সিকিভাগ
এই নয়ন চেরা আলোর মধ্যে তোমার মুখ ক্ষিণই দেখা যায়, আমি বলছিনা তুমি সুন্দর না। তবে প্রেমের পূর্বশর্ত তোমার উপস্থিতি। যদি কল্পনা করা যায়, আজকাল সমস্ত সকাল বিকাল কেবল কল্পনা, যদি কল্পনা করা যায় তাহলে এই আধারে তুমি যতটা স্পষ্ট আলোয় তার সিকি ভাগও দেখতে পাইনা। কেবল একটু একটু মনে পড়ে যখন ছিল পাঁজর ভরে ছিল, এখন নেই নখের ফাঁকেও নেই।
প্রেমে সর্বদা একটা ভাব থাকে প্রেমাস্পদকে ছোট করে না লেখা।কিন্তু এখন লেখা লিখিতে বুঝি ছোট করে হলেও তোমার প্রকাশ জরুরি। আমি যখন ভাবি কেবল চেতনা থেকে উঠে আসে উৎপেরিটের ক্রন্দন রোল। যেনো ভালোবাসাই অন্তিম যন্ত্রণা।
আধারে যা শ্বাশত ভ্যাম্পায়ারের মতন, আলোয় কেবল চির লাগলেই ধুলি কোনার মতন উবে যায় তাই আলোয় দেখা মিলেনা। বিজ্ঞান বলছে কোথাও আত্ম নেই মস্তিষ্কে লেজে লেজে বারিতেই মূলত আমি, তদস্ত যেখানে বারি লেগে ফিরে আসে সেখানেও তোমার বাস। এসব এখন চিরায়ত সাহিত্য, মানে পুরানা। লোকে আমি চেষ্টা করি, করেছি নতুন করার আর তাতেই অনেকটা পথ পেরিয়ে গেছে। সময় আর স্থান মস্তিষ্কে বাস করে এতেই চতুর্মাত্রিক জগৎ, তার সাথে তুমি তাতেই পঞ্চমাত্রিক অস্তিত্ব।
এর বেশি আগলে শির্ক হয়ে যাবে। তাতে খোদাকে অবমাননা করে আমাদের কিছু হতে পারেনা। আবহমান কাল থেকে আমরা কেবল একটি চেতনার সঙ্গে লড়েছি, একটি বিস্তীর্ণ চেতনা যেখানে গল্প ছাড়া যা বুঝি ব্যাখ্যা করা যায়না। আমি তেমন গল্প জানিনা, তবে কাব্য মতন কিছু লিখি যতটুকুতে সৃষ্টিকর্তার অবমাননা হয় না।
আপদ দৃষ্টিতে যুদ্ধের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, প্রস্তুতি নেই। অথচ এতদূর আমার কেবল যুদ্ধ আছে, যেসব ইতিহাস পরি শেষটা যুদ্ধ আছে। আবার শুরুটাও সেইভাবেই হয়েছে। শুনেছি মৃতরাই যুদ্ধের শেষ দেখেছে কেবল, আমি এখনো জীবিত। কন্সিয়াসনেস তাই খান খান করে ফেলে যুদ্ধের ফুৎকারে।
দূরে ইটভাটা আকাশ মুখে ধোয়ার কুণ্ডুলি মাটি সিগারেটের মতন চুল্লি ব্যবহার করে। ফুসফুসের কোনো একটা বায়ুথলি ছিদ্র হয়ে গেছে হিরোশিমার। আমার লেখার দম তাই ফুরিয়ে আসে।
শেষে তোমায় ভাবতে যে অক্সিজেন লাগে, তা তোমার ভাবনাতেই ফুরিয়ে আসে। শুনেছি মানুষ যা কিছু পায়না আবার পায়, তার আদি থেকে অন্ত অত্যধিক জটিল হওয়ায় একটা ঘটনা, একটা বিষয় একটা দেওয়ালের উপরে এটে দেয় তার সব গল্পের হলফনামা।
এখন ভাবি আমার সেই দেওয়াল তুমি, অথচ সব দেওয়ালের উপরেই লেখা, ' এখানে পোস্টার লাগানো নিষেধ, আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ।’