মূহুর্তে পদ্মের চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে। পায়ের নীচের মাটি গুলো সরে যাচ্ছে।
পদ্ম “”তাহলে এতদিন পলাশ শুধুমাত্র আমার সাথে বিশ্বাসের নামে ছলনা করছিলো? কিন্তু পলাশের চোখের ভাষা বুঝতে এতোটা ভুল করছি আমি। কেন করলেন এমন টা?পদ্ম নিজের সাথে নিজেই কথা গুলো বলছে।
হাসান __ আমি জানি তোর কাছে এটা মেনে নেয়া কঠিন।
পদ্ম “”সব কিছু জেনেও কেন আমার সাথে এমন করলেন? কেন আমার বিশ্বাস টা এভাবে ভেঙ্গে দিলেন?
বিশ্বাস, কি বলছিস এসব আমি,,,,,
হাসান ভাই তুমি?
তোর ঠিক কি হয়েছে আমায় বলবি।
কি হয়েছে, কিছু না এমনি,বলো কি বলছিলে তুমি?
তুই তো এমন ছিলি না। হঠাৎ এমন আচরণ করছিস কেন? তুই কি কাউকে,,,,,, কথাটা শেষ করার আগেই।।
আপু, ভাইয়া মা তোমাদের বাড়িতে যেতে বলছে তারা তারি করে।
কেনোরে কি হয়েছে।
বাড়ি গেলে দেখতে পাবে।
আচ্ছা চল,,,,
হাসান __মা কি হয়েছে এভাবে ডেকে পাঠালে?
একটা খুশির খবর আছে। তোদের বিয়ের কথা পাকা করে ফেললাম।
কিন্তু মা পদ্ম কি বলতে চায় সেটা তো শুনবে একবার।
পদ্ম ছেলেমানুষী করবে একটু, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
এখন আর কেউ প্রশ্ন করে না পদ্ম কি চায়। সবাই ধরে নিয়েছে এটাই ঠিক।
পদ্মের ও কিছু বলা হয়নি আর।
বিয়ের দিন পদ্ম আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তবে সে কাঁদছে না আবার হাসছে ও না।শুধু ভীষণ ক্লান্ত আর মুখে মলিন ভাব।
হাসান দূরে দাঁড়িয়ে পদ্মের দিকে তাকিয়ে আছে।তার কিছু করার নেই কারণ বাড়ির বড়দের মুখের উপর না করার সাহস পায় নাই।
পাশে দাঁড়িয়ে বললো_সব সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু পদ্ম জানে কিছুই আর ঠিক হওয়ার নয়।
রাতে পদ্ম জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে । হঠাৎ মনে হলো "কোথাও কেউ নেই যাকে বলা যায়,,,, আপনি আছেন?
তবু সে জানতো_ একটা সময় ছিল , যেখানে কোন প্রশ্ন ছিল না কিন্তু ছিল একটা গভীর বিশ্বাস ।
আর সেই বিশ্বাসটাই পদ্মের জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যথা হয়ে উঠলো।
এভাবেই প্রতিরাতে পদ্ম তার চোখের পানি দিয়ে বিশ্বাসের মূল্য দিচ্ছে।
একদিন পলাশ কাউকে না জানিয়ে তুলি দের বাড়ি আসে।
তুলি পলাশকে দেখে চমকে উঠে।
ভাইয়া তুমি হঠাৎ, তোমার তো আরো কয়দিন পর আসার কথা ছিল?
আমার আর দেরি করতে মন চাইছে না। পদ্মের সাথে দেখা করতে মনটা ছটফট করছে। ওকে সারপ্রাইজ দেবো। আগে খুব করে বকা দেবো।
সামনে দাঁড়িয়ে এতো কথা বলে আর ফোনে কথা বলতে উনার লজ্জা লাগে।
ভাইয়া, তোমাকে একটা কথা বলার আছে।
সব কথা শুনব আগে একবার পদ্মের সাথে দেখা করে আসি।
আসলে তোমার দেয়া গিফ্ট গুলো আমি আপুকে দিতে পারিনি। আর কোনো কথা ও বলতে পারিনি।
তুই কি ফান করছিস?
ভাইয়া, তুমি যাওয়ার পর প্রতিদিন বিকেলে আপু একবার করে আসতো তোমার খবর নিতে। কিন্তু মা আমাকে কিছু বলতে দিতো না আর একটা কথা,পদ্ম আপুর,,,,,,,
কি হয়েছে পদ্মের। উনি ঠিক আছে তো ?
তারপর সব কিছু খুলে বলে তুলি।পদ্ম জানতোই না পলাশ কোথায় আছে, কেমন আছে।
সব শেষে তুলি বলল _ হাসান নামে তার খালাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয়েছে,,,,,, চলবে 💔💔