আমি দৌড়াইনি।
অদ্ভুতভাবে সেদিন ভয় আমাকে ঠেলে দেয়নি—
ভয় আমাকে ধরে রেখেছিল।
কুয়োর ধারে দাঁড়িয়ে বুঝলাম,
আমার বুক উঠছে না…
তবু শ্বাসের শব্দ পাচ্ছি।
হাঁফ—
শব্দটা কুয়ো থেকে নয়,
শব্দটা আসছে আমার পেছন থেকে।
আমি ঘুরে তাকালাম।
আমিই দাঁড়িয়ে আছি—
কিন্তু একটু ঝাপসা,
চোখের নিচে কালো ছায়া,
আর ঠোঁটের কোণে সেই হালকা হাসি।
সে বলল,
“প্রথম রাতটা এমনই হয়। শরীর এখনো অভ্যস্ত হয়নি।”
আমি গিললাম।
গলা দিয়ে কোনো শব্দ বেরোল না।
সে আয়নার মতো আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
“তুই যখন শ্বাস আটকাস,
আমি নিই।
তুই যখন ঘুমাস,
আমি জাগি।”
হঠাৎ গ্রামের বাতাস বদলে গেল।
কুকুরগুলো একসাথে কাঁদতে শুরু করল।
ঘড়ির কাঁটা থেমে গেল—
সব ঘড়ির।
সে কুয়োর দিকে আঙুল তুলে বলল,
“ওটা সময় নয়।
ওটা অপেক্ষা।”
আমি বুঝলাম—
আমি আর কুয়োর ভেতরে ঢুকিনি।
কুয়ো আমার ভেতরে ঢুকে গেছে।
সেই রাতের পর
আমি আর স্বপ্ন দেখি না।
কারণ স্বপ্ন দেখার আগেই
ও দেখে ফেলে।
ঘুমাতে গেলে এখন
আমি নিজের বুকের ওঠানামা গুনি না।
কারণ আমি জানি—
এক সেকেন্ড আগে
কেউ একজন
গুনে রাখছে।
আর জানালার কাঁচে ভেসে ওঠে একটা লেখা,
যেটা আমি নিজেই লিখিনি—
“আর তিন রাত।”