আমি সেই শেষ দলে
~ শরীফ এমদাদ হোসেন
একটা সময় আসে
যখন মানুষ আর বাড়ির কথা ভাবে না
ভাবতে থাকে, সে কোথা থেকে এসেছে আর
কোথায় কীভাবে সরে এসেছে
একদম নিজের অজান্তে।
আমি এখন শহরে থাকি না, গ্রামেও না
আমি থাকি দুই ক্লান্তির মাঝখানে
যেখানে স্মৃতি আর প্রয়োজন
একসাথে বসে দর কষাকষি করে।
আমার ঘর বলতে এখন
শুধু চারটে দেয়াল নয়, একটা অভ্যাস
ঘুমের আগে জানালার দিকে তাকানো
যেন কেউ ডাকবে অথচ ডাকেনি কখনও কেউ।
আমি যে বাড়িটার কথা ভাবি
সে বাড়ি ইটবালি পাথর দিয়ে বানানো না
কাঠ বাঁশ বা কোন ছাওনি দিয়েও না
সে বাড়ি বানানো হয়েছিল, কথা অসম্পূর্ণ রেখে
কথা বলা হয়নি, বলা উচিত ছিল
কিছু বললে হয়তো বা সবকিছু বদলে যেত।
ওখানে দুপুর লম্বা হয়ে গড়িয়ে যেত না
সময় বসে থাকত
একটা চেয়ারও খালি থাকত সবসময়—
কার জন্য, তা জানত না কেউ।
আমি বুঝতাম—সব ঘরে মানুষ থাকে না
কিছু ঘরে থাকে ফিরে আসার সম্ভাবনা।
পরে শিখলাম
উঁচুতে থাকলে নিচের দিকে কম তাকাতে হয়
নিচে তাকালে মনে পড়তে শুরু করে
যে জিনিসগুলো ফেলে এসেছি, যার এখন
প্রয়োজন ফুরিয়েছে।
এখন আমার চারপাশে
সব আছে— আলো, শব্দ, সুবিধে।
কিন্তু কোথাও এমন জায়গা নেই
যেখানে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুলে রাখা যায়।
আমি জানি না
আমি যে জায়গাটাকে “বাড়ি” বলি
সেখানে আদৌ কোনওদিন বাড়ি ছিল কিনা
হতে পারে—ওটা শুধু একটা সময়
যখন আমি নিজের সঙ্গে
এতটা হিসেব করে কথা বলতাম না।
আজ সেই সময়ের জন্য কোনও রাস্তা নেই
কোনও মানচিত্র নেই।
শুধু মাঝে মাঝে মনে হয়—
যদি আরেকটু দেরি করে বের হতাম
যদি একবার পেছন ফিরে তাকাতাম
তাহলে হয়তো এইভাবে হারিয়ে যেতে হতো না।
কিছু মানুষ ঘর ছাড়ে, কিছু মানুষ ঘর বদলায়
আর কিছু মানুষ সারাজীবন
একটা না-ফেরা জায়গা বয়ে নিয়ে বেড়ায়।
আমি সেই শেষ দলে।