সন্ধ্যার নীরবতায় জানালার পাশে বসে আকাশের শেষ আলোটা ফেলে দেয় ঘরের মধ্যে। রাহুল তার পুরনো নোটবুক খুলল, কলম হাতে ধরল। প্রতিদিনের ব্যস্ততা, শহরের গোলমাল, মানুষের মুখোমুখি শব্দ—সব কিছুর মাঝে এই নিঃশব্দ মুহূর্তটি তার জন্য জীবনের একান্ত আশ্রয়। প্রতিটি লাইন, প্রতিটি শব্দ যেন তার মনোজগতের আভাস।
লিখতে লিখতে সে চোখ বন্ধ করে ভাবল—সেই ছোটবেলার দিনগুলো, যখন মা হাতে কপি ধরিয়ে বলতেন, “লিখতে শেখ, শব্দের ভেতর তোমার ভাব থাকবে।” মনে হলো, সব স্মৃতি, ভালোবাসা, হারানো আশা—সবই একরাশ আলো হয়ে কলমে নেমে এসেছে। গল্প কেবল কল্পনার খাতা নয়; এটি অনুভূতির আকাশ, যেখানে সে নিজেকে খুঁজে পায়।
রাহুল জানে, প্রতিটি গল্পই একটি ছায়ার মতো—নীরব, কিন্তু শক্তিশালী। প্রতিটি শব্দ পাঠকের হৃদয়ে অদৃশ্য ছাপ ফেলে। কখনও একটি বাক্য হাসি জাগায়, কখনও একটি প্যারাগ্রাফ চোখ ভিজিয়ে দেয়। তিনি অনুভব করেন, লিখতে লিখতে নিজের আত্মাকে তিনি খুঁজে পাচ্ছেন।
রাত গভীর হতে হতে, কলম নামিয়ে রাখল। জানালা দিয়ে হালকা বাতাস এসে নীরবতার সঙ্গে মিলিত হলো। গল্প শেষ, কিন্তু আলো নিভে যায়নি। রাহুল জানে—প্রতিটি নিঃশব্দ দিনের আলো তার গল্পের মতো, হৃদয়ে অমলিন ছাপ রেখে যায়।