ভারতের ৩৭ বছর বয়সী ক্রিকেট প্রশাসক ও ব্যবসায়ী জয় শাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তথা আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান। আ'ধিপত্যবাদের যুগে যেকোনো বিচারেই লোকটা যে ভারতের পক্ষ নেবে তা জানাই ছিল। নিজেদের ক্রিকেটকে ব্যাকফুটে ফেলে দিতে 'ইনডিয়ান ক্রিকেট ফ্যা'সিজমে' পা দিয়েছে বাংলাদেশ। খেলবই না নামের গোঁয়ার্তুমিতে পাড়া না দিয়ে বাংলাদেশের উচিৎ ছিল ক্রিকেট কূটনীতির পথে হাঁটা। এমনকি পিসিবির সহায়তাও চাইতে পারত বাংলাদেশ। মাত্র একজন ক্রিকেটার মুস্তাফিজ ইস্যুকে পাত্তা দিয়ে পুরো ক্রিকেট টিমের মান মর্যাদা ধুলিসাৎ করবার কোনো মানে থাকতে পারে না।
পাকিস্তানের সাথে ভারতের সবসময় যু'দ্ধ পরিস্থিতি বজায় থাকে। এমনকি প্রায়ই নিউক্লিয়ার বা অ্যা'টমিক ওয়ার লাগে লাগে অবস্থা তৈরি হয়। সেই পাকিস্তানও ভারতের মাটিতে গিয়ে খেলবে কোনো হেসিটেশন, যদি, কিন্তু, তবে ছাড়াই। অথচ আমরা আলোচনার পথ পরিহার করে নিজেদের একগুঁয়েমিকে একমাত্র পীর জ্ঞান করলাম। সুযোগ বুঝে ইন্ডিয়াও আমাদের সাথে খেলে দিল। আমাদেরকে আউট করে দিয়ে নন কোয়ালিফায়িং বেস্ট টিম স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে জায়গা দিল।
বস্তুত ভারত এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক দায়ে নষ্ট হলো বাংলাদেশের ক্রিকেট কালচার। যেটি খুব সহসাই রিকভার করা সম্ভবপর হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের অহমিকার দায় পরের গভমেন্টকে চোকাতে হবে বহু সময় ব্যয় ও বিপুল ক্ষতি স্বীকার করে।
আমরা আমাদের ক্রিকেটবোদ্ধাদের হঠকারিতা ও নির্বুদ্ধিতার সমালোচনা করি। ভারত নিয়ন্ত্রিত আইসিসির কঠোর নিন্দা জানাই। আমরা ছোট দেশ বলে আমাদের সাথে জয় শাহরা এই ন্যাক্কারজনক বন্দোবস্ত নিতে পারল। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তো কখনোই নয়, এমনকি পিসিবির বিরুদ্ধেও আইসিসি এমন কঠোর হতে পারত না।
বহু যত্নে গড়া আমাদের ক্রিকেট মর্যাদা এইভাবে সংকোচিত হয়ে পড়বে -এটা অভাবনীয় ও গভীর দুঃশ্চিন্তার। আমাদের ক্রিকেটারদের প্রতি সংহতি, সহমর্মিতা ও সমর্থন। বিসিবি কিংবা ইন্টেরিম গভমেন্টের ক্রীড়ামন্ত্রক আরেকটু বুদ্ধিদীপ্ত ও দেশের ক্রিকেটের জন্য হিতকর সিদ্ধান্ত নিতে পারত বলে মনে করি।
লেখক: সাংবাদিক
২৪ জানুয়ারি ২০২৬