মানুষের জীবন কেবল সময়ের ধারায় বয়ে যাওয়া কিছু দিন–রাতের সমষ্টি নয়; এটি অনুভূতির রঙে আঁকা এক দীর্ঘ ক্যানভাস। হাসি, কান্না, আশা, হতাশা—সব মিলিয়েই জীবন। কখনো ভোরের আলোয় বুক ভরে ওঠে স্বপ্নে, আবার কখনো সন্ধ্যার নীরবতায় মনটা ভারী হয়ে আসে অজানা কষ্টে।
আমরা সবাই কোনো না কোনো স্মৃতির বোঝা বয়ে চলি। শৈশবের সেই নির্ভেজাল দিনগুলো—যেখানে দুশ্চিন্তা ছিল না, ছিল কেবল খেলার আনন্দ—আজ যেন দূরের কোনো গ্রাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ে, প্রত্যাশার পাহাড় দাঁড়িয়ে যায় সামনে। তখনই মানুষ বুঝতে শেখে, বড় হওয়া মানে শুধু বয়স বাড়া নয়; বড় হওয়া মানে নিজের অনুভূতিগুলোকে লুকিয়ে রাখতে শেখা।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে তখন, যখন আপন মানুষগুলো দূরে সরে যায়—কখনো পরিস্থিতির কারণে, কখনো ভুল বোঝাবুঝিতে। কথা জমে থাকে বুকের ভেতর, অথচ বলার মানুষ থাকে না। এমন সময় নীরবতা কথা বলে, চোখ ভিজে ওঠে অকারণে। তবু মানুষ থামে না। কারণ মানুষ আশায় বাঁচে—এই আশায় যে কালকের দিনটা হয়তো আজকের চেয়ে একটু ভালো হবে।
জীবন আমাদের শেখায় সহনশীলতা। ভেঙে পড়েও আবার দাঁড়াতে হয়, কাঁদতে কাঁদতেই হাঁটতে হয় সামনে। ব্যর্থতা তখন আর শত্রু থাকে না; সে হয়ে ওঠে শিক্ষক। প্রতিটি আঘাত আমাদের একটু বেশি মানবিক করে, একটু বেশি গভীর করে।
সবশেষে বুঝি, আবেগই মানুষকে মানুষ করে। অনুভূতি ছাড়া জীবন শূন্য। তাই কষ্ট পেলেও অনুভব করতে শিখি, ভালোবাসলেও ভয় না পেতে শিখি। কারণ আবেগের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমাদের অস্তিত্বের সত্য—আমরা বেঁচে আছি, অনুভব করছি, আর সেই অনুভবই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।