Posts

গল্প

জিন অথবা ভুতের গল্প, ১ম পর্ব

January 23, 2026

ইহতেমাম ইলাহী

11
View

জিন অথবা ভুতের গল্প
ইহতেমাম ইলাহী

ভুমিকা
আমি একজন শিক্ষক। ছাত্র পড়াই। খারাপ লাগে না আলহামদুলিল্লাহ। ক্লাসে ছাত্রদের কেউ কেউ গল্প শুনতে চায়। ‘স্যার আজ গল্প শোনান। স্যার অনেকদিন হলো গল্প শোনান না।‘ কী করি? আমি গল্প তেমন বলতে পারি না। তবে ছাত্ররা নাছোড়বান্দা। ভাবি যে, কী গল্প বলা যায়। কিছুক্ষণ পর হয়ত একটা কৌতুক মনে আসে। ছাত্রদের বলা শুরু করি। ছাত্রদের কেউ কেউ বলে, স্যার জিনের গল্প বলেন। আপনার নিজের জীবনে ঘটা জিনের গল্প। ক্লাসের অন্য ছাত্ররা সমর্থন জানায়। আমি তখন ভাবা শুরু করি, নিজের জীবনে ঘটা জিনের ঘটনা কী আছে। হয়ত ছোট একটা অদ্ভুত ঘটনা মনে পড়ে। সেটাই বলতে শুরু করি। ছাত্ররা নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে থাকে, শুনে। গল্প শেষে ছাত্রদের চেহারায় ভয়মিশ্রিত খুশি ঝলমল করতে থাকে। বলে, স্যার আরেকটা। আরেকটা। আমি ঘড়ি দেখে বলি, ক্লাসের সময় তো শেষ। শেষ গল্পটা যেদিন তাদের বলি, সেদিন শুধু ক্লাসই শেষ হয়েছিল তা না, ছিল সেই স্কুলের চাকরীরও শেষ দিন। ছাত্রদের বলা হয় নি। কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে আগেই নিষেধ করেছিল। বললে নাকি ছাত্রদের মন খারাপ হয়ে যাবে। আরো সমস্যা হতে পারে ইত্যাদি। তারা সেটা চান না। যাইহোক। আমি চাচ্ছিলাম শেষ দিনের গল্প বলার এই স্মৃতিটা ধরে রাখি। শিশু কিংবা নবীন কিশোর সেই ছাত্রদের আকাঙ্খাকে আমি গল্পের বই এ রুপ দেই। শুধু গল্প হলেই আবার হবে না। জিনের গল্প হতে হবে। নিজ জীবনে ঘটা জিনের গল্প। সেদিন স্কুল থেকে ফিরে মাথার ভেতর নিজের জীবনে ঘটা জিনের গল্প বা বড়দের মুখ থেকে শোনা জিনের গল্প একে একে মনে পড়তে থাকল। ননস্টপ। আমি আশ্চর্য্য হলাম। এত জিনের গল্প যে আমার নিজের জানা আছে জানতামই না। ক্লাস ফোরের জিদ্দি ছেলেটার প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব হচ্ছে এখনও। যে আমাকে জিনের গল্প বলতে বাধ্য করেছিল। সে গল্প শুনে একদম চুপ করে। পিনপতন নিরবতা। কিন্তু ক্লাসের সময় সে একটা জীবন্ত সাউন্ড স্পিকারের ভুমিকা রাখে। বড়ই বিরক্ত করে। তবে আপাতত তাকে মাফ করা যাক। 

স্মরনিকা
ক্লাস ফোরের আল-আমিন
সাথে আমার সকল ছাত্ররা! প্রিয় ছাত্ররা!
তোমাদের জীবনে অনেক ভালো ভালো গল্প তৈরি হোক
এই দুআ করি।

১.

মাহান


আরফান স্যার। ছিলেন আমাদের গণিতের শিক্ষক। তার বাড়ি ছিল গ্রামের একটা নিরিবিলি জায়গায়। ধান ক্ষেতের ঠিক মাঝামাঝি। লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন বললে ভুল হবে না।  তার কয়েক চাচার পরিবার মিলে একত্রে বসবাস। পাশে লম্বা লম্বা সুপারি গাছের বাগান। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। বহুদিন স্যারের বাসায় পড়তে গিয়েছি ছোট বয়সে। বাসার আশপাশ জুড়ে ছিল কাগজি লেবুগাছের ঝোপ। যে ঘরটায় স্যার আমাকে পড়াতেন তার পেছনের পুকুর পারে একটা সুবিশাল দারুচিনি গাছ। একটু দূরে বাঁশের ঝোপ। তাদের বাড়ির আবহ খুব একটা ভৌতিক বলা যায় না। তবে স্যারের এক চাচির ছিল ধবল রোগ। বৃদ্ধা মহিলা। যখন দেখতাম সাদা কালো ছোপ ছোপ শরীর, তখন চমকে যাওয়ার মত একটা অনুভুতি হত। স্যারের দাদি বেঁচে ছিলেন। অনেক বয়স হয়েছে। তার কী যেন রোগ হয়েছে। প্রায় এ নিয়ে কথা শুনতে পাই। প্রায় নাকি মরমর অবস্থা। অনেক ডাক্তার অসুধ করা হয়েছে কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি নেই। আবার মৃত্যুও হচ্ছে না। বৃদ্ধ বয়সে কষ্ট পাচ্ছেন শুধু শুধু। সব চিকিতসা যখন করা হয়ে গেল তখন বাদ রহল কেবল জিন চিকিৎসা। আমি প্রায় ২০ বছর আগের কথা বলছি। তখন গ্রামের কারো রোগ না সারলে আত্মীয়দের কেউ কেউ জিন চিকিতসার পরামর্শ দেবে না তা কখনো হয় নি। স্যারের দাদিকেও জিন দিয়ে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত হলো। তো জীন চিকিতসা হবে কীভাবে? জিন ডাক্তার তো আর চেম্বার খুলে বসে থাকে না। তাকে ডেকে আনতে হয়। সবাই আবার ডাকতে পারে না। বিশেষ বিশেষ লোকই এই কাজ পারে। আমাদের এলাকায় এই বিশেষ শ্রেণির লোকদের বলা হত মাহান। শহরে এসে জানলাম তাদের কবিরাজ বলে। আমাদের এলাকায় বেশ কিছু পরিচত কবিরাজ ছিল। এদের নাম—জহির মাহান, সাদেক মাহান, কাছুয়া মাহান ইত্যাদি। এখন ভাবি মাহান শব্দটা কি কোনোভাবে মহান শব্দ থেকে এসেছে কি না? এর উত্তর মনে হয় নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না।  মূল গল্পে যাই। … 

(ইন শা আল্লাহ চলবে)
জিন অথবা ভুতের গল্প
ছোটগল্প সংকলন

 

Comments

    Please login to post comment. Login