
শীতের চাদরে সূর্যের আলো তখনোও চোখ মেলেনি। কিন্তু শীতের ঘন কুয়াশায় ঢাকা সকালের নরম চাদর ভেদ করেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে বিদ্যাপীঠের উঠোন। সাদা ধোঁয়ার মতো কুয়াশাকে উপেক্ষা করে, চোখে স্বপ্ন আর মনে প্রত্যাশা নিয়ে বিদ্যার্থী শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত হয় জ্ঞানের দেবী সরস্বতীকে আমন্ত্রণ জানাতে। এই যেনো এই কুয়াশার আড়াল ভেদ করেই আলো হয়ে নেমে আসবেন বিদ্যার আশীর্বাদ নিয়ে।কারণ বছর ঘুরে আবারও এলো বাঙালির অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। ভোরের আলো ফুটতেই হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আলো হলো শিক্ষা, জ্ঞান। হৃদয়ে শিক্ষার আলো থাকলে সাবলীল হয় যাপিত জীবন, উদার হয় মন, মানবতা জাগ্রত হয়। তাই শিক্ষাকে মানুষের মেরুদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থায় মেরুদণ্ডহীন মানুষ কখনোই সফলতার মুখ দেখতে পারেন না। মানুষ তাই শিক্ষার জন্য, জ্ঞানের জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মা সরস্বতী হলেন এই শিক্ষা, জ্ঞান, ললিতকলার দেবী। তাঁর আশীর্বাদ আর মানুষের নিষ্ঠা ও জানার আগ্রহ তাঁকে পৌঁছে দিতে পারে জ্ঞানের চরম শিখরে। এই বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করে দেশ-বিদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সরস্বতী মাকে পূজা দিয়ে তুষ্ট করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
দেবী সরস্বতী শুধু বিদ্যা দেবীই নয়, দেবীর আরাধনায় মিশ্রণ থাকে অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূর করে সমাজকে আলোকিত করার এক অনন্য প্রয়াস। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, পরিবারে এবং সমাজে এই পূজার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এই সরস্বতী পূজার বিশেষ মাহাত্ম্য আছে।শুক্লা পঞ্চমীর মাহেন্দ্রক্ষণে সরস্বতীপূজা হয়। এই শুক্লা পঞ্চমী তিথি বসন্ত পঞ্চমী, শ্রীপঞ্চমী, সরস্বতী পঞ্চমী, ঋষি পঞ্চমী নামেও পরিচিত। এই দিনে মা সরস্বতীর জন্ম হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। ঋগ্বেদ অনুসারে, ব্রহ্মা তাঁর নিজের সৃষ্টিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। চারদিকে নিস্তব্ধতা। তারপর তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে জল ছিটিয়ে দিলেন, যার ফলে এক চতুর্ভুজা নারী তাঁর হাতে বীণা নিয়ে হাজির হলেন। ব্রহ্মার আদেশে দেবী বীণায় সুমধুর সুর তোলেন, যা বিশ্বকে শব্দ ও বাণীতে অভিভূত করে। এরপর ব্রহ্মা দেবীর নাম রাখেন ‘সরস্বতী’। যিনি সারদা ও বাগ্দেবী নামেও পরিচিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেবীর বাহুর সংখ্যা অধিকতর হলেও সাধারণত তিনি চতুর্ভুজা, পদ্মাসনা, শুক্লাবর্ণা, শুভ্রবর্ণা, বীণা-পুস্তক, জপমালা, সুধাকলসর্ধারিণী, চন্দ্রশেখরা, ত্রিলোচনা। কখনো দেবী দ্বিভুজা। তন্ত্রে সরস্বতী বাগীশ্বরী-বর্ণেশ্বরী সারদা।
বৈদিক জ্যোতিরূপা সরস্বতী ও নদী সরস্বতী সম্মিলিতভাবে জ্ঞানের দেবীরূপে পুরাণতন্ত্র ও সাহিত্যে বিপুল শ্রদ্ধা ও ভক্তির অধিকারিণী হয়েছেন। বেদে সরস্বতী প্রধানত নদীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী। পুরাণ অনুযায়ী, শুক্লা পঞ্চমীর তিথিতেই ব্রহ্মার মুখ থেকে বিদ্যা ও বুদ্ধির দেবী সরস্বতীর উৎপত্তি। পুরাণে আরও বলা হয়েছে, দেবী সরস্বতী আদ্যা প্রকৃতির তৃতীয় অংশজাত। তিনি বাক্য, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিদ্যা ইত্যাদির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। ওই গ্রন্থমতে, সরস্বতীপূজার প্রবর্তক ব্রহ্মা ও শ্রীকৃষ্ণ।বর্তমানে গঙ্গা যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্য দেবী হিসেবে পূজিত হয়ে থাকেন, তেমনি বিবর্তনের ধারায় সরস্বতী হলেন জ্ঞানের দেবী। সরস্বতীর বাহন হংস। বেদ ও উপনিষদে হংস শব্দের অর্থ সূর্য।
সরস্বতীর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে সূর্যাগ্নির জ্যোতিতে। সূর্যাগ্নির তেজ, তাপ ও চৈতন্যরূপে জীবদেহে বিরাজ করায় চেতনা, জ্ঞানের প্রকৃত কর্ত্রী তো দেবী সরস্বতী। তাই তো স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, ‘শিক্ষা হচ্ছে, মানুষের ভিতর যে পূর্ণতা প্রথম হতেই বর্তমান, তারই প্রকাশ।’তাছাড়াও সরস্বতী দেবী হাতে বীণা ধারণ করেছেন বলেই তার অপর নাম বীণাপাণি। বীণার সুর মধুর।এই বীণাপাণির আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে; পূজার্থী বা বিদ্যার্থীর মুখনিঃসৃত বাক্যও যেন মধুর হয় এবং জীবনেও মধুর সংগীতময় হয় সেই অর্থেই সরস্বতীর হাতে বীণা।তৎকালীন সময়ে দাঁড়িয়ে দূর দুরান্ত থেকে মানুষ এই পূজার বিসর্জন দেখতে আসত। পূজার আরম্ভরকে কেন্দ্র করে দুই ঘণ্টা আতসবাজিও পোড়ানো হত। এরপর আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার প্রচলন হয় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। এইদিকে শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, শ্রীপঞ্চমীর দিন সকালেই সরস্বতী পূজা সম্পন্ন করা যায়। সরস্বতীর পূজা সাধারণ পূজার নিয়মানুসারেই হয়।
পূজার জন্য বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুলও প্রয়োজন হয়। এইদিনে শিক্ষার্থীরা বিদ্যা, জ্ঞান, বুদ্ধি লাভের আশায় মা সরস্বতীর চরণে নিজেদের পুস্তক সমর্পিত করে থাকে। এছাড়াও এই দিনটি বিশেষ করে ছোটদের জন্য খুব আনন্দের সহিত পালন করা হয়।এইদিনে মা সরস্বতীকে সামনে রেখে ছোটোদের হাতেখড়ি দিয়ে পাঠ্যজীবনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মা সরস্বতী পূজার আরো একটি বিশেষত্ব হলো অঞ্জলী প্রদান। যা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে আবেগময় ভালোবাসার দিন হয়ে থাকে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের দল বেঁধে অঞ্জলি দিতে দেখা যায়।
বছর ঘুরে সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কমতি থাকে না। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ একসাথে একত্রিত হয়ে মায়ের আরাধনা করে থাকে, মিলন হয় উৎসবমুখর পরিবেশে। তাই সরস্বতী পূজা রূপ নিয়েছে বাঙালির মিলনমেলা উৎসব, আবেগ ও ভালোবাসায়।
সরস্বতী পূজার আরাধনা এক সুতায় গাঁথা থাকলেও সময়ের সাথে সাথে শহরের কোলাহল আর গ্রামের সরলতার ভেতর উৎসবটি আলাদা আলাদা রঙ ধারণ করেছে।বই-খাতা, কলম আর স্বপ্ন একসঙ্গে সাজিয়ে রাখা হয় দেবীর পায়ের কাছে। কিন্তু উৎসবের ভাষা বদলে যায় পরিবেশের সঙ্গে।শহরের সরস্বতী পূজা অনেকটাই পরিকল্পনার ফ্রেমে বাঁধা। থিম, আলোকসজ্জা, ডিজাইনার প্রতিমা-সবকিছুতেই থাকে প্রদর্শনের ছোঁয়া। স্কুল-কলেজ বা পাড়ার ক্লাবের আয়োজনে পূজা মানে নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্দিষ্ট বাজেট আর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মতো দৃশ্য। প্রসাদ, পোশাক, এমনকি ভোগের তালিকাতেও আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। শহরের পূজায় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার পাশাপাশি ক্যামেরা বেশি, ডিজে পার্টি, ফ্যাশন শো এবং ই- আলপনা এখন সাধারণ হয়ে গেছে এবং এইটি পূজার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে।
গ্রামের সরস্বতী পূজা ঠিক তার উল্টো মেরুতে দাঁড়িয়ে।গ্ৰামের সরস্বতী পূজার আনন্দ ছিল সত্যিই অপরিসীম। সে আনন্দ কেবল একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা শুরু হতো পূজার প্রায় এক মাস আগেই। গ্ৰামের বারোয়ারী মন্দিরে তখন থেকেই চলত প্রস্তুতির ব্যস্ততা। এখানে আয়োজনের চেয়ে আবেগটাই বড়। প্রতিমা হয়তো খুব নিখুঁত নয়, রঙে-রেখায় শিল্পীর ছাপ অসম্পূর্ণ, কিন্তু নিষ্ঠায় কোনো ঘাটতি থাকে না।
হাটে-বাজারে, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পূজার নিমন্ত্রণ করা আর চাঁদা তোলা ছিল প্রথম কাজ। তারপর পুরোহিত ঠিক করা, প্রতিমা বায়না-সব মিলিয়ে যেন ধীরে ধীরে একটি বড় উৎসবের রূপরেখা আঁকা হয়।
পূজার তিন-চার দিন আগে থেকেই এলাকার মণ্ডপ মানে পাড়ার স্কুলঘর, কারও বাড়ির উঠোন কিংবা খোলা মাঠে সাজ সাজ রব পড়ে যেত। পূজার আগের দিন বিকেলে মাইক আর প্রতিমা এসে পৌঁছাত। বাঁশে মাইক ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। মাইকে বাজত পুরোনো দিনের নরম বাংলা গান, মাঝে মাঝে দু’একটি হিন্দি গানও।বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে গেট সাজানো, মন্দিরের সামনে সামিয়ানা টানানো, আলো লাগানো-এইসব কাজে কখন যে রাত গভীর হয়ে যেত, টেরই পাওয়া যেত না। এখানে সবাই যেনো চেনে সবাইকে-পূর্ণিমার আলোয় ভোগ রান্না, ঢাকের শব্দ, আর শিশুদের উচ্ছ্বাস মিলেমিশে একটাই অনুভূতি তৈরি করে: আপন ঘর। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে গ্ৰামের খাওয়া দাওয়ার পর্বই ছিলো অন্যরকম। বিশেষ করে মিষ্টি দই। ফুটন্ত দুধে চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে গাঢ় লাল করে, ঠান্ডা হলে তাতে বীজ দই মিশিয়ে মাটির ভাঁড়ে ঢালা হতো। তারপর কাঁথা, কম্বল আর চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে অন্ধকার জায়গায় রেখে দেওয়া-সকালে জমাট বাঁধা দইয়ের অপেক্ষা। তাছাড়াও পূজার আগে চিঁড়ার মোয়া, মুড়ির মোয়া আর খই মাখা ছিলো উৎসবের প্রধান আকর্ষণ।
তাছাড়াও পূজার দিন শুরু হতো উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ঘুম থেকে উঠেই ফুল, বেলপাতা, দূর্বা, কলাপাতা আর আম্রপল্লব সংগ্রহ করতে, স্নান শেষে সাদা পাঞ্জাবি পরে সোজা মন্দিরে যাওয়া। এরপর বয়োজ্যেষ্ঠরা মিলে মন্দিরে পৌঁছে পূজার কাজে যোগ দেওয়া ছিলো অন্যরকম আনন্দ।ঠাকুরমশাইয়ের সাথে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে মনের ভেতরে একটাই প্রার্থনা জাগত সবার মধ্যে যাতে পরীক্ষায় ভালো ফল, লেখাপড়ায় উন্নতি, ভালো চাকরি এবং কুসংস্কার-অজ্ঞতা ঠেলে নতুন করে শিক্ষার সমাজ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা। এর মাধ্যমেই দেবীর চক্ষুদান ও পূজা সম্পন্ন হতো। পুষ্পাঞ্জলির সময় সবাই জোড় হাতে ফুল আর বেলপাতা নিয়ে উচ্চারণ করে বলতো-“নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে॥”এরপর-“জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে॥”এখানে পূজা মানে শুধু একদিন নয়, কয়েকদিনের মিলনমেলা।
শহরে সরস্বতী পূজা অনেক সময় হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রকে ভালো সাজালো, কার থিম আলাদা, কার ছবি বেশি লাইক পেল। গ্রামে সেই প্রতিযোগিতা নেই; আছে অংশগ্রহণ। আমার চোখে, শহরের সরস্বতী পূজা আমাদের সময়ের গতিময় বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, আর গ্রামের পূজা আমাদের শিকড়ের স্মৃতি। একটিতে আধুনিকতার আলো, অন্যটিতে ঐতিহ্যের উষ্ণতা। দুটো মিলেই সরস্বতী পূজা পূর্ণতা পায়-যেমন বিদ্যা শুধু বইয়ে নয়, জীবনের অভিজ্ঞতাতেও ছড়িয়ে থাকে।
শুধু ছোট-বড় নয়,প্রজন্মভেদেও সরস্বতী পূজার আনন্দের মধ্যেও এসেছে ভিন্নতা। পুরাতন প্রজন্ম এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সরস্বতী পূজার উদযাপনের ধরন এবং মানসিকতায় কিছু পার্থক্য দেখা যায়। এই পার্থক্য ঐতিহ্য, প্রযুক্তি এবং সমাজের পরিবর্তনের সাথে গভীরভাবে জড়িত।অন্যদিকে বয়সের তারতম্যে কারণে বড়দের পূজার আনন্দে কিছুটা পরিবর্তন আসে। বড়রা ক্লাব ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজার আয়োজন, মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, রঙিন আলপনা ও দেবী আরতি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত থাকে। পূজা উপলক্ষে পুরনো বন্ধু, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দ পায়। পূজা উপলক্ষে আয়োজিত সংগীত, নাটক আয়োজন এবং উপভোগ করে।
পুরাতন প্রজন্মের সরস্বতী পূজার দিকে খেয়াল করলে দেখা যায় ঐতিহ্যের প্রতি মনোনিবেশ করতো। সরস্বতী পূজায় রীতি-নীতিকে গভীরভাবে অনুসরণ করত। মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি, এবং আরতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিত। পূজার পরিমিত আয়োজন আয়োজন ছিল সাদামাটা কিন্তু আন্তরিক। সৃজনশীলতার চেয়ে ধর্মীয় ভাবনা ছিল বেশি প্রাধান্য। একত্রিত হওয়া মানে পরিবারের সদস্য, আত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সময় কাটানো। পূজা একটি সামাজিক বন্ধনের উৎসব ছিল। গান, নাটক বা কবিতা আবৃত্তি ছিল বিনোদনের মূল উৎস।বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সরস্বতী পূজা নিয়ে ভাবনা চিন্তাতে এসেছে বেশকিছু পরিবর্তন। নতুন প্রজন্ম ঐতিহ্যের পাশাপাশি পূজায় আধুনিক উপকরণ ব্যবহার করে, যেমন ডিজাইনার প্রতিমা, থিম ডেকোরেশন, ডিজে মিউজিক ইত্যাদি। পূজার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা, লাইভ স্ট্রিমিং, এবং ই-আলপনা এখন সাধারণ হয়ে গেছে। ডিজে পার্টি, ফ্যাশন শো এবং প্রতিযোগিতা এখন পূজার একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। পরিবার বা প্রতিবেশীদের চেয়ে বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটানো এবং আড্ডার প্রতি বেশি জোর।এই আধুনিকায়নের মূল রহস্য হলো পুরোনো দিনের তুলনায় জীবনযাত্রা এখন দ্রুতগামী, তাই পূজার ধরনে আধুনিকতার ছাপ পড়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নতুন প্রজন্মের পূজার রীতিতে প্রভাব ফেলেছে। পুরোনো প্রজন্ম পূজাকে বিদ্যার আরাধনার সাথে গভীরভাবে যুক্ত রাখলেও, নতুন প্রজন্ম সেটাকে কিছুটা বিনোদন এবং সামাজিকীকরণের দিকেও নিয়ে গেছে।তবে, পার্থক্য থাকলেও উভয় প্রজন্মের মধ্যে পূজার মূল ভাবনা, অর্থাৎ বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা, আজও একীভূত। শুধু প্রকাশভঙ্গি সময়ের সাথে বদলে গেলেও, এখনো একই আবেগ এবং ভালোবাসা রয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীরা একদিন খাতা-কলম গুটিয়ে ফেলে জীবনের অন্য খাতায় নাম লেখায়। আড্ডার নির্দিষ্ট বেঞ্চ, পরিকল্পনামাফিক ট্যুর, হুটহাট বিকেলের আড্ডা-সবকিছু ধীরে ধীরে জায়গা ছেড়ে দেয় কর্মব্যস্ততার কঠিন রুটিনে। তখন সকাল-সন্ধ্যা তাদের কাছে ‘ঘর’ মানে আর চার দেয়াল নয়, ঘর মানে অফিস, ডেস্ক, ফাইল আর ডেডলাইন। এই বদলে যাওয়া জীবনের ভেতর সরস্বতী পূজা এসে দাঁড়ায় এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ার নাম হয়ে।চাকরির জীবনে উৎসবের ছুটি অনেক সময় ক্যালেন্ডারের পাতায় থাকলেও জীবনে থাকে না। কাজের চাপ, মিটিং, টার্গেট-সব মিলিয়ে পূজা মানে আর মণ্ডপে যাওয়া নয়, জানালার পাশ থেকে দূরের ঢাকের শব্দ কল্পনা করা। অফিসের ডেস্কে বসে ফেসবুকের টাইমলাইনে ভেসে ওঠা প্রতিমার ছবি, বন্ধুদের হলুদ পাঞ্জাবি বা শাড়ির হাসি-এই সবকিছুই যেনো চোখের সামনে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরস্বতী পূজা তখন তাদের কাছে হয়ে ওঠে স্মৃতির উৎসব, বর্তমানের নয়।
যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বা জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছে বিদেশে, তাদের অনুভূতি আরও নিঃসঙ্গ। সেখানে না আছে ঢাকের শব্দ, না আছে পরিচিত প্রসাদের স্বাদ। হয়তো ছোট্ট ঘরে এক কোণে রাখা বইয়ের তাকটাই সেই দিনের মণ্ডপ। ভিডিও কলে বাড়ির লোকদের সাথে দু’মিনিট কথা বলা, পুরোনো দিনের পূজার ছবি স্ক্রল করা-এই নিয়েই তাদের সরস্বতী বন্দনা। দেবী তখন আর মূর্তিতে নেই, আছেন স্মৃতিতে।আমার দৃষ্টিতে, কর্মজীবী মানুষদের কাছে সরস্বতী পূজা একধরনের নীরব দীর্ঘশ্বাস। তারা জানে-বিদ্যা দিয়েই আজ তারা এই চাকরিতে, এই শহরে, এই দেশে। অথচ সেই বিদ্যার দেবীর উৎসবে শরীরটা হাজির থাকতে পারে না। আক্ষেপটা তাই উচ্চস্বরে নয়, ভেতরের ভেতর জমে থাকে। মনে হয়, একদিন তো ছিলাম আমরাও সেই মণ্ডপের ভিড়ে-আজ কেন এত দূরে? তবু এই ব্যস্ততার মাঝেও সরস্বতী পূজা তাদের ভালো লাগে অন্যভাবে। এই দিনটা মনে করিয়ে দেয়-জীবন কেবল কাজ নয়, জীবন একসময় ছিল রঙিন, ছিল নিষ্পাপ। অফিসের ফাইলের ফাঁকে ফাঁকে, বিদেশের নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায়, কিংবা ছুটিহীন কর্মদিবসে-সরস্বতী পূজা তাদের কাছে ফিরে আসে আত্মজিজ্ঞাসার মতো। বিদ্যা শুধু ক্যারিয়ার নয়, বিদ্যা সেই স্মৃতি, যে স্মৃতি আজও নিঃশব্দে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
শিক্ষাজীবনে পূজার দিন মানেই ছিল স্কুল-কলেজে সাজসজ্জা, প্যান্ডেল ঘোরা, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করা, নতুন পোশাক পরা, প্রসাদ খাওয়া এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করা এইসব কিছু স্মৃতিতে রোমন্থন করে বেড়ায়। তবে চাকরির ব্যস্ত জীবনে এসে তাদের কাছে এই উৎসবের অনুভূতি কিছুটা বদলে গেছে।এ ছাড়াও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও নানা উদ্যোগে সরস্বতী পূজার উদযাপনে সামিল হচ্ছেন দেশ থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীরা। ভিনদেশের শহরে, ভিন ভাষার ভিড়ে-কখনো ছোট্ট কমিউনিটি হল, কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোণে—গড়ে উঠছে অস্থায়ী মণ্ডপ। সেখানে পূজার আমেজ আলাদা, পরিমিত, কিছুটা সংযত; তবু সেই আয়োজনেই ধরা পড়ে শিকড়ের টান।বাইরে থেকে তারা নতুনভাবে পূজাকে দেখার সুযোগ পায়-ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন বাস্তবতার আলোয়। কিন্তু আনন্দের মাঝেও মনটা পড়ে থাকে ফেলে আসা দিনের দিকে-পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আত্মীয়স্বজনের ভিড়, বাড়ির উঠোন কিংবা পাড়ার মণ্ডপে কাটানো সেই পরিচিত সরস্বতী পূজার স্মৃতিতে। দূরত্ব যতই বাড়ুক, পূজার এই দিনে সেই না-বলা টানটাই সবচেয়ে বেশি করে অনুভূত হয়।
কিন্তু এতসব কিছু হয়ে গেলেও পূজার আনন্দটা কোথাও গিয়ে যেন ফিকে হয়ে যায়নি। বয়সের তারতম্যে থেকে শুরু করে প্রজন্ম বদলে গেলেও এখনো বাঙালির পুজো আসলে এক জায়গায় হয়। জীবিকার তাগিদে অফিস আদালত থেকে ছুটি না পেলেও সময় বের করে পূজা মণ্ডপে যান বা পরিবার পরিজন বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো গেট-টুগেদার করেন। সব মিলিয়ে, পুরাতন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সরস্বতী পূজাকে শৈশব ও কৈশোরের এক মধুর স্মৃতি হিসেবে দেখেন, যা এখনো তাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে, যদিও সময়ের অভাবে আগের মতো উদযাপন করা সম্ভব হয় না।
এদিকে অনাথ আশ্রমের শিশুদের জীবনে প্রতিদিনের রুটিন মানেই সীমাবদ্ধতা, নিয়ম, আর নির্ধারিত কাজের তালিকা। তাদের হাতে নেই বাড়ির উষ্ণতা, নেই মা-বাবার চোখের আলোকিত হাসি। সেক্ষেত্রে সরস্বতী পূজা আসে এক অচেনা, কিন্তু আকর্ষণীয় উচ্ছ্বাসের মতো। তাদের জন্য পূজা মানে শুধু বিদ্যার দেবীকে প্রণাম করা নয়; মানে নিজেকে খুঁজে পাওয়া, অংশগ্রহণের মাধ্যমে আনন্দ খোঁজা।এই শিশুদের আগ্রহের মূল কাজ করে কৌতূহল এবং সৃষ্টিশীলতার উপর। তারা ভাবতে শুরু করে—“এই ফুলগুলো কেন সাজানো হয়?”, “ঢাকের শব্দ কেন এতো আনন্দ দেয়?”, “প্রসাদ কি সত্যিই মিষ্টি আর আশীর্বাদ নিয়ে আসে?” অনাথরা এই ছোটখাটো জিজ্ঞাসাগুলোকে বড় করে তোলে নিজের ভেতরের কল্পনার মাঠে। মণ্ডপ সাজানো, ঢাকের তালে তালে নাচ-গান-এই সব তাদের মনে করে তোলে, ‘আমি অংশগ্রহণ করতে পারি, আমি আনন্দ অনুভব করতে পারি’।
তাদের কাছে পূজা হয় স্বপ্নের একদিন-যেখানে কেউ তাদের প্রশ্ন ঠেকায় না, যেখানে তারা নিজেকে প্রকাশ করতে পারে। শহরের শিশুদের মতো এখানে প্রদর্শনের চাপ নেই, গ্রামের শিশুদের মতো সম্প্রীতির চাপও নেই। আগ্রহ আসে নিখুঁত মুক্তির আনন্দ থেকে-কল্পনা, অনুসন্ধান, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ।
বর্তমান শহরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এক ধরনের আমূল পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চেনা আরাধনার বাইরে গিয়ে নতুনত্বের হাওয়া ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন পৌরাণিক ইতিহাস ও সমকালীন ভাবনাকে মিশিয়ে দেবী সরস্বতীকে উপস্থাপন করছে নানান রূপে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে সেই সৃজনশীলতার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর মিলছে গানের নানা সুরে-কখনো আধুনিক সংগীতের মেলবন্ধনে, কখনো লোকগানের আবেশে দেবী সরস্বতীকে নতুন করে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। আবার বিদ্যার দেবী হিসেবে মাকে কেন্দ্র করে বই, পাঠ্যবিষয় ও জ্ঞানের নানা অনুষঙ্গকে থিম করে গড়ে উঠছে প্রতিমা ও মণ্ডপের নান্দনিক বিন্যাস।
কোথাও শহরের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রতিমার ভাবনা-প্রশ্ন আর প্রতিবাদের ভাষায়। কোথাও আবার ঝরনার ধারে বসে থাকা মায়ের মূর্তিতে ধরা পড়ছে সুরের মূর্ছনা, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া এক শান্ত সৌন্দর্য। আবার কোনো মণ্ডপে দেখা যায়, স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে নেমে এসে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন মা সরস্বতী-তার জ্ঞানপিপাসু সন্তানদের উদ্দেশে।তাছাড়াও থিমভিত্তিক পূজার ধারায় থেকেও তারা কেবল আধুনিকতার দিকেই হাঁটেনি; বরং পূজার দৃশ্যপট ও সাজসজ্জায় ফিরিয়ে এনেছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া সোনালি, বর্ণিল অধ্যায়। মাটির গন্ধ, লোকজ উপকরণ আর চেনা স্মৃতির ছোঁয়ায় শহরের মণ্ডপে যেন গ্রাম নিজেই হাজির হয়।সব মিলিয়ে বলা যায়, শহরের এই নতুন প্রজন্মের আরাধনায় এসেছে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক আশাবাদী ভাষা-যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নতুন দিনের আলোর ইঙ্গিত দেয়।
আজকাল অনেকের কাছেই সরস্বতী পূজা মানে বাঙালিদের এক ধরনের ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’। ভালোবাসার উৎসবের তকমা গায়ে লেগে যাওয়ায় এই দিনটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য ফানি ব্লগ, মিম আর হালকা রসিকতা। কারও ভাবনায় ঘুরছে-এবার সরস্বতী পূজায় কার হাত ধরে মণ্ডপে ঘোরা যাবে, কোথায় বসে কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়া যাবে।নিঃসন্দেহে প্রত্যেক মানুষেরই ব্যক্তিগত অধিকার আছে-নিজের জীবনসঙ্গী বা প্রিয় মানুষকে নিয়ে পূজার আনন্দে শামিল হওয়ার। ভালোবাসা তো অপরাধ নয়, আর উৎসব মানেই তো মিলন। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। এই ভালোবাসার গল্পটাই কি ধীরে ধীরে পূজার মূল সুরকে ঢেকে দিচ্ছে না? অতিরিক্ত আলোচনা, অতিরঞ্জিত উপস্থাপনা কিংবা শুধুই ‘রিল’ আর ‘কনটেন্ট’-এর খোরাক বানিয়ে ফেলাটা কি আমাদের উৎসবচেতনার সঙ্গে মানানসই? বিদ্যার দেবীর আরাধনা কি তবে কেবল রোমান্টিক প্রতীকে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে? নাকি এই দিনটা এখনও চিন্তা, চর্চা আর সংযমের মধ্য দিয়ে নিজেদের দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ করে দেয়? ভালোবাসা থাকুক-স্বাভাবিক, নীরব, ব্যক্তিগত। কিন্তু সেই ভালোবাসার আড়ালে যদি পূজার আসল তাৎপর্যটাই হারিয়ে যায়, তবে প্রশ্ন তোলাটা হয়তো অযৌক্তিক নয়।তাই সরস্বতী পূজার এই বদলে যাওয়া ব্যাখ্যার সামনে দাঁড়িয়ে আজ নতুন করে ভাবতে হয়-এটাই কি আমাদের পূজার নিদর্শন, নাকি আমরা নিজেরাই উৎসবের মানে বদলে ফেলছি, অজান্তেই?
অন্যদিকে আধুনিক সমাজে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও প্রযুক্তির বিকাশের ফলে বিদ্যার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কিছুটা কমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষাকে কেবলমাত্র একটি পেশাদার দক্ষতা হিসেবে দেখা হয়, যা প্রকৃত বিদ্যার আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার যে ছবি চোখে পড়ছে, তা হতাশাজনক। শিক্ষার জগতে যেন অজ্ঞতার ছায়া বিরাজ করছে-ছাত্রছাত্রীরা সহজবোধ্য, সরল, প্রযুক্তিভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাকে ঊর্ধ্বে না নিয়ে শুধু মুখস্থ বিদ্যায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলছে। একদিকে যেখানে জ্ঞান হওয়া উচিত, সেখানে প্রতিদিনের রুটিন ও পরীক্ষার চাপই তাদের ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করছে।শিক্ষকের প্রতি সহমর্মিতা বা শ্রদ্ধার পরিবর্তে হামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা যেন শিক্ষা ব্যবস্থার পেছনে এক কুৎসিত আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর স্কুল–কলেজগুলোও শুধু শিক্ষা নয়, ব্যবসার খাত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় জ্ঞান ও মূল্যবোধের স্থান ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।তাই সরস্বতী পূজা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত শিক্ষা কেবল ডিগ্রি বা চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, বরং এটি ব্যক্তিত্ব গঠনের এবং সমাজের কল্যাণে ব্যবহারের এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
রাত পোহালেই শিক্ষার্থীরা আবারো সরস্বতী মায়ের সাথে উৎসবে মেতে উঠবে। বছর ঘুরে বিদ্যার উৎসবে মুখরিত হতে শিক্ষার্থী থেকে সর্বস্তরের মানুষের অপেক্ষা।ভক্তদের প্রত্যাশা থাকে প্রত্যেকবছর মা সরস্বতী এই ধরাধামে এসে তাদের বিদ্যাশক্তিতে উজ্জীবিত করে তোলুক এবং অশুভ জ্ঞান দূর করে সবাইকে জ্ঞানের আলোতে পরিপূর্ণ করুক।সরস্বতী পূজা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও এক সুন্দর নিদর্শন, কারণ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে এবং এ ধরনের উৎসব আমাদের সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে এবং সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।
লেখক: আমি সুমন বৈদ্য বর্তমানে ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়ন করছি।পাশাপাশি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় রয়েছি।