গ্রামের পুরনো কুয়োর পাশে একটা নিয়ম ছিল—
রাত ঠিক ৩টা ১৭ মিনিটে কেউ যদি কুয়োর ধারে দাঁড়ায়,
সে নিজের শেষ শ্বাসের শব্দ শুনতে পায়।
আমি এসব বিশ্বাস করতাম না।
এক রাত কৌতূহলবশত গেলাম।
মোবাইলে সময় দেখলাম—৩:১৬।
কুয়োর ভেতর অন্ধকার এত গভীর যে মনে হচ্ছিল, আলোও পড়ে গিয়ে ফেরত আসেনি।
৩:১৭।
হঠাৎ নিচ থেকে একটা শব্দ ভেসে এল—
হাঁফ ধরার মতো শ্বাস
কিন্তু ভয়ংকর ব্যাপারটা ছিল—
ওটা ঠিক আমার শ্বাস নেওয়ার টাইমিংয়ের সঙ্গে মিলছিল।
আমি থেমে গেলাম।
শব্দও থেমে গেল।
আমি আবার শ্বাস নিলাম।
শব্দও আবার শুরু।
তখন বুঝলাম—
ওটা আমাকে নকল করছে না।
ওটা আগে শ্বাস নিচ্ছে।
আমি পরে।
ভয়ে পেছনে তাকালাম।
আমার ছায়াটা কুয়োর ভেতরে পড়েনি।
বরং কুয়োর ভেতর থেকে একটা ছায়া
আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।
ফিসফিস করে বলল—
“তুই দেরি করেছিস।
আজ থেকে শ্বাস নেওয়ার পালা আমার।”
পরদিন সবাই বলল—
আমি নাকি কুয়োর ধারে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
কিন্তু সমস্যা একটাই।
আজও যখন আমি শ্বাস নিই,
এক সেকেন্ড আগে কুয়োর ভেতর থেকে শব্দ আসে।