হলুদের অনুষ্ঠান শেষে সে ঘরে চলে গেল আমি ও তার পিছে যেতে লাগলাম
বাড়ির ভেতরে তখন আলো–আঁধারি, সবাই ব্যস্ত।
সে বলল,
“আমি এখানে শাড়ি বদলাব।”
আমি জানতাম—আমার থামা উচিত।
কিন্তু পা থামল না।
নিঃশব্দে আমি দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।
ভেতর থেকে কাপড় নড়ার শব্দ।
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস।
আমি দরজার ফাঁক দিয়ে তাকালাম না—
তবু বুঝতে পারছিলাম, সে একা, অরক্ষিত, নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করছে।
আমি ঢুকে পড়লাম।
সে চমকে ঘুরে দাঁড়াল।
চোখে ভয়, কিন্তু পালানোর চেষ্টা নেই।
আমি কিছু বললাম না।
শুধু তার খুব কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।
আমার নিঃশ্বাস তার গলায় এসে লাগছিল।
“তুমি কেন এলে?”
সে ফিসফিস করে বলল।
আমি উত্তর দিলাম না।
শুধু হাতটা আলতো করে তার কোমরের কাছে রাখলাম—
এমনভাবে, যেন প্রশ্ন করছি, আদেশ দিচ্ছি না।
সে চোখ বন্ধ করল।
আমি তাকে সামনে ঘুরিয়ে দিলাম।
মুহূর্তটার ভেতর আমরা যেন কোথাও হারিয়ে গেলাম—
কোনো বিয়ে নেই, কোনো দায়িত্ব নেই, কোনো মানুষ নেই।
শুধু আমরা।
আমার কপাল তার কপালে ঠেকল।
তার ঠোঁট কাঁপছিল।
তারপর—
সময় থেমে গেল।
(এই জায়গায় আর শব্দ যায় না।
যা ঘটেছিল, তা বলা যায় না—
শুধু অনুভব করা যায়।)
কিছুক্ষণ পর আমি দেখলাম—
তার চোখ দিয়ে পানি গড়াচ্ছে।
আমি থমকে গেলাম।
“কাঁদছ কেন?”
আমি খুব নিচু স্বরে বললাম।
সে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“ভালোবাসা কি এমনই হয়?
নাকি আমি ভুল করছি?”
সে হঠাৎ বলল,
“আমাকে বিয়ে করবে তো?”
এই প্রশ্নটা বুকের ভেতর আঘাত করল।
আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না।
চুপ করে বসে পড়লাম।
তারপর শুধু বললাম,
“এই কথাগুলো… কাউকে বলো না।”
এই কথাটাই তাকে ভেঙে দিল।
সে কান্না থামাতে চাইল, পারল না।
আমি দরজার বাইরে শব্দ শুনে ভয় পেয়ে গেলাম।
তাকে ঘরে রেখে আমি বেরিয়ে এলাম।
সেই রাতে ঘুম আসেনি।
পরদিন বিয়ের দিন।
দায়িত্ব পড়ল আমাকে—
কনের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার।
মোটরসাইকেলের পেছনে সে বসেছিল।
কোনো কথা নেই।
শুধু বাতাসে উড়তে থাকা শাড়ির আঁচল।
একবার আয়নায় চোখ পড়ল।
তার চোখ লাল।
আমার বুক ভারী।
আমি বুঝলাম—
কিছু ভুল একবার হলে,
তা সারাজীবন পিছু ছাড়ে না।
এই গল্প এখানেই শেষ না।
কারণ সামনে আছে—
অনুশোচনা, সিদ্ধান্ত, আর দাম।
14
View