খলিষখালীর কোণে, নিভৃতপল্লীর কোণে,
বসে আছে পাল পাড়া, মাটির মধুর আলোকে।
বারুইপাড়া, হোড়, দাশ, আঁশ—সব মিলিয়ে এক পরিবার,
প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি প্রাণ, যেন এক আলোর স্রোতধারা।
ভোরের কুয়াশা যখন মাঠে নেমে আসে,
পুরুষেরা উলু-গুজি, ঝুড়ি হাতে বের হয় যত্নে।
পানের বরজে ঝলমল করে শিশিরভেজা আলো,
মাটির সুগন্ধে ভরে যায় চারপাশ, প্রকৃতির আলো।
পান শুধু ফসল নয়, জীবনধারার রস,
বিয়ে, পূজা, অতিথি—সবকিছুতে তার উপস্থিতি অমলিন।
বরজ বাঁধা, ল বাঁধা, পাতা কাটা, শ্রমিকের যত্নে,
প্রতিটি কাজ যেন প্রজন্মের গল্পে লেখা চিরন্তন মধুর নৃদ্ধ্বনি।
পাল পাড়ার মানুষ পরিশ্রমী, ধার্মিক ও বিনম্র,
সুখ-দুঃখে একসাথে, জীবনযাত্রায় সব মিলিয়ে অনন্য।
মধুসূদন, বিদ্যা, নিখিল, কার্তিক—শিক্ষায় আলোর প্রদীপ জ্বালায়,
দ্বীনবন্ধু, কালিপদ, সমীর, সুমন—ব্যবসা ও ব্যাংকিংয়ে স্বর্ণালী ছাপ রাখে।
রাজীব পাল, স্বপ্ন দেখার প্রেরণা,
শিশুদের আধুনিক শিক্ষার সমান সুযোগ দিতে অবিরাম প্রচেষ্টা।
মিঠুন পাল, সি.এ.—গ্রামের গর্বের নাম,
বিষ্ণুপদ, তাপস, উজ্জ্বল—শিক্ষাক্ষেত্রে অমূল্য দান।
মন্দিরগুলো গ্রামের আত্মা, ভক্তির আশ্রয়,
রাধা-গোবিন্দ, লোকনাথ, কালী—সন্ধ্যায় সুরে ভরে যায় ময়।
শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টার সুর, আলোর ঝলক—
পুরো গ্রাম হয়ে ওঠে উৎসবের রঙে উজ্জ্বল।
পাল পাড়া শুধু গ্রাম নয়, এটি গল্পের ঠিকানা,
মাটির গল্প, মানুষের গল্প, ঐতিহ্যের আলোযাত্রা।
পরিশ্রম, ধর্ম, সংস্কৃতি আর শিক্ষা মিলে,
এখানকার মানুষ গড়ে তোলে সম্ভাবনার দিগন্তে এক দীপ্তিময় দিগন্তচিহ্ন।
সুখে-দুঃখে একসাথে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম,
মাটি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে তৈরি করে জীবনধারার সুরম্য বাণী।
পাল পাড়া, বারুইপাড়া—একা নয়, বরং এক পরিবার,
যেখানে মাটির গল্প আর মানুষের গল্প মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক চিরন্তন পরিবার।
22
View