মার্কিন সায়েন্স ফিকশন লেখক অক্টাভিয়া ই.বাটলারের নামে মঙ্গলগ্রহের একটি স্থানের নামকরণ করেছে নাসা। লাল এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না সেটি জানার জন্য ২০২১ সালে পারসিভের্যান্স রোভার নামের একটি রোবট যান পাঠানো হয়েছিল। এই মহাকাশ যানটি যে স্থানে অবতরণ করেছিল, সেটির নামকরণ কিংবদন্তী এ লেখকের নামে করা হয়।
মহাকাশযান পারসিভের্যান্স রোভার ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলগ্রহের জেজেরো ক্রেটারের একটি স্থানে নিরাপদে অবতরণ করে। ঐতিহাসিক এ ঘটনার পাঁচ দিন পরেই বাটলারের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখকের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল নাসা।
২০০৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মারা যান মেধাবী এ লেখক। তিনি ১৯৮৮ সালে ‘অ্যাডাল্টহুড রাইটস’ নামে একটি উপন্যাস লিখেন। সেখানে মঙ্গলগ্রহে মানব বসতির কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে তিনি এই সম্মানের যোগ্য বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।
নাসার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর থমাস জুরবুচেন বলেছিলেন, গল্প লেখার সময় অক্টাভিয়া বাটলার যখন বিজ্ঞানের প্রসঙ্গ এনেছেন, তখন তা যথাযথভাবেই ব্যবহার করেছেন। তার কাজ এখনো বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের অনুপ্রেরণা দেয়।
উল্লেখ্য, অক্টাভিয়া ই.বাটলার যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় এবং প্রশংসিত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক। তিনিই প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী যিনি একইসঙ্গে হুগো এবং নেবুলা অ্যাওয়ার্ড জয় করেন। এই অ্যাওয়ার্ড দুটি সায়েন্স ফিকশনের জন্য দেওয়া সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার। এছাড়া তিনিই প্রথম সায়েন্স ফিকশন লেখক, যিনি ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ পান। তার উল্লেখযোগ্য বই হলো, ‘কিনড্রেড’, ‘ব্লাডচাইল্ড’, ‘স্পিচ সাউন্ড’, ‘প্যারাবল অব দ্য সোয়ার’, ‘প্যারাবল অব দ্য ট্যালেন্টস’।
সূত্র: স্পেস.কম