন “”
পদ্ম::""কল্পনায় কাউকে বসাতে চাইছি,,,
কেন আমার সাথে এমন হচ্ছে, বারবার কেনো আমি আকাশ কুসুম কল্পনা করছি।
পদ্ম দুহাত দিয়ে শক্ত করে তার কান গুলো চেপে ধরে আর চোখ জোড়া বন্ধ করে রেখেছে।
এমন সময়, সামনে দাঁড়িয়ে কে যেন বলছে""আমি ফুফুর বাড়ীতে আসছি কিন্তু ঠিকানা টা মনে পড়ছে না, আপনি কি একটু আমাকে সাহায্য করবেন,,,,?
পদ্ম এবার চোখ খুলে তাকালো,,, সামনে দাঁড়িয়ে আছে পলাশ।
চারপাশটা নীরবতায় থমকে যায়,,,,,,,!!
চলবে 💫 💫