Posts

সমালোচনা

বর্তমান যুগে নারী উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ

February 11, 2026

Morshedafariha81

21
View

 জীবনের অর্থ স্বপ্ন নিয়ে পথ চলা।স্বপ্ন ছাড়া জীবন অর্থহীন। স্বপ্ন আছে মানেই জীবনের স্বাদ আছে।প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন আলাদা। সেই স্বপ্ন একজন নারীর জীবনে অন্যতম অর্থ বহন করে।কেননা নারী নানা ভূমিকায় নিজ জীবনে চরিত্র বহন করে।নারী কখনো মা,কখনো বোন,কখনো নিজ পরিবারের দ্বায়িত্ব বহন করা এক যোদ্ধা।বিশ্বায়নে নারী অগ্রযাত্রা অতুলনীয়। অগ্রযাত্রা শব্দটার মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা লুকিয়ে থাকে যেটা মূলত কয়েকটা কালকে সংযুক্ত করে এগিয়ে চলে। কালের ব্যাপ্তি হতে পারে দশক, হতে পারে অর্ধ শতাব্দী অথবা শতাব্দী পরিমাণ।

ধাপে ধাপে কালের সেই যাত্রা সমাজকে কখনো অগ্রবর্তী করেছে কখনো আবার পশ্চাৎমুখী। কারণ প্রতিটা পদক্ষেপেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে, আছে আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা, আছে অবদমন করার নেতিবাচক মানসিকতা। আমরা দেখি নারী উদ্যোক্তা নামের একটি বিশেষ জায়গা।যেখানে নারী রা একা হাতে ঘরে বাহিরে উভয় স্থানে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন।যেখানে দেশের অর্থায়নে বিরাট ভূমিকা রাখছে।কিছু বিশেষজ্ঞদের বয়ানে দেখা যাচ্ছে ২০ সালের মহামারির আগে অর্থনৈতিক ফোরামে যার সংখ্যা ছিলো ১লক্ষের ও কম।সেখানে বর্তমান বাজারে তার সংখ্যা ৩ লক্ষের ও বেশি।যা দেশের অর্থনীতিতে রাখছে বিরাট ভূমিকা পাশাপাশি পূরণ করচ্ছে অসংখ্য নারীর স্বপ্ন ।

নারী উদ্যোক্তা সেলিনা আপার কথায় বলি-যার বয়ানে উদ্যোক্তা কি, উদ্যোক্তা এর মাঝে স্বপ্ন পূরণ ইত্যাদি দিক বিবেচনায় রেখে উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প বহুল আলোচিত।"উদ্যোক্তা শব্দটা ছোট হতে পারে, কিন্তু এর ওজন অনেক। তাই কেউ শখের বশে উদ্যোক্তা হতে চাইলে প্রথমেই তাকে নিষেধ করি। উদ্যোক্তা হয়ে উঠার কিছু প্রক্রিয়া আছে। প্রথমেই তাকে মাইন্ড-সেট করতে হবে। 

প্রতিটা উদ্যোগের পিছনে নির্দিষ্ট একটা উদ্দেশ্য থাকতে হবে। সোশ্যাল মেসেজ থাকতে হবে; বা কোনও সমস্যার সমাধান। আইডিয়াটা হওয়া উচিৎ অন্যদের চাইতে ইউনিক। তার জন্য সবার আগে মার্কেটটা জরিপ করা প্রয়োজন। জানা দরকার কি ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করলে উদ্যোগটা সফল হবে। আর অবশ্যই সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রত্যেকের উচিত একটা বিজনেস প্ল্যান নিয়ে আগানো। পাশাপাশি কিছু বিষয় সম্পর্কে ছোট ছোট কর্মশালা করতে পারলে ভাল। যেমন: ডিজিটাল মার্কেটিং, ফাইনান্স, কাস্টমার মানেজম্যান্ট ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রথম ৬ মাস বা ১ বছরে কোনও ধরনের রিটার্ন আশা না করা। ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং অবশ্যই সৎ থাকতে হবে। তবে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। মনে সাহস নিয়ে শুরু করাটা অনেক বড় ব্যাপার।কাজের বড় বড় ধাপ না ভেবে আগে ছোট ছোট ধাপ চিন্তা করতে হবে।কেননা আমরা জানি বিন্দু বিন্দু জল থে সিন্দু হয়।

এইবার আসি নারী উদ্যোক্তা হওয়ার কিছু ধাপের কথায়:

প্রথমত, তাদের সবাইকে স্কিল ডেভেলপমেন্টের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সরকার পক্ষ থেকে ফ্রি ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেটা যেন হয় উন্নত মানের প্রশিক্ষণ।

দ্বিতীয়ত, উদ্যোক্তাদের প্রথমেই লোন বা প্রণোদনা প্যাকেজ না দিয়ে ছোট ছোট অনুদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেই অনুদান হবে এককালীন। যেটা দিয়ে নারীরা ছোট আকারে তাদের উদ্যোগের কাজে লাগাতে পারবেন। সেটা মনিটরিং এবং মেন্টরিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নারীদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভেতর নিয়ে আসতে হবে। যাতে করে ফেসবুকের সমস্যা হলেও যেন নারীদের উদ্যোগ বন্ধ না হয়।

পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনীর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত কিছু আয়োজন করা যেতে পারে। তাতে করে আমাদের উদ্যোক্তাদের পণ্য সামনাসামনি সবাই দেখতে পারবেন এবং এতে করে নেটওয়ার্কিং এর একটা প্ল্যাটফর্মও তৈরি হয়।

পণ্য প্রদর্শনী বা মেলা যেটাই বলি না কেন সেটা করতে হবে একদম স্বল্প মূল্যে, যাতে করে উদ্যোক্তাদের ওপর কোনো চাপ না পড়ে। খুব ভালো হয়, যদি বছরে বিভিন্ন জেলা শহরে তিনটা মেলা করা যায়, তার ভেতর উদ্যোক্তাদের জন্য একটা মেলা সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়া উচিত।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, নবীন উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য এক্সপোর্টও করছেন। তবে এক্সপোর্ট করার যে নিয়মনীতি আছে, যে ধরনের ডকুমেন্ট তৈরি করতে হয়, তার কিছুই তারা জানেন না। আবার পণ্য দেশের বাইরে এক্সপোর্ট করতে গেলে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়। সেই খরচ কমিয়ে আনতে আমাদের সরকার যদি পোস্টাল সার্ভিসকে ডিজিটাল করতে পারে এবং সেই সাথে রপ্তানি বিষয়ে যে ধরনের ১৫ থেকে ২০টা কাগজ ও লাইসেন্স রেডি করতে হয় তা যদি আরও সহজ করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে আমাদের নারীদের একটি বড় ভূমিকা থাকবে বলে আমি মনে করি। 

একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, ই-কমার্স নিয়ে যত আলোচনা-সমালোচনা থাকুক না কেন গত কয়েকটি মাস, নারী উদ্যোক্তারা কিন্তু তাদের উদ্যোগকে বন্ধ করে রাখেননি। তারা তাদের উদ্যোগ চালিয়ে গেছেন এবং যাচ্ছেন। আমাদের দায়িত্ব তাদের সমৃদ্ধির জন্য, আত্ম উন্নয়নের জন্য উপরোক্ত কাজগুলো করে যাওয়া। 

আমাদের নারী সমাজ বর্তমানে যেভাবে এগিয়ে এসেছে নিজের সংসার এবং নিজের দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য,বিশ্বাস করি তাদেরকে সঠিকভাবে দেখাশোনা ও সুযোগ দিলে , তারা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল বড় অবদান রাখতে পারবে।বাংলাদেশে নারীদের জন্য কাজ করা অনেকটা সহজ হয়েছে সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায়। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় গ্রামেও এখন তৈরি হচ্ছেন নারী উদ্যোক্তা। যারা আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন দেশ এবং দেশের বাইরে। তবে চ্যালেঞ্জ এখনো আছে।

কাজেই নারীদের নিজ জীবনে সকল বাধাকে পিছনে ফেলে যুগোপযোগী হতে নারী উদ্যোক্তা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহমান।

ব্লগ রাইটার :মোর্শেদা বেগম।

Comments

    Please login to post comment. Login