সব শেষে তুলি বলল _ হাসান নামে খালাতো ভাইয়ের সাথে পদ্মের বিয়ে হয়েছে।।
পলাশ এর বুকের ভেতর কেমন একটা হাহাকারের প্রতিধ্বনি বেজে উঠল। আকাশটা যেন তার মাথায় ভেঙ্গে পড়লো। এতো দিন ধরে মনের মধ্যে একটা সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিল কিন্তু আজ একটা শব্দ এসে নিমিষেই সেই স্বপ্নের ইতি টেনে দিল।
পলাশ নিশ্চুপ হয়ে গেল। কি করবে বুঝতে পারছে না কিন্তু এখানে তো পদ্মের কোনো দোষ নেই। তাহলে পদ্মের সামনে দাঁড়িয়ে কি বলবে ভেবে উঠতে পারল না কিন্তু তাকে যে একবার দেখতে চায় পলাশ।
পলাশ এর কন্ঠস্বর ভারী,,, একবার পদ্মের সাথে দেখা করিয়ে দিতে পারবি?
অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও পদ্মের মনে একটা প্রশ্ন চলে,,, কেন পলাশ আমার সাথে এমন করলো ?
হঠাৎ একদিন পদ্ম পুকুর পাড়ে এসে দেখে পলাশ বসে আছে।
পলাশ ফিরে তাকায়।
পদ্ম দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই কিন্তু অবাক হয়নি।
পলাশ _কেমন আছেন?
খুব ভালো।।
কিছু সময় দু'জন চুপ থাকে। তারপর পলাশ বলল _ আপনি ভালো থাকবেন সবসময়।
পদ্ম_ আপনি নিশ্চিত?
পলাশ _ হাসান ভালো মানুষ।
ভালো মানুষ হওয়া আর নিজের মানুষ হওয়া এক না।ভুলেই যদি যাবেন, এতো সুন্দর করে বিশ্বাস দিলেন কেন?
পলাশ নিচের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলছে _ আপনাকে ভুলে যাওয়া এই এক জীবনে সম্ভব নয় বরং যে দিন ভুলে যাবো সেই দিন হয়তো আমার নিঃশ্বাস চলে যাবে।
পদ্ম__ মায়া লাগিয়ে এভাবে হারিয়ে গেলেন কেন ? ভালো না লাগলে বলে দিতেন, শত কষ্ট নিয়ে হলেও আপনাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করতাম।
পদ্মের কথা গুলো যেন পলাশকে ভীতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিয়ে পলাশ বলল __ ভাগ্য আপনাকে আমার থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে।
তারপর পলাশ চলে যায় একবার ও ফিরে তাকায়নি।
চারিদিকে অন্ধকার নামে, ঘরে ঘরে আলো জ্বলছে কিন্তু পদ্মের ভিতরে কোনো আলো জ্বলে নি। পরিবেশ টা খুব শান্ত ছিল। এই শান্ত পরিবেশ টা খুব বেশি ভারী হয়ে উঠেছে পদ্মের কাছে।
কেও কথা বলছিল না তবু মনে হচ্ছে অনেক কিছু বলা হচ্ছে, শুধু কোনো শব্দ নেই।
উঠোনে বাতাসটা থেমে থেমে বইছে। গাছের পাতা গুলো নড়ছে কিন্তু সেই নড়া চড়ায় কোনো প্রাণ ছিল না।
পদ্ম একা দাঁড়িয়ে আছে।
তার বুকের ভেতর একটা চাপা ব্যথা জমে আছে।
যেন কাঁদতে পারলেই হালকা হবে কিন্তু চোখে জল আসছিলো না।
পদ্ম বুঝতে পারে,,সে কাউকে হারায়নি আজ।
হারিয়েছে অনেক আগেই আজ শুধু সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
মনে পড়লো __
এক বিকেলের কথা,
একটা পুরনো রাস্তা আর একটা কন্ঠস্বর
“”""" এই যে শুনছেন"""""" 💔💔 সমাপ্ত ।।