রফিক সাহেব প্রতিদিন ভোরে উঠে জানালার পাশে বসতেন। হাতে এক কাপ চা, চোখে অনাবিল শূন্যতা। স্ত্রী মারা গেছেন তিন বছর আগে, আর একমাত্র ছেলে বিদেশে—ব্যস্ত জীবনে বাবার জন্য সময় নেই। ঘরটা বড়, কিন্তু ভীষণ নীরব।
একদিন ডাকপিয়ন একটি চিঠি দিয়ে গেল। হাতের লেখা দেখে রফিক সাহেব থমকে গেলেন। চিঠিটি তার ছেলের। অনেকদিন পর লেখা।
চিঠি শেষ হতেই রফিক সাহেবের চোখ ভিজে উঠল। বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট যেন হঠাৎ বেরিয়ে এলো। তিনি চিঠিটা বুকে চেপে ধরলেন। সেদিন অনেক বছর পর তিনি শান্তিতে ঘুমালেন।
কিন্তু পরদিন ভোরে তিনি আর উঠলেন না।
কয়েকদিন পর ছেলে দেশে এসে বাবার টেবিলে সেই চিঠির পাশে আরেকটি খাম পেল। বাবার লেখা।
“বাবা, তোমার চিঠি পেয়ে আমি ধনী হয়ে গেছি। বাবা-মায়ের ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে—কিন্তু সময় করে ফিরতে হয় থাকতেই।”
ছেলেটি চুপচাপ কাঁদল। সে বুঝল—ভালোবাসা প্রকাশের সঠিক সময় না বুঝলে, অনেক কথা চিঠি হয়… কিন্তু আর কাউকে দেওয়া যায় না।
শিক্ষা: সম্পর্কের মূল্য সময় থাকতে বুঝতে হয়—না হলে অনুশোচনা ছাড়া কিছুই থাকে না।