রাজনৈতিক মতাদর্শ বা শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্র পশ্চিম থেকে এসেছে। খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে রাজতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের বাইরে প্রথম প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সুত্রপাত হয় গ্রিসের এথেন্সে।
পশ্চিমের গণতন্ত্রে নির্বাচন মানে শুধু নীতিমালা বা বক্তৃতা নয় -এটা একধরনের জনসম্মুখে জীবন উন্মোচন। আপনি কেমন নেতা, তার সঙ্গে আপনি কেমন মানুষ -এটাও সেখানে বিবেচ্য। আপনি পরিবার কীভাবে সামলান, আপনার সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক কতটা মর্যাদার, পারস্পরিক সম্মানের -সেটিও জনতার চোখে একটি রাজনৈতিক বার্তা। সর্বশেষ বিপুল ভোটে নির্বাচিত নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ও তাঁর স্ত্রী রামা দুয়াজির সম্পর্কের রসায়ন দেখেছি আমরা। ঠিক একইভাবে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে তারেক-জুবাইদা জুটির অতুল্য যুগলবন্দিতা দেখছি।
গেল ৩০ জানুয়ারি ১৯ বছর পর পিতৃভূমি বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে মধ্যরাতে অপেক্ষমান হাজারো অনুসারী ও অনুরাগীর সামনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের নিবিড় সঙ্গী হিসেবে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানের অবদানের কথা অকুণ্ঠ চিত্তে স্মরণ করেন।
তারেক রহমান বলেন, আমি এত রাতে মিটিং করছি, রাজনীতি করছি, আমার স্ত্রী যদি সহযোগিতা না করতেন, আমি কিন্তু পারতাম না। উনি আছেন বলেই আমি পেরেছি।
উত্তরবঙ্গ সফরের শুরু থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন জুবাইদা রহমান। সঙ্গী হিসেবে ছিলেন সিলেট, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর সফরেও। প্রচার গাড়ি থেকে জনসভার মঞ্চ-সবখানেই তাদের পাশাপাশি দেখা গেছে। স্ত্রীর সহযোগিতার উদাহরণ টেনে তিনি বগুড়াবাসীর সমর্থন চেয়ে বলেন, আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, আমাকে মানসিকভাবে শক্তি ও সমর্থন দেন, তবে ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে বাংলাদেশকে আমরা একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব।
তারেক রহমান বিভিন্ন পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠানে কন্যা জাইমা রহমানকে সাথে রাখছেন। কন্যাও জনসমক্ষে দেশের পলিসি মেকিং নিয়ে কথা বলছেন।
পরিবারের প্রতি তারেক রহমানের এই যে আলাদা কনসার্ন বা মনোযোগ -নিঃসন্দেহে এটি সর্বজনে ইতিবাচক বার্তা দেয়। লিডার হিসেবে আপনি যদি পরিবারে একজন সুখী মানুষ হন -সেই সুখটা দেশবাসীর মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়াটা খুব সহজতর হয়। উদ্দীপনাটা মন থেকে আসে। পরিবার বিচ্যুত মানুষ শাসক হিসেবে ব্যর্থ হতে পারে। তারেক রহমান দেখাচ্ছেন নারীদের তিনি সমান মর্যাদার চোখে দেখেন। ঘরের চারদেয়ালের বাইরেও নারীর বিস্তর কর্তব্য রয়েছে। তারেক রহমান তাই খুব সহজেই বলতে পারছেন -স্ত্রী সহযোগিতা না করলে তিনি রাজনীতি সামলাতে পারতেন না। রাজনীতি, গণতন্ত্র ও পরিবার; কেউ কারো পর না -অত্যুঙ্গ এই প্রেম ও সম্পর্ক একসূত্রে গাঁথা।
কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভুলবেন না যেন...
শষ্যক্ষেত্র উর্বর হ'ল, পুরুষ চালাল হল,
নারী সেই মাঠে শস্য রোপিয়া করিল সুশ্যামল।
নর বাহে হল, নারী বহে জল, সেই জল-মাটি মিশে’
ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল সোনালী ধানের শীষে,
পুরুষ-হৃদয়হীন,
মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক হৃদয় ঋণ।
লেখক: সাংবাদিক
৩১ জানুয়ারি ২০২৬