Posts

গল্প

শৈশবের কালো রাত

February 5, 2026

MD ABIR

16
View

হ্যালো। সবাই কেমন আছেন? আশা করছি ভালো আছেন।আজকে আমি একটি গল্প বলবো আমাদের শৈশব কাল নিয়ে। তার আগে আমি আমার পরিচয় দিয়ে নি।আমার নাম আবির। আমি একজন শিক্ষার্থী।গল্প শুরু করা যাক:
আজকে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে  আমি,শামিম,শাকিব,মমিন,তছিন,সাঈদ মিলে এসেছি আমাদের গ্রামের বাড়িতে। বাড়িতে আসার পর পরই আমার মা এবং আমার আদরের ছোট বোন রিমি আমাদের সবাইকে ঘড়ে নিয়ে বসালো।তারপর আমরা সবাই ফ্রেশ হয়ে এলাম।আমার মা আমাদের খেতে ডাকলেন।আমরা সবাই খেতে গেলাম।খাওয়া শেষে আমরা সবাই একটু বিশ্রাম নিলাম।বিকেলবেলা আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে বাইরে গেলাম আমাদের গ্রামটা দেখানোর জন্য।আমাদের গ্রামটি আসলেই অনেক সুন্দর। চারপাশে ফসলের মাঠ।মাঠে মাঠে সবুজ ফসল।ক্ষেত ভরা ধান।পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী।নদীর অপর পাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে দানব আকৃতির বিশাল বিশাল বট গাছ।আমি তাদেরকে গ্রামটি ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছি। তারাও আমার সাথে গ্রামটি দেখছে ও মুগ্ধ হচ্ছে। আমরা নদীর ধারের সুরু আঁকা বাকা পথ দিয়ে হাঁটছি। এমন সময় হঠাৎ দেখা হলো আমার ছোট্টবেলার সবচেয়ে কাছের বন্ধু রহিমের সাথে।রহিম আমাকে দেখে আনন্দের সাথে আমার কাছে আসলো আর বললো কেমন আছিছ আবির।আমি বললাম, ভালো।তা তুই এখন কি করিস?রহিম বললো আর কি করব বাবার সাথে মাঠে চাষের কাজ করি। তখন রহিম বললো তুই কখন এসেছিস।আমি বললাম ওই দুপুরে এসেছি।তারপর রহিম বললো বন্ধু এরা কারা?আমি বললাম এরা হলো আমার কলেজের বন্ধু।তাদের কে বললাম এটা আমার ছোট্ট বেলার বন্ধু।তখন আমার বন্ধুরা রহিমের সাথে পরিচিত হল।তারপর আমরা একটা বট গাছের নিচে বসলাম।আমার বন্ধুরা রহিমকে বললো আপনার আর আবিরের ছোট্ট বেলার ঘটা একটি কাহিনি বলেন।তারপর রহিম আমাকে বললো ঐ কালো রাতের কথা বলবো।আমি বললাম না।ঐটা বলিস না।তখন যেন তাদের আগ্রহ আরো বেড়ে গেলো।তাদের জোরাজুরিতে রহিম বলতে লাগলো, শুন তবে,তখন আমরা ছোট। তেমন কিছু তখন বুঝি না।একদিন আমি আকাশ আর আবির সন্ধার সময় কালিপুর জঙ্গলের পাশে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম।তখন মমিন বলে উঠল এই আকাশ কে?রহিম বললো সব বলছি মন দিয়ে শুনো।রহিম আবার বলতে লাগলো সবার মনে একটা অজানা ভয় তখন কাজ করছে।কারণ বড়রা বলে এ কালিপুর জঙ্গলে নাকি ডাকাত থাকে।তারা মানুষ দেখলে তাদের কাছে যাকিছু আছে সেকল জিনিস নিয়ে যায়।আমাদের ভয়ের কারণ ছিল আকাশের  খালার বাড়ি শেরপুর থেকে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে আমরা তিনজন ফিরছিলাম কালিপুর জঙ্গলের পাশে দিয়ে। হঠাৎ সামনে তাকিয়ে দেখি ৫/৬ জন মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।তাদের হাতে ভয়ংকর জিনিসপত্র। আমাদের আর বুঝতে বাকি রইল না তারা ডাকাত দল।আমরা তখন কি করব। কোনো উপায় না পেয়ে আমরা আল্লাহর নাম মুখে নিয়ে এগুলাম।তাদের সামনে যেতেই একজন বলে উঠল এদিকে আয়।আমরা তখন ভয়ে হাটঁতে পর্যন্ত পারছিলাম না।তখন ঐ লোক ধমকের সাথে বললো কিরে ডাকছি না তোদের।আমরা তিন জন কোনো উপায় না পেয়ে জঙ্গলের ভিতরে দৌড় লাগালাম।দৌড়ে আমরা একটা ভাঙ্গা বাড়িতে গিয়ে পৌছালাম।আমরা একটা রুমে আশ্রয় নিলাম।হঠাৎ আমরা কার যেন আসার শব্দ পেলাম।আমরা দ্রুত লুকাতে গিয়ে আবির লুকাতে পাড়েনি।কিন্তু আমরা তখন লুকিয়ে গিয়েছি।তারা ঐ ডাকাত দল।তারা আবির কে ধরে নিয়ে গেল।আমাদের তখন কিছু করার ছিল না।আমরা শুধু দেখতেছি।আবিরকে নিয়ে যাওয়ার পড় আমি বললাম নারে আবির আমাদের বন্ধু।তাকে আমাদের বাচাঁতে হবে।তখন আকাশ বললো চল তাহলে তাদের পিছু করি।তখন আমরা দুই জন তাদের পিছন নিয়ে তাদের আড্ডা পর্যন্ত পৌঁছাই।সেখানে দেখি তারা আবিরকে হাত মুখ বেধে ফেলে রেখে কোথায় চলে গেল।আমরা দ্রুত গিয়ে আবির কে সেখান থেকে রক্ষা করে যেই পালাতে যাবো দেখি তাদের মধ্যে একজন আমাদের দেখে ফেলেছে।সে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল এই তরা সবাই আয়।বাকি দুইটাকেও পেয়েছি। তখন আমরা তিন জন দৌড়ে পালাতে লাগলাম।তারা সবাই আমাদের পিছন করতে লাগলো।তারা যখন আমাদের কাছে চলে আসে তখন আমরা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গেছি।আমরা চিৎকার করে মানুষ কে ডাকতে লাগলাম।হঠাৎ আকাশ ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়েগেল।তারা আকাশ কে ধরে ফেললো।তারা চিৎকার করে আমাদের বললো থাম না হলে তোদের বন্ধুকে মেরে ফেলবো।আমরা থামলাম না।হঠাৎ একটা চিৎকারের শব্দ শুনে পিছনে তাকাতেই দেখি আমাদের বন্ধু আকাশকে তারা। এটুকু বলে রহিম থেমে গেল।তখন সাঈদ বললো তারপর কি হলো?রহিম আবার বলতে লাগলো,পিছনে তাকিয়ে দেখি আকাশকে তারা মেরে ফেলেছে।আকাশের লাশ মাটিতে পড়ে আছে।আবির তখন থেমে গেল।তখন আমি তাকে বললাম, এখন থেমে গেলে হবে না।তারপর আমরা দুজন নিজের প্রাণ বাচিয়ে বাড়ি ফিরি।তারপর আমরা বাড়ির লোকদের কাছে এটি জানাই।তারা আশ্চর্য হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা তখন কান্না করছি।তারপর আমরা আমাদের অবিভাবকের সাহায্য নিয়ে আকাশের বাবা-মা কে সকল ঘটনা খুলে বলি।আমাদের কথা শুনে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।আমরা সকলে তাদেরকে বুঝিয়ে থামানোর চেষ্টা করি।তারপর থেকে আমরা আজও রাতে মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে ঐ রাতের সেই ভয়ংকর কথা মনে পড়লে আতকে উঠি।তারপর মমিন,সাঈন,শামিম,তছিন,সাকিব তারা বললো,এটি খুবই দুঃখজনক।আমরা এ ঘটনা জেনে আসলেই অনেক দুঃখ পেয়েছি।সবশেষ আমরা সবাই বাড়ি ফিরে এলাম।
এই ছিল আমাদের আজকের গল্প শৈশবের কালো রাত।ধন্যবাদ সবাইকে গল্পটি পড়ার জন্য। ভালো লাগলে আমাদের পাশে থাকবেন।এরকম আরো গল্প দিব ইনশাআল্লাহ

Comments

    Please login to post comment. Login