ডাক্তার বলল,
“সব ঠিক আছে। ফুসফুস একদম নরমাল।”
কিন্তু আমি জানতাম—
সমস্যা ফুসফুসে না।
সমস্যা টাইমিংয়ে।
রাতে ঘুমাতে গেলে
নিজের বুকের ওঠানামা গুনতাম।
এক… দুই…
হঠাৎ অন্ধকারের ভেতর থেকে—
হাঁফ—
এক সেকেন্ড পরে আমার বুক উঠত।
আমি শ্বাস আটকাতাম।
বুক জ্বলত।
চোখে পানি চলে আসত।
তবু থামতাম।
কারণ আমি দেখতে চাইছিলাম—
ওটা কতক্ষণ আগে শ্বাস নেয়।
৩০ সেকেন্ড।
৪০।
৬০।
তারপর কানের কাছে খুব কাছ থেকে
একটা ক্লান্ত কণ্ঠ বলল—
“তুই পারবি না।
শরীর তো তোর,
কিন্তু ছন্দটা এখন আমার।”
আমি চমকে উঠে বসলাম।
ঘরে কেউ নেই।
কিন্তু আয়নায় তাকিয়ে দেখলাম—
আমার বুক উঠছে নামছে ঠিকই।
শুধু আয়নায় প্রতিফলিত মানুষটার
শ্বাস নেওয়ার গতি
আমার চেয়ে এক ফ্রেম এগিয়ে।
সেদিন গ্রামের এক বৃদ্ধা আমাকে দেখে বলল,
“তুই কুয়োর সময়ের ভেতর ঢুকে গেছিস।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“সময়ের ভেতর মানে?”
সে ফিসফিস করে বলল—
“কুয়োটা মৃতদের না।
ওটা অধীরদের।
যারা নিজের শেষ মুহূর্ত আগেভাগে শুনতে চায়।”
সেই রাতে আবার কুয়োর কাছে গেলাম।
এবার সময় দেখার দরকার হয়নি।
কুয়োই সময় জানত।
ভেতর থেকে শব্দ এল—
হাঁফ—
আমি শ্বাস নিলাম।
তারপর বুঝলাম—
আমি আর শ্বাস নিচ্ছি না।
আমি শুধু
অনুসরণ করছি।
আর কুয়োর ভেতর থেকে ছায়াটা
হালকা হেসে বলল—
“আর ক’টা রাত।
তারপর তুই আমার মতো
কারো শ্বাসের আগে দাঁড়িয়ে থাকবি।”