খলিষখালী পোস্ট অফিস আমাদের গ্রামের একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি প্রায় ৭০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখন থেকে এটি শুধুমাত্র চিঠি বা পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং গ্রামের মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। গ্রামের মানুষ এখানে নিত্যদিনের যোগাযোগ, সরকারি লেনদেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম, এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে খলিষখালী পোস্ট অফিস শুধু স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন মেটানোর কাজই করেনি, বরং এটি গ্রামের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
আমি ২০১৭ সালে খলিষখালী পোস্ট অফিসে যোগদান করি। তখন থেকে প্রতিদিন এখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনন্য ও শিক্ষণীয়। প্রতিদিন আমি গ্রামীণ মানুষের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হই—চিঠি পৌঁছে দিই, পার্সেল প্রেরণ করি, সরকারি নথি ও লেনদেন সম্পন্ন করি। এখানে কাজ করতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, পোস্ট অফিস কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত অনুভূতি, বিশ্বাস এবং সমন্বয়ের প্রতীক।
খলিষখালী পোস্ট অফিসের ৭০ বছরের ইতিহাস আমাদের গ্রামের নানা ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী। এই সময়ে অনেক প্রযুক্তি পরিবর্তিত হয়েছে, মানুষ ডিজিটাল যোগাযোগের দিকে ঝুঁকেছে, কিন্তু এই পোস্ট অফিসের গুরুত্ব কখনো কমেনি। প্রতিটি চিঠি, প্রতিটি পার্সেল, প্রতিটি লেনদেন এখানে একটি গল্পের মতো। যারা এখানে কাজ করেছেন, তারা শুধু সেবা প্রদান করেননি, বরং গ্রামের মানুষের সাথে একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যা সময়ের সঙ্গে শক্তিশালী হয়েছে।
আমি আমার কাজের মাধ্যমে এই দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ হতে পেরে গর্বিত। প্রতিটি সকাল এখানে আসা মানে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করা। প্রতিটি গ্রাহকের সঙ্গে কথোপকথন, তাদের সমস্যার সমাধান, তাদের খুশি ও কৃতজ্ঞতা—সবই আমাকে প্রেরণা দেয়। আমি অনুভব করি, খলিষখালী পোস্ট অফিস শুধু একটি অফিস নয়, এটি আমাদের গ্রামের জীবনধারার অংশ, আমাদের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক।
সাত দশকের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত খলিষখালী পোস্ট অফিস আজও আমাদের গ্রামে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এটি আমাদের অতীত ও বর্তমানকে সংযুক্ত রাখে এবং ভবিষ্যতের সেবার প্রতিশ্রুতি বহন করে। আমি গর্বিত যে, আমি এই প্রতিষ্ঠানের একটি ছোট্ট অংশ হতে পেরেছি এবং আশা করি, আমার কাজ আগামী প্রজন্মের জন্যও এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও ইতিহাসকে রক্ষা করবে।
20
View