প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”
ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।
https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

ডিপ্রেশন এর দুনিয়া
সকাল সাতটা বাজে। অ্যালার্ম বাজছে ঠিক সময়ে। কিন্তু রাহাতের হাতটা মোবাইলের দিকে যায় না। সে শুয়ে আছে, চোখ খোলা, ছাদের দিকে তাকিয়ে। অ্যালার্মটা বাজতে বাজতে ক্লান্ত হয়ে নিজেই থেমে যায়।
আজ অফিসে যাওয়ার কথা ছিল। গতকালও ছিল। পরশুও। কিন্তু প্রতিদিন সকালে একই জিনিস মনে হয়—যদি না উঠি, তাহলে কী এমন ক্ষতি হবে? পৃথিবীটা কি থেমে যাবে? না। কেউ কি মরে যাবে? না। তাহলে উঠে লাভ কী?
রাহাত উঠল না।
দুপুর একটা। ফোনটা কাঁপছে। মা ফোন করছে। স্ক্রিনে “মা” লেখাটা দেখে তার বুকের ভেতরটা একটু কেঁপে উঠল। কিন্তু হাতটা তবু নড়ল না। কলটা মিস হয়ে গেল। দুই মিনিট পর আবার কল। আবার মিস। তৃতীয়বার মেসেজ এলো—
“বাবা, খেয়েছিস? অফিসে গেছিস?”
রাহাত চোখ বন্ধ করল। জবাব দেওয়ার কথা ভাবল। কিন্তু কী বলবে? “না মা, আমি আজও বিছানায় পড়ে আছি। আমার কিছু করতে ইচ্ছে করছে না। আমি বেঁচে থাকতে চাই না।” এসব কথা কি মাকে বলা যায়?
সন্ধ্যা ছয়টা। জানালা দিয়ে আলো কমে আসছে। রুমটা অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। রাহাত তবু লাইট জ্বালাল না। অন্ধকারটা তার কাছে বেশি আরামদায়ক লাগে। আলোতে নিজেকে দেখতে হয়। আর নিজেকে দেখলে মনে হয়—এই মানুষটা কেন বেঁচে আছে?
রাত নয়টা। ফ্রিজ খুলল। একটা পানির বোতল নিল। খিদে পেয়েছে, কিন্তু খাবারের কথা ভাবতেই বমি পায়। তাই শুধু পানি। বিছানায় ফিরে এসে বসল। ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রল করতে করতে দেখল বন্ধুরা সবাই গল্প করছে, ছবি দিচ্ছে, হাসছে। রাহাতের মনে হল—ওরা সবাই অন্য গ্রহের মানুষ। ওদের দুনিয়াটা রঙিন। তার দুনিয়াটা শুধু ধূসর।
রাত বারোটা। চোখে ঘুম নেই। মাথার ভেতর একটা আওয়াজ বারবার বলছে—
“তুই অকেজো।
তোর কোনো দাম নেই।
সবাই তোকে ছাড়া ভালো থাকবে।
তুই শুধু বোঝা।”
রাহাত চোখ বন্ধ করে কান চেপে ধরল। কিন্তু আওয়াজটা বন্ধ হয় না। কারণ আওয়াজটা তার ভেতর থেকেই আসছে।
সকাল আবার এলো। অ্যালার্ম আবার বাজল। রাহাত আবার তাকিয়ে রইল ছাদের দিকে।
এই দুনিয়াটার নাম ডিপ্রেশন।
এখানে সময় থেমে থাকে না, কিন্তু মানুষটা থেমে যায়।
দিনগুলো একই রকমের হয়ে যায়।
আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হল—এই দুনিয়ায় থেকেও মনে হয় যেন তুমি কোথাও নেই।
রাহাতের গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
কারণ এই দুনিয়ায় কোনো গল্পের শেষ থাকে না।
শুধু একটা লম্বা, ধূসর, নিঃশব্দ অপেক্ষা থাকে।
কখনো কেউ এসে হাত ধরে টেনে বের করে নিয়ে যায়।
কখনো নিজের ভেতরের কোনো ছোট্ট আলো জ্বলে ওঠে।
আর কখনো... কখনো মানুষটা শুধু শুয়ে থাকে।
আর অপেক্ষা করে।
কিছু একটা হওয়ার।
কিছু একটা না হওয়ার।
(শেষ)