Posts

নন ফিকশন

কুরআন থেকে অক্সিজেনের ইতি কথা

January 31, 2026

Md Liton Islam

21
View

লেখকঃ মুহাম্মদ লিটন ইসলাম 

এই মনমাতানো ধরনী, তার মাঝে আমাদের বেঁচে থাকা নিজেকে গড়ে তোলা । নিজের বৃদ্ধি। শক্তি স্বাধন। তাপ শক্তি উৎপাদন। উদ্ভিদের বৃদ্ধি সবরই পিছনে একজনের হাত থাকতে বাধ্য আর সেই একজন হচ্ছে অক্সিজেন..এটা সকলেরই জানা। প্রতিটা প্রেমিক যুগলও জানে তার প্রেমিক তার অক্সিজেন। তাকে ছাড়া সে ছটফট করতে থাকে। যেন তার গলায় কেউ ছুড়ি চালিয়েছে। যারা ল্যাব এ কাজ করেন তারা খুবই ভালো ভাবে জানেন অক্সিজেন বিহীন আগুন জালানো অসম্ভব আমাদের বাসা বাড়িতে আমাদের মা বোনেরা কিংবা আমরা সাধারণ মানুষেরা জানি যে‌ আগুন জ্বালানোর জন্য প্রয়োজন খড় কুটো কিংবা ঐ গ্যাস সিলিন্ডার যেখানে থাকে লিকুইড প্রেট্টোলিয়াম বা বিউটেন গ্যাস অথবা মিথেন গ্যাস। অথচ এর আড়ালো গোপনে দান সদকার কাজটা যে অক্সিজেন করে থাকে তা কিন্তু জানি না। জানার চেষ্টাও করি নাই। এসব কথা বলার পিছনে একখান বড় কারণ আছে। আমাদের দেশের অনেক বড় বড় আলেম আছে কিন্তু কুরআনের বেশ কিছু গোপন কথা আছে যা তারা উপলব্ধি করে না সেটাই আপনাকে বলতে এসেছি।

যারা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বা যাদের সাধারণ জ্ঞানের নলেজটা একটু উঁচু পর্যায়ের তাদের অনেকেই জানেন অক্সিজেন কে আবিষ্কার করেছেন আর কত সালে করেছেন? সকলের সুবিধার্থেই বলে রাখি " অক্সিজেন প্রধানত ১৭৭৪ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী জোসেফ প্রিস্টলি (Joseph Priestley) আবিষ্কার করেন [১, ৮, ৯]। তবে, সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শেলে (Carl Wilhelm Scheele) প্রিস্টলির আগেই ১৭৭২ সালের দিকে স্বাধীনভাবে অক্সিজেন প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু তার গবেষণাপত্রটি প্রিস্টলির পরে প্রকাশিত হয়েছিল [৪, ১০]। " উইকিপিডিয়া এই তথ্যটিই দিয়ে থাকে।

ধরেই নিলাম প্রিস্টলি আর শেলে দু'জনেই এই অক্সিজেন এর পিতা। কিন্তু সময়টা কখন! আঠারো শতকের দিকে। আমি আপনাকে বলছি এই কথা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পনেরো শত বছর পূর্বেই বলে গেছেন অক্সিজেন নামাক কারো অস্তিত্বের কথা। তাও আবার সয়ং আল্লাহ তায়ালা তার কুরআনের মধ্যে বলে রেখেছেন অথচ আমরা কেউ ই তা উপলব্ধি করতে পারি নাই। এটা আমাদের ব্যার্থতা।

আসুন একটা আয়াত পড়ে আসি—
الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمۡ مِّنَ الشَّجَرِ الۡاَخۡضَرِ نَارًا فَاِذَاۤ اَنۡتُمۡ مِّنۡہُ تُوۡقِدُوۡنَ
(সুরা ইয়াসিন—আয়াত—৮০ )

এই আয়াতের বঙ্গানুবাদে একটু চোখ বুলিয়ে নিন যেন আপনি আপনার প্রেমিকের দিকে তাকিয়ে আছেন চোখ সরাতে পারছেন না সমস্ত মনোযোগ তার প্রতি। আপনার উপলব্ধির অনেক কাছে চল আসবে

"তিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ হতে অগ্নি উৎপাদন করেন এবং তোমরা তা হতে অগ্নি প্রজ্বলিত কর।[১]"

[১] বলা হয় যে, আরবে দুটি এমন গাছ আছে যার নাম হল মার্খ্ ও আফার। এই গাছের দুটি ডাল একত্রিত করে ঘষা দিলে তা থেকে আগুন বের হয়। এখানে সবুজ বৃক্ষ থেকে অগ্নি উৎপাদন বলে ঐ গাছের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এই অনুবাদ টুকু তাফসিরে আহসানুল বায়ান থেকে নিয়েছি । এর ব্যাখ্যায় দুইটি বৃক্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাদের নাম মার্খ ও আফার । এদের ঘর্ষণেই অগ্নির সৃষ্টি হয়ে থাকে। আল্লাহ মালুম এদের থেকে সত্যিই কি অগ্নির সৃষ্টি হয় কিনা। আল্লাহ মালুম বলার কারণ এই ব্যাখ্যার জন্য কোনো হাদিস বা দলিল দেওয়া হয় নাই। তবে এটা সত্য ঘর্ষণ থেকেও তাপ শক্তির উৎপাদন হয় কিন্তু এর পিছনেও অক্সিজেন এর গোপন সংযোগ রয়েছে যা আমাদের চোখে ভাসমান নেই।

তবে আমি হলফ করে প্রমাণ করে দেখাবো আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে অক্সিজেনকেই নির্দেশ করেছেন এবং অক্সিজেন এর আবিষ্কারক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

তাফসির ইবনে কাসির এর ৭৭-৮০ তম আয়াতের ব্যাখ্যার শেষের দিকে এই আয়াতটির কথা তুলে ধরা হয়েছে ঠিকই কিন্তু একটু ভিন্ন ভাবে 
" প্রথমে এ গাছ ঠাণ্ডা ও সিক্ত ছিল। অতঃপর আমি ওকে শুকিয়ে দিয়ে তা হতে অগ্নি উৎপাদন করেছি। 
আরেক বর্ণনায় এর দ্বারা মিরখ ও ইফার গাছকে বুঝানো হয়েছে যা হিজাযে জন্মে। ওর সবুজ শাখাগুলোকে পরস্পর ঘর্ষণ করলে চকমকির মত আগুন বের হয়। যেমন আরবে একটি বিখ্যাত প্রবাদ لِكُلِّ شَجَرٍ نَّارٌ _ وَاسْتَمْجَدَ الْمِرْخُ وَالْعِفَارُ অর্থাৎ “প্রত্যেক গাছেই আগুন আছে এবং মিরখ ও ইফার মর্যাদা লাভ করেছে।”"

ইবনে কাসিরের ( রহঃ ) বর্ণনায় উঠে এসেছে আমাদের সর্বসাধারণের জানা বিষয়টা জীবন্ত উদ্ভিদ থেকে শুকনো উদ্ভিদ ( কাঠ খড় ) এবং তার থেকেই আমরা অগ্নি প্রজ্বলন করে থাকি। কিন্তু আসল রহস্য এখনো লুকিয়েই আছে। 
আয়াতটিতে গভীর মনোযোগ থাকলে লক্ষ করে দেখবেন আল্লাহ তায়ালা একটি শব্দ ব্যাবহার করেছেন ' الشَّجَرِ الۡاَخۡضَرِ ' যার অর্থ সবুজ উদ্ভিদ। ' الۡاَخۡضَرِ ' শব্দটির ভিন্ন ভার্সন ( خضر বা خضرا ) সমস্ত কুরআন এ ৮ বার ব্যাবহার হয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রেই এর অর্থ ব্যাবহত হয়েছে "সজীব ,সবুজ বা সতেজ" সরলভাবে বললে জীবন্ত।

আমরা ছোট বেলা থেকেই বিজ্ঞান বইয়ের মধ্যে পড়ে আসছি উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে আর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করা ( কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে অপারেশন এর পরের অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ ) যখন নবম দশম শ্রেণিতে উঠি তখন বুঝতে পারলাম উদ্ভিদ তার শরীর থেকে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং খাদ্য তৈরির জন্য আমাদের ত্যাগ করা কার্বনডাই অক্সাইড ব্যাবহার করে থাকে।

আমাদের মূল লক্ষ্য অক্সিজেনের আবিষ্কার কুরআন থেকে উদঘাটন করা। সাধারণভাবেই জানি অক্সিজেন পাওয়া যায় জীবিত উদ্ভিদ থেকে।  আল্লাহ তাআলা ঐ আয়াতটায় বললেন , "আগুনের উৎপত্তি জীবিত গাছ থেকে"। এখন একটু এলোমেলো—
আগুন এবং অক্সিজেনের পিতৃপুরুষের পরিচয় হচ্ছে জীবিত গাছ । 


আগুনের কথাটি পেয়েছি কুরআন হতে এবং অক্সিজেনের কথাটি বিজ্ঞান থেকে। রসায়ন বই যারা পড়েছেন তা হোক নাইন টেন কিংবা ইন্টারমিডিয়েটের বই সকলেরই কাছে পরিচিত দহন বিক্রিয়া । দহন বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য সর্বদাই প্রয়োজন হয় এই অক্সিজেন। দহন শব্দটা অনেকের কাছে কাছে অপরিচিত হলেও যারা জীবনে একবার ছ্যাঁকা খেয়েছেন কিংবা বাংলা সাহিত্যের সাথে জড়িত আছেন সকলেরই জানা দহন মানে পুড়িয়ে ফেলা বা জ্বালানো।

দহন বিক্রিয়াঃ CH4 ( মিথেন গ্যাস ) + O2 ( অক্সিজেন গ্যাস ) —→ হুতাশন ( সাহিত্যকরা ভালো করে জানবেন আগুনের সামর্থ্যক শব্দ এই হুতাশন ) এবং তাপ উৎপাদন।

এই পৃথিবীতে আগুন জ্বালাতে অক্সিজেনের বিকল্প নেই । মনে আছে ইতিপূর্বে বলেছিলাম খড়কুটো বা গ্যাস সিলিন্ডারে আমরা বিউটেন বা মিথেন গ্যাস পুড়ে থাকি। এই পুড়িয়ে ফেলার জন্যই প্রয়োজন অক্সিজেন। মিথেন,বিউটেন ,পেট্রোল, খড়কুটো ইত্যাদি সব কিছুই জ্বালানি বা দাহ্য পদার্থ এই পদার্থগুলোতে আগুন জ্বলে। কিন্তু এরা আগুনের সৃষ্টি করতে পারে না। 


উদাহরণ হিসেবে আপনার এক বন্ধু আপনার প্রেমিকাকে খুব পছন্দ করে। কিন্তু আপনার কারণে ও আর কিছুই করতে পারছে না । কেননা ঐ মেয়ে এবং আপনি দুজন দুজনকেই ভালোবাসেন। আপনার বন্ধুর এসব সহ্য হয় না এখন সে কিছু চোগলখোরী কাজ করলো যার ফলশ্রুতিতে আপনি এবং আপনার প্রেমিকা দুজনের রিলেশনে ফাটল ধরল আর আপনাদের ভালোবাসা ছিল একদম খাটি কিন্তু এখন এই ফাটলের জন্য আপনি এবং সেই মেয়ে কেঁদে কেঁদে দিন পার করছেন। যেন বুকটা পুইড়া ছাই হয়ে যাচ্ছে।

এইখানে আপনার বন্ধু হচ্ছে সেই অক্সিজেন( যে কিনা ফাটলের <আগুনের > সৃষ্টি করেছে ) এবং আপনি ও আপনার প্রেমিকা হইতেছেন দাহ্য পদার্থ ( যারা আগুন টাকে ধরে রেখেছেন ) । আর ঐ চোগলখোরী কাজ এইটাই হচ্ছে দহন বিক্রিয়া ( আগুন জ্বালানোর প্রক্রিয়া যা সর্বদাই আগুন জ্বালানোর সময় ঘটে থাকে) ।

আরেকটি পরিক্ষা করে নিতে পারেন এই মুহূর্তেই ঘরের মধ্যে কোনো মোমবাতি থাকলে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিন। এরপর তা একটা স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাস দিয়ে ঢেকে দিন দেখতে পাবেন পরক্ষনেই মোমবাতির আগুন নিভে গিয়েছে। কারণ একটাই কাঁচে গ্লাস দিয়ে ঢেকে দেওয়ায় অক্সিজেন এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে ফলস্বরূপ দহন বিক্রিয়া ঘটাতে পারে নাই এবং এই প্রজ্বলিত অগ্নি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। ( লক্ষ করুন সাধারণত অবস্থায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন ছিল যেটা উদ্ভিদ ত্যাগ করতো এবং বাতাসে ভেসে বেড়াতো । বায়ুতে এই অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৯৫% ধরা হয়ে থাকে। এজন্যই সাধারণ অবস্থায় আগুনটা জ্বলে ছিল । তবে গ্লাসে ঢেকে রাখায় অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল অতিব সামান্য এবং কয়েক সেকেন্ড পড়েই পুড়ে তা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং আগুন জ্বলতে পারেনা অথচ আমাদের কাছে জ্বালানি হিসেবে মোমছিল। কেবলমাত্র অক্সিজেনের অভাবে জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও আগুন জ্বলতে পারে নাই )।

এতক্ষণের বাক্য বিনিময়ে কেবল বোঝাতে চেয়েছিলাম অক্সিজেন বিহীন আগুন জ্বালানো অসম্ভব। এখন আসি আল্লাহর বাক্যে...
অক্সিজেন এর উৎপত্তিস্থল ঐ জীবন্ত উদ্ভিদ। আর আল্লাহর বললেন "আমি তোমাদের জন্য জীবন্ত উদ্ভিদ থেকেই অগ্নি উৎপাদন করি" এই কথাটা আল্লাহ তায়ালা এইজন্যই বলেছেন যে অগ্নি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। আর সেই অক্সিজেনটা আমি তোমাদের জীবন্ত উদ্ভিদ থেকেই দিয়ে থাকি।

এইখানে আল্লাহ অক্সিজেনের উৎপত্তি বা অস্তিত্ব সম্পর্কে সরাসরি কিছু বলেন নি ঠিকি কিন্তু ধাঁধা রেখে দিয়েছেন ।


অথচ আমার অবুঝ। মুখ দিয়ে কেবল গড়গড় করে কুরআন তিলাওয়াত করি । কিন্তু চিন্তা করি না। আল্লাহ তায়ালা কুরআনের অসংখ্য আয়াতে বারবার একই কথাই বলেছেন " নিশ্চয়ই চিন্তাশীল কওমদের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে" 
আশা করি সেই নিদর্শনের বিন্দুমাত্র হলেও আমরা এইখানে জানতে পেরেছি।

জাজাকাল্লাহ খ্বাইরান…

Comments

    Please login to post comment. Login