২০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজার মধ্যেই একুশে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি। আর একাডেমির এই সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে মনে করছেন প্রকাশকদের একটি অংশ। ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে একথা বলেছেন প্রকাশকরা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হলে তা ‘প্রাণহীন’ হবে। রোজার দিনে মেলা শুরু হলে পাঠক-দর্শনার্থীরা মেলায় আসবে না। ফলে পাঠক এবং ক্রেতা ছাড়া বইমেলা নিষ্প্রাণ সরকারি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাতে ‘মানবিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয়’ মেনে নেবে না প্রকাশক সমাজ। স্টলকর্মীরা মেলার প্রাণ। তাদের অধিকাংশই ছাত্র। সারা দিন রোজা রেখে, ইফতার ও দীর্ঘ তারাবির নামাজের পর এসব শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্টলে কাজ করানো কি অমানবিক নয়? বাংলা একাডেমি কি এই মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের দায় নেবে?
এদিকে ৫ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। কারণ ইতোমধ্যেই মেলা আয়োজনের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
এরপর প্রকাশকদের একটি অংশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত দেড় বছরে কাগজ ও উপকরণের দাম বেড়েছে এবং বিক্রিতে মন্দায় প্রকাশনা শিল্প এমনিতেই ধুঁকছে। এই সময়ে জোর করে একটি ব্যর্থ মেলা চাপিয়ে দিয়ে প্রকাশকদের নিশ্চিত লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ৩২টি প্যাভিলিয়ন ও ১৫২টি স্টলের প্রকাশকরা লিখিতভাবে রোজার মধ্যে মেলা না করার এবং ঈদের পরে মেলা আয়োজনের পক্ষে সম্মতি ও স্বাক্ষর দিয়েছেন। এই বিশাল অংশকে বাদ দিয়ে মেলা আয়োজন করলে তা ইতিহাসের অন্যতম ব্যর্থ ও কলঙ্কিত আয়োজন হিসেবে গণ্য হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী প্রকাশকেরা হলেন মেছবাহউদ্দীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউস), এ কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), মনিরুল হক (অনন্যা), সৈয়দ জাকির হোসাইন (অ্যাডর্ন), জহির দীপ্তি (ইতি প্রকাশন), মাহ্রুখ মহিউদ্দীন (ইউপিএল), মাহাবুব রাহমান (আদর্শ), মোবারক হোসেন (পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক, প্রথমা প্রকাশন), ইকবাল হোসেন সানু (লাবনী), মিজানুর রহমান (শোভা প্রকাশ) এবং ইফতেখার আমিন (শব্দশৈলী)।