আলতা পরী
________________
বিথী আক্তার খাদিজা
আলতা পরী - ৭
নহর ভাবতে ছিলো কি করবে সে। তার প্রেমিক কে বললে তো তার প্রেম টিকবে না, আমি ছোট বেলা গ্রামে গেছি তারপর এতো বছর পর যাবো বিয়ে করে সাথে একটা মেয়ে নিয়ে আসবো কি বলবো সাফার কে। তাহলে ওরে কি বলে তখন শান্তনা করবো এটা ভাবতে ভাবতে নহর রাতে ঘুমিয়ে পরলো। সকাল বেলা তার বাবার হারুন সাহেব বাজারে গেলো তাদের কাজের লোক বাদল কে নিয়ে। কেনাকাটা জন্য! নহর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে সবাই অনেক কাজ করতে আছে বাসা গুছাতে আছে। নহর উঠছিস বাবা যা মার্কেট যা, নাস্তা খেয়ে! কেন মা আমি মার্কেট কেন যাবো? বাসার সবাই এত বেস্ত কেন সবাই এত গুছাচ্ছে কেন? কি হইছে? কাল শুক্রবার গ্রামে যাবো তোর বিয়ে বলে কথা। মা আমি এই বিয়ে মানি না এটা বাবা জোর করে আমাকে দিয়ে করাচ্ছে। শোন বাবা এটা বলিস না। মা এখন কিছু হবে না মেয়ে ভালো লাগলে পরে সব করবো এখন এতো কিছু করো না। আমি বিয়ে করতে আছি এটা কিন্তু আমার বন্ধুরা কেউ যানে না, দয়া করে চুপ রাখো।বাবা কোথায় আমি তার সাথে কথা বলবো। আমি রুমে আছি বাবা আসলে ডাক দিও।
ফুফু এতো চিল্লা চিল্লি করে বাসা গুছানো তো দরকার নেই। মানুষ জন শুনতে পারব!একটু আস্তে আস্তে করো আর হ্যা এটা যেনো কেউ না যানে।
নহর তুমি বিয়ে আর এটা কেউ যানবে না?অবাক করলে তো! হ্যা ফুফি আমাকে এই বিয়েটা জোর করে করানো হচ্ছে, আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি না আমার নিজের ইচ্ছায়। ভাবি নহর কি বলছে এটা?
আমিও তো বুঝতেছিনা নহর কি বলছে এগুলো!
কিছু খুন পরে হারুন সাহেব আসলেন বাসায়। বাসায় এতো নিস্তব্ধ কেনো কিছু হইছে কাজল?,
তোমার সাথে নহর কথা বলতে চাচ্ছে!কি কথা নহর নহর কোথায়? এই তো বাবা
তুমি আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছো?
আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাচ্ছি বাবা। সেটা হলো আমাকে এই বিয়ে তুমি বলছো করতে! আমাকে জোর করে এক কথায় বিয়ে করাচ্ছো। যে মেয়েটাকে আমি চিনি না জানি না সে মেয়েটার সাথে তুমি আমাকে বিয়ে দিচ্ছো। বেশ ভালো কথা। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে। সেটা হলো আমি যে বিয়ে করবো এটা বাসার ছাড়া অন্য কেউ যানো না যানে। আর অনুষ্ঠান করার কিছুই নেই। মেয়ে যদি আমার কখনো ভালো লাগে তখন সব কিছু নতুন করে আয়োজন করবো। আর যদি তোমরা বলো যে না আমরা সবাইকে জানাবো তাহলে আমি এই বিয়ে করতে পারতেছি না এই মুহূর্ত বাসা থেকে বের হয়ে যাবো। কাজল চোখের ইশারা দিলেন হারুন সাহেব কে। হারুন সাহেব বললো ঠিক আছে। বাসার সবাই কে বলে দিলো। এটা শুধু পরিবার ছাড়া বাহিরে কেউ যানবে না। হারুন সাহেব কিছু এক টা ভাবতে লাগলো এটা তো বললাম কিন্তু নহর যদি মেয়ে টাকে বউ হিসাবে মেনে না নেয় তখন। নিবে না কেনো মেয়ে টা মাশআল্লাহ দিয়ে যে সুন্দর ও দেখলি মেনে নিবে। এটা ভেবে হারুন সাহেব একটু শান্তির নিশ্বাস দিলো।
এই দিকে ফজর এর বাড়ি ঘর পরিষ্কার করতে লাগলো। পরী কে দাদি বললো ও পরী তুই তো রাজ পুএ পাইলি, মোরে কিন্তু ভাগ দিতে হবে বুজলি। কি যে কও না দাদি ভালো লাগে না। ওরে লজ্জা পাইলি লজ্জা পাইস না। ফজর বাজারে গিয়ে সব কিছু কিনে রাখলো মেয়ে বিয়ে বলে কথা। মন একটু খারাপ ও ছিলো তারপর ও আনন্দ ও ছিলো এই ভাবে মেয়ে টা ভালো থাকবে।
আজ শুক্রবার হারুন সাহেব সহ পরিবার নিয়ে রহনা দিলো ফজর বাড়ি উদ্দেশ্য। নহর ফোন বন্ধ করে রাখলো। যদি ---সাফার-- কল দেয়। এই ভয়ে, নহর মন কোনো কিছু দিন মানতে আছে না, আজ তার বিয়ে তাও কোনো এক গ্রামের মেয়ে সাথে। মা বললো বাবা মন খারাপ। একটু মা, বাবা এমন টা না করলেই হতো। থাক বাবা তোর বাবা যা করে ভালো জন্য ই করে। নহর চুপ করে রইলো, গাড়ি গ্রামে ডুকে গেলো। হারুন সাহেব বললো এই যে আমার শান্তি নীর যেখানে আমি আগে ছিলো। আমাদের গ্রামের নাম কি যানো কাজল ? না, হা হা তাই যানো না। সোনার তীর গ্রাম, এতো সুন্দর একটা গ্রাম। আর একটু পর ই ফজরের বাড়ি। ফজর বাড়ি সামনে এসে দাঁড়ি রইলো হারুন জন্য অপেক্ষা করে। গাড়ি তে বসে হারুন দেখলো ফজর দাড়িয়ে আছে। হারুন বললো আসো গাড়ি তে এক বারে বাড়ি উঠানে গাড়ি রাখবো আনে। ফজর বললো না তুই যা আমি হেঁটে আসতে আছি। তারা গাড়ি নিয়ে উঠানে দাড়ালো। ফজর এসে তাদের কে সালাম দিলো। সবাই কে জিজ্ঞেস করলো, কেমন আছেন? তারা ও সালাম বিনিময় করলো। নহর গাড়ি থেকে বের হলো, আসসালামু আলাইকুম কাকা, অলাইকুম আসসালাম । ফজর চোখ যেনো নহর দিকে এক দিকে তাকিয়ে রইলো। নহর এতো সুন্দর আমার পরী সাথে মানাবে। মা তো ঠিকি বলছিলো একদিন রাজপুএ আসবে পরী জন্য, মার কথায় ই ঠিক হলো। ফজর নহর দিকে তাকিয়ে এক দৃষ্টিতে ভাবলো। হারুন সাহেব বললো কিরে ফজর উঠানে দাড়িয়ে থাকবো ভিতর চল। ও হ্যা হ্যা চল।
