সাঁত্রে বলতেন, প্রেম মানেই হলো অন্যের দৃষ্টির মধ্যে বন্দি হয়ে যাওয়া।
সিমোন দ্য বেভোঁয়া বলতেন-আমি তোমাকে ভালোবাসি তোমার স্বাধীনতা নিয়ে, তোমাকে আমার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নয়।
প্রেমের প্রকৃত স্বরূপ হয়তো কখনোই ধরা পড়ে না।সে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো, কাছে এলেও আবার দূরে সরে যায়।
প্রেম মনে হয় কোনো মুষলসন্ধ্যায় বাড়ে গোলাম আলীর গলা থেকে ঝরে পড়া -ন্যায়না মোরে তারাস গায়ি/আজা বালাম পারদেশী।
উৎপল কুমার বসু কবিতার লাইন-
আমি তোমার স্বপ্নে-পাওয়া আঙুল,স্পর্শ করি জলের অধিকারে।
ভালোবাসায় অধিকার বড় ভারী শব্দ।অধিকার না থাকবার দায় বড় ভারবাহী।
কোন প্রেমে কাতর হয়ে কাফকা লিখেন-
প্রতিবার তোমাকে না লিখলে, আমি একটু একটু করে মরে যাই। নাটকীয়ভাবে নয়,বরং ধীরে।যেন নীরবতায় কাগজ পচন ধরছে।
কে জানে?
কে জানে কেনো প্লাথের শব্দের শোরে উঠে আসে-
আর তুমি ভাবো কেন আমি কবিতায় রক্ত ঝরাই। আমাদের কেউ কেউ লেখে ভালোবাসার প্রতিদানে না ফেরা ভালোবাসার ক্ষত থেকে বেঁচে থাকার জন্য।
আমি দূর থেকে তাকিয়ে থাকি।চোখের আয়তনে যতোটা জল মানুষের ধরবার কথা ছিলো,তারচেয়ে ঢের বেশী মানুষ ভালোবাসার ক্ষততে জমিয়ে রেখেছে।
মানুষের অস্তিত্ব মানুষকে ঠুকড়ে খেয়েছে অস্তিত্বহীনতার বোধে।কী যেনো নেই!কী যেনো আছে!
এই এক অস্থির ভাববক্রতা আরও বেঁকিয়ে গেছে জীবনে।
গভীর কার্তিকের রাতে জ্যোস্না খলবলিয়ে উঠলে সিদ্ধার্থ পাশ থেকে উঠে গেছেন যশোধরার।
তেরো বছরের অপেক্ষার ওপারে ধীরে ধীরে লিখেছেন নির্বাণ।
আর কোথা থেকে যেনো রণজিৎ দাশের কবিতা এসে ফিসফিসিয়ে বলেছে-সমস্ত মুক্তির পথে অন্ধ ভিখারির মত ভালোবাসা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে।
