এসেছো তুমি কতবার,
প্রতিবার বলেছো—
বারবার বলতে থাকার বিস্ময়ে…
আশ্চর্য সব মুহূর্তের নিমিষে
দেখেছো ভেতরের ভেতরটাকে কতো না আবেশে,
কাছে এসে বসে পাশে ভেবেছো—
ছুঁয়েছো তোমারই দ্যুতির পরশে।
হারিয়ে, ঘুরিয়ে, ফিরিয়ে দেখেছো হেসে হেসে—
তবে, চেয়েছো কখনো কি কিছু
সত্যিকার অর্থে ভালোবেসে…
দোষে-গুণে, সুখে-বিরহে,
বিপ্লব-বিদ্রোহে, বিনম্র-বিনয়ে,
বিমুগ্ধ প্রহরে, মুহুমুহু—
বারুদের শব্দের ঝংকারে,
ফুলের সুবাসের পুলকিত মাধুর্যে,
কদাচিৎ কুৎসিত সংঘাতে,
সংগ্রামী চেতনার মুক্তির
চিৎকারে, বিজয়ের উচ্ছ্বাসে,
পরাজয়ের শেষে নতুন অনুপ্রেরণার উদ্যোগে,
তারুণ্যের সূচনার উপস্থাপনে,
প্রেমের খুনসুটির শেষের প্রণয়ে,
নবীন-প্রবীণ সম্পর্কের প্রহরে,
প্রভাতের প্রথম সূর্যালোকের
সফেদ, উষ্ণ, পবিত্র ছোঁয়াতে,
শিশিরভেজা প্রথম মৃত্তিকায়,
মাটির সাথের স্পর্শে,
ফুলের প্রথম পরিস্ফুটনের সৃষ্টির মুহূর্তে—
তুমি ছিলে, জানি—
তাই তো আমি আছি চেয়ে,
পুলকিত সময়-অসময়ে ...
আমাদের পথ চেয়ে ~ অপেক্ষার,
উপেক্ষিত প্রহরে।
শহর, বন্দর, নগর, মেঠোপথ,
মরুপ্রান্তর, বৃক্ষের অরণ্য ঘন বনাঞ্চলে,
সাগরের স্থির-চঞ্চল স্রোতের তালে তালে,
পর্বতের প্রতি বিপদসংকুল খাঁজে খাঁজে,
তেপান্তরের গোধূলির বিস্ময়ে
রঙ বদলের উপস্থিতির রদবদলে—
দেখছি, ফিরে পাওয়া নয়,
পাওয়া-না-পাওয়ার লেনাদেনার
শৃঙ্খলের কতনা আয়োজন…
তবে পাবো কি কখনো ফিরে
আমরা আমাদের প্রত্যাশিত অবস্থার
আবেশের সেই প্রত্যাশিত সুদিন?
শুদ্ধ, সিদ্ধ, সত্য—
সত্যের সেতুর সেই আশার,
ভালোবাসার, ভালোলাগার
ভাবের পৃথিবী কখনো পাবে দেখতে?
তাই তো তুমি কাঁদছো—শুনছি,
কে জানে কবে থেকে,
টিকে থাকার অবিরত ভালোবাসায়
ভালোবেসে।
অবশেষে আদলের আবদারে,
তার ‘অনুপস্থিতির’ উপস্থিতির
উপহাসে, স্নেহের অনুশাসনের অভাবে—
জানি, না জানি না…
আমার-তোমার দেখা হবে—
আর কত শত কালের অনন্ত অপেক্ষায়
খুঁজে ফিরি ভালোবাসাকে,
আনমনে ভালোবেসে ভালোবাসা।