অরণ্যের এক অলৌকিক সুরের উপাখ্যান
রূপনগর গ্রাম আর নীল পাহাড়ের মাঝখানে যে অদৃশ্য দেয়াল, তা যুগের পর যুগ ধরে টিকে আছে একরাশ ভয় আর রহস্যের চাদরে। গ্রামের প্রবীণরা বলেন, ওই পাহাড়ে বাতাসেরও কান আছে। কিন্তু নীলুর কাছে এসব ছিল নিছক গাঁজাখুরি গল্প।
ঘটনার সূত্রপাত:
এক সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে তর্কের খাতিরে নীলু এক বিপজ্জনক বাজি ধরে বসে। তাকে প্রমাণ করতে হবে যে পাহাড়ের নিষিদ্ধ সীমানায় কোনো ভূত নেই, আছে শুধু দুর্লভ 'নীল চন্দ্রমল্লিকা'।
পাহাড়ের গহীনে:
পাহাড়ের বাঁকে যখন অন্ধকার ঘন হয়ে এল, নীলু লক্ষ্য করল বনের স্বাভাবিক শব্দগুলো হঠাৎ থেমে গেছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক নেই, পাতার মর্মর নেই—চতুর্দিক যেন এক বিশাল শূন্যতায় ডুবে গেছে। ঠিক তখনই কানে এল সেই বাঁশির সুর। কোনো বাদ্যযন্ত্রের সুর এত জীবন্ত হতে পারে, তা নীলুর কল্পনার বাইরে ছিল।
"প্রকৃতির রহস্যকে যে তুচ্ছ করে, প্রকৃতি তাকে নিজের ভাষায় উত্তর দেয়।"
বাঁশির সুর অনুসরণ করে নীলু যখন বৃদ্ধের সামনে দাঁড়াল, সে দেখল একজোড়া শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। বৃদ্ধের বাঁশিটি ছিল সাধারণ বাঁশের নয়, যেন কুয়াশা দিয়ে তৈরি। বৃদ্ধ তাকে জানালেন, পাহাড়ের ফুলগুলো আসলে পাহাড়ের স্বপ্ন। আর নীলু সেই স্বপ্ন চুরি করতে এসেছে।
পরিবর্তন:
বৃদ্ধের কথাগুলো নীলুর কানে পৌঁছাচ্ছিল না, সরাসরি তার হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। নীলু বুঝতে পারল, তার এই 'সাহস' আসলে এক ধরণের অহংকার। সে মাথা নিচু করে ক্ষমা চাইতেই চারপাশের কুয়াশা নীল ফুলের সৌরভে ভরে উঠল।