রাফির বয়স তখন মাত্র আট, যখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় সে তার মা-বাবাকে হারায়। সেদিনের কথা সে পুরোপুরি মনে করতে পারে না, শুধু মনে আছে—হাসিমাখা দুটো মুখ হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে পৃথিবীটা যেন বদলে গেল। বাড়িটা আগের মতোই ছিল, কিন্তু সেই উষ্ণতা আর ছিল না চাচার বাড়িতে বড় হতে লাগল রাফি।কেউ তাকে খারাপ ব্যবহার করত না, তবুও নিজের জায়গাটা সে খুঁজে পেত না। স্কুলে যখন বন্ধুরা মা-বাবার কথা বলত, সে চুপচাপ থাকত।“তোর মা কেমন রান্না করে?এই প্রশ্নে তার বুকটা হালকা কেঁপে উঠত। কারণ তার মনে পড়ে যেত মায়ের হাতের ভাতের গন্ধ, বাবার কাঁধে চড়ে মেলায় ঘোরার দিনগুলো।প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে রাফি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাত। সে বিশ্বাস করত, সবচেয়ে উজ্জ্বল দুটো তারা হলো তার মা আর বাবা। খুব মন খারাপ হলে সে ফিসফিস করে বলত,“আজ স্কুলে আমি ভালো রেজাল্ট করেছি… তুমি দেখছো তো?” কখনো কখনো তার মনে হতো, বাতাসটা যেন আলতো করে তার চুলে হাত বুলিয়ে দেয়।
সময়ের সাথে সাথে রাফি বড় হলো। কষ্টটা কমেনি, কিন্তু সে শিখে গেল কষ্টকে শক্তিতে বদলে নিতে। সে ঠিক করল, বড় হয়ে এমন একজন মানুষ হবে, যাকে দেখে মা-বাবা গর্ব করবে। পড়াশোনায় মন দিল, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখল।
একদিন কলেজের অনুষ্ঠানে সবার সামনে পুরস্কার নিতে গিয়ে তার চোখ ভিজে উঠল। মঞ্চের ওপরে দাঁড়িয়ে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, “দেখো, আমি পারছি।”