ইতি মৃণালিনী সিনেমার শেষ দৃশ্য যেখানে একজন নারী জীবনের সমস্ত না পাওয়াকে জমিয়ে ভাবছেন আজ'ই তার জীবনের শেষ দিন।তিনি এক মুঠো ঘুমের ওষুধ হাতে নিয়ে বসে আছেন,তিনি ঘুমিয়ে যেতে চাইছেন অতল ঘুমে।সমস্ত জীবন অই এক মুহুর্তে এসে ভিড় করেছে তার চারপাশে,আনন্দ,বেদনা,ক্ষত হয়ে।ভার হয়ে।
রোমন্থনে,চোখের জলে সকাল ফুটে উঠেছে,আজানের ধ্বনির সংগে একটা ছোট্ট মেসেজের জানান।তাতে শুধু লেখা "আমি আসছি"।
ব্যস, ওইটুকুই।
মাত্র দুই শব্দ।
কিন্তু সেই দুই শব্দ শুকনো খটখটে গাছের গায়ে নতুন পাতার মতো সবুজ হয়ে উঠল। হাতের ওষুধগুলো আবার বাক্সে ফিরে গেল। বুকের ভেতর কোথা থেকে যেন বাঁচার ইচ্ছে ফিরে এলো। মৃত্যু-ভাবনা পিছিয়ে গিয়ে জীবন আবার দরজায় কড়া নাড়ল।
জীবনও ঠিক এমনই।সিনেমার ওই দৃশ্যের মতো।
শত ব্যথা, শত ভার-কখনও কখনও কারও ছোট্ট উপস্থিতিতে, একটি শব্দে, একটি আশ্বাসে হালকা হয়ে যায়। আমরা বুঝতে পারি, শেষ বলে কিছু নেই।আছে কেবল বাঁক।

জীবন প্রত্যেকটা ক্লাইমেক্সের পর আবার একটা নতুন স্ক্রিপ্ট লিখতে শুরু করে।
জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত সত্য হলো সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ অনেক সময় আসে ঠিক সেই ঝড়ের পরেই, যে ঝড়ে তুমি বিভৎসভাবে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিলে।
ভাঙা গড়ার এই নিমিত্ত ধরেই মানুষ একদিন জেনে যায় সকল ভাঙনই আসলে রূপান্তরের দৃশ্য।