এরপর পলাশ পদ্মকে নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে একসাথে সময় কাটাতে থাকে।
পলাশ:""অনেক দিন ধরে মা বাবা বাড়িতে যেতে বলছে। বাবার সাথে তার অফিসে জয়েন করতে বলছে। এবার নিজের একটা পরিচয় অর্জন করতে হবে।
পদ্ম:"কবে আসবেন??
পলাশ:"ঠিক জানিনা তবে সব কিছু গুছিয়ে নিতে পারলে আপনার কথা মা বাবাকে জানাবো।
পদ্ম:"আমাকে মনে রাখবেন নাকি ভুলে যাবেন??
পলাশ": আপনাকে ভুলে যাওয়ার কথা আসছে কেন। বাড়ি তো যেতেই হবে।
রোজকার মত পলাশ পদ্মকে বাড়ির দিকে এগিয়ে দিল। তারপর পলাশ মিয়া বাড়ি ফিরে এলো।
পদ্ম বাড়ির উঠানে এসে দেখে তার একমাত্র বড় খালা।
আসসালামুয়ালাইকুম খালা, কেমন আছো তুমি।
আমার আর কিসের ভালো,আছি এক রকম।তুই কেমন আছিস। খাওয়া দাওয়া ঠিক করে করিস না? এমন রোগাপাতলা লাগছে কেন তোকে?
কি যে বলো না খালা,
হুম মা আর কি বলবো, তোকে দেখে সবাই এটাই বলবে।।
আরে হাসান ভাই, তুমি?
না আমি না, এটা আমার আত্মা। আমি না এলে তোর খালার আসা হতো?
তুমি কি কখনো মানুষ হবেনা? একটা সোজা কথা, সোজা ভাবে নিতে পারোনা।
এই তোরা কী এবার একটু থামবি। দেখো না বুবু দুই টা আগের মতোই আছে। শুধু শরীরের দিকে বড় হয়েছে।
হুম দেখ না দুটোরে কেমনে সোজা করি।
ঠিক আছে চলো ঘরে চলো।
পরের দিন সকালে পলাশ ঘুম থেকে উঠে দেখে তুলি আর ফুফু কি নিয়ে কথা বলেছিলো। পলাশ এগিয়ে আসতে ওরা চুপ হয়ে গেল।
যা বাবা তুই সব জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখ। যাওয়ার সময় কিছু যেন নিতে ভুলে না যাস।
আচ্ছা ঠিক আছে ফুফু।
পলাশ বাড়ি ফেরার আগে একবার পদ্মের সাথে দেখা করতে তাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর পদ্ম বেরিয়ে আসে।
পলাশ: আসছি সাবধানে থাকবেন আর নিজের যত্ন নেবেন। কিছু বলছেন না যে? আমি তুলির কাছে মাঝে মাঝে ফোন দেবো।
পদ্ম শুধু পলাশের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে কিছু সময় চুপ হয়ে থাকল __আমি আপনার অপেক্ষায় রইলাম।
রাতে পদ্ম উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশটা শান্ত। ঠিক উল্টো দিকে পদ্ম, তার বুকের ভেতর ভীষণ কষ্ট অনুভব হচ্ছে। পলাশের চলে যাওয়া টা ঠিক সে সামলে নিতে পারছেনা।
কিরে এতো রাতে এখানে কি করছিস?
কিছু না।
তোর কি হয়েছে বল তো? বিকেল থেকে কেমন একটা মন মরা হয়ে আছিস।
মুখে অনিচ্ছার রেশ, ঘুম আসছে না তাই এসে দাঁড়ায় আছি।
এরপর পলাশ এর কোন খবর নেই কিন্তু তুলির সাথে প্রতিদিন বিকেলে এক বার করে পদ্ম দেখা করে আসে, তুলি ও তার কোনো খোঁজ দিতে পারে না।
এদিকে আলম সাহেব, মানে পদ্মর বাবা আর তার বড় খালু অনেক আগেই পদ্ম আর হাসানের বিয়ের কথা পাকা করে রেখেছে। কিন্তু এখন আর হাসানের বাবা বেঁচে নেই। হাসানের মায়ের শরীর খুব বেশি ভালো না তাই কিছু একটা হয়ে যাওয়ার আগে তারা চায় পদ্ম আর হাসানের বিয়ে টা সেরে ফেলতে।
সবাই উঠোনে বসে সেই বিষয়ে আলোচনা করছে। হাসান আগে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানতো না। কিছু দিন আগে তার মা সব খুলে বলে। তাই হাসান বড়দের উপর সব ছেড়ে দিয়েছে।তারা যা ভালো মনে করেন তাই হবে।
কিন্তু পদ্ম কিছুই জানতো না।
তোমরা এসব কি বলছো। এটা কি করে সম্ভব। ছোট বেলা থেকে আমি হাসান ভাইকে নিজের বড় ভাইয়ের চোখে দেখে এসেছি।
বিয়ের পর আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
না খালা,এটা কোন ভাবেই সম্ভব নয় কারণ আমি,,,,,
কি বল
কিছু না।
এই বলে পদ্ম রেগে গিয়ে বললো আমি এখন কোনো বিয়ে করতে পারবোনা।
আলম সাহেব উঠে স্বজোরে একটা চড় বসিয়ে দিল পদ্মের গালে। বড়দের মুখে মুখে কথা বলিস।
এরপর হাসান পদ্মের হাত ধরে ওখান থেকে নিয়ে আসে।
পরদিন সকালে তুলির সাথে দেখা করে পদ্ম জানতে পারে, পলাশ দুবছরের জন্য বিদেশ চলে গেছে।
পদ্ম কিছু সময় হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু মনে হচ্ছে তার বুকের ভেতর কেমন একটা উত্তাল ঝড় উঠেছে,,,,, চলবে 🔥 💔