দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বাংলার মানচিত্র,
সুন্দরবনের ছায়ায় লেখা তার চিত্র।
বঙ্গোপসাগর ডাকে নোনা হাওয়ার সুরে,
সাতক্ষীরা দাঁড়ায় ইতিহাসের নূরে।
একদা ছিল জল, কাদা আর বনভূমি,
মানুষের স্পর্শে জেগে ওঠে এই ভূমি।
সপ্তম শতাব্দীতে ভদ্রবংশের শাসন,
কপোতাক্ষ তীরে কোঠাবাড়ি—রাজাসন।
ভদ্রবংশের পূজায় দুর্গার আরাধন,
এ জনপদের প্রাচীন পূজার বন্ধন।
মহিষাসুরমর্দিনীর বীর সন্তান,
বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র—গৌরবের গান।
সাতঘরিয়া ছিল আদি পরিচয়,
বিষ্ণুরাম গড়লেন জনপদের নয়নছায়।
প্রাণনাথ আনলেন কুলীন সমাজ,
নামে-গৌরবে গড়ে উঠল নতুন সাজ।
প্রতাপাদিত্যের যশোহর রাজ্যখানি,
কালিগঞ্জ-শ্যামনগর জানে সেই কাহিনি।
বারোভূঁইয়ার গর্বে দীপ্ত এ অঞ্চল,
ইতিহাসে জ্বলজ্বল প্রতাপের আলোঝল।
হেংকেলের হাতে শাসনের পথ,
আদালত বসে, গড়ে ওঠে রথ।
নদীয়া-পরগনা-খুলনার টানে,
মহকুমা ঘুরে সময়ের টানে।
অবশেষে আসে সেই গৌরবের দিন,
উনিশশো চুরাশি—নতুন অধীন।
জেলায় রূপ নেয় সাতক্ষীরার নাম,
বাংলাদেশ পায় এক দীপ্ত পরিচয়-ধাম।
আজ উপজেলা সাত, ইউনিয়ন বহুরূপ,
গ্রাম-শহরে বাজে উন্নয়নের ঢাক-ঢুপ।
সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো জনপদ,
সাতক্ষীরা—ইতিহাসে অমর, ভবিষ্যতে অদম্য পদ।
9
View