📖 বইয়ের নাম: আমার গিটার গুরু – বিকাশ কান্তি নাথ
১
আমার জীবনের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম আমার গিটার গুরু, বিকাশ কান্তি নাথ—যাঁর সান্নিধ্যে এসে আমি শুধু গিটার শেখার চেষ্টা করিনি, শিখেছি মানুষ হওয়ার এক গভীর শিল্প, শিখেছি শ্রদ্ধা, ধৈর্য, ভালোবাসা আর আত্মবিশ্বাসের মানে।
২
প্রথম দিন যখন তাঁর সামনে গিটার হাতে দাঁড়াই, আমার আঙুল কাঁপছিল, স্বর ঠিক হচ্ছিল না, কিন্তু তাঁর চোখে ছিল না কোনো বিরক্তি—ছিল এক অপার স্নেহের হাসি, যেন তিনি আগেই জেনে গেছেন, এই ছাত্র একদিন না একদিন সুর খুঁজে নেবে।
৩
গিটার আমার কাছে ছিল একটি বাদ্যযন্ত্র, কিন্তু স্যারের কাছে তা ছিল আত্মার ভাষা; তিনি বলতেন, “সুরকে ভালোবাসো, সুর তোমাকে পথ দেখাবে,” আর সেই কথাগুলো আজও আমার কানে অনুরণিত হয়।
৪
আমি সবসময় নিয়মিত হতে পারিনি, কখনো ক্লাস মিস করেছি, কখনো অনুশীলনে অলসতা করেছি, তবুও তিনি ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন—এই খোঁজ নেওয়ার মধ্যেই আমি একজন গুরুর প্রকৃত ভালোবাসা অনুভব করেছি।
৫
অনেক সময় মনে হয়েছে আমি পারবো না, কিন্তু তিনি বলতেন, “ভয় পেও না, ভুল করেই শিখতে হয়,” আর সেই কথাই আমার ভেতরের দ্বিধাকে ধীরে ধীরে গলিয়ে দিয়েছে।
৬
গিটার শেখা মানে শুধু কর্ড ধরা নয়, বরং প্রতিটি স্ট্রামের ভেতরে অনুভূতি ঢেলে দেওয়া—এ শিক্ষা আমি তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছি।
৭
একদিন ক্লাসে তিনি আমার হাত ধরে বলেছিলেন, “তুমি পারবে,” সেই স্পর্শে ছিল অদ্ভুত শক্তি, যেন একজন পিতা সন্তানের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করছেন।
৮
আমি পুরোপুরি শিখতে পারিনি, কিন্তু তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা কখনো কমেনি; বরং অসম্পূর্ণতার মাঝেও তাঁর প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে।
৯
তিনি শুধু শিক্ষক নন, তিনি পথপ্রদর্শক—জীবনের কঠিন সুরগুলোও কীভাবে সামলাতে হয়, তা তাঁর আচরণে শিখেছি।
১০
যখন মন খারাপ থাকতো, গিটারের তারে আঙুল রাখলেই তাঁর শেখানো সুর মনে পড়ে যেত, আর মনটা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যেত।
১১
প্রতিটি ক্লাস ছিল একেকটি নতুন সূর্যোদয়, যেখানে ভুল ছিল, চেষ্টা ছিল, আর ছিল তাঁর ধৈর্যভরা দৃষ্টি।
১২
তিনি কখনো উচ্চস্বরে বকেননি, বরং নরম কণ্ঠে বুঝিয়েছেন—যা হৃদয়ে গেঁথে যায়, তা চিৎকার করে বলা লাগে না।
১৩
গিটারের প্রতিটি তার যেন তাঁর জীবনের গল্প বহন করতো, আর আমি সেই গল্পের এক ছোট্ট শ্রোতা হয়ে থাকতাম।
১৪
আমি যখন ব্যর্থ হতাম, তিনি বলতেন—“ধৈর্য ধরো,” আর সেই ধৈর্যই আজ আমার জীবনের বড় সম্পদ।
১৫
একজন সত্যিকারের গুরু ছাত্রের ব্যর্থতায় হতাশ হন না, বরং সেই ব্যর্থতাকে সাফল্যের পথে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন—আমি তাঁকে দেখে তা বুঝেছি।
১৬
গিটার শেখার পথে যতবার হোঁচট খেয়েছি, ততবার তাঁর কথা আমাকে দাঁড় করিয়েছে।
১৭
তাঁর চোখে আমি দেখেছি বিশ্বাস—যে বিশ্বাস একজন ছাত্রকে বদলে দিতে পারে।
১৮
আমি আজও তাঁর শেখানো প্রথম কর্ড ভুলিনি, কারণ সেই কর্ডে ছিল প্রথম সাহসের সুর।
১৯
তিনি বলতেন, “মন খুলে বাজাও,” আর আমি বুঝতাম, জীবনেও মন খুলে বাঁচতে হয়।
২০
আমার কাছে তিনি শুধু গিটার গুরু নন, তিনি একজন প্রেরণার নাম।
২১
ক্লাসে কখনো কখনো তিনি নিজেই বাজিয়ে দেখাতেন, আর আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতাম—সুর যেন তাঁর আঙুলে জন্ম নেয়।
২২
তাঁর সান্নিধ্যে এসে বুঝেছি, ভালোবাসা দিয়ে শেখানোই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
২৩
আমি যখন অনুপস্থিত থাকতাম, তাঁর ফোন কল যেন আমাকে আবার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিত।
২৪
তিনি ছাত্রদের শুধু শিখাতেন না, তাঁদের স্বপ্ন দেখাতেন।
২৫
আমি আজও সেই স্বপ্নের পথেই হাঁটছি।
২৬
আমার অসম্পূর্ণ শেখা হয়তো একদিন পূর্ণ হবে, কিন্তু তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা চিরদিন পূর্ণই থাকবে।
২৭
তাঁর হাসি ছিল সহজ, অথচ গভীর—যা মনকে ছুঁয়ে যেত।
২৮
তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রত্যেক ছাত্রের মধ্যেই একটি সুর লুকিয়ে থাকে।
২৯
আমি চেষ্টা করছি সেই সুর খুঁজে বের করতে।
৩০
তাঁর প্রতিটি উপদেশ আজ আমার জীবনের মূলমন্ত্র।
৩১
গিটার শুধু সঙ্গীত নয়, এটি এক আত্মিক সাধনা—এ কথা তিনি শিখিয়েছেন।
৩২
আমি যতবার ক্লান্ত হয়েছি, তাঁর শেখানো সুর আমাকে জাগিয়ে তুলেছে।
৩৩
তিনি কখনো ছাত্রকে ছোট করেননি, বরং উৎসাহ দিয়েছেন।
৩৪
তাঁর কাছে শিক্ষা মানে ভালোবাসা।
৩৫
আমি তাঁর ছাত্র হতে পেরে গর্বিত।
৩৬
তাঁর শেখানো পথেই আমি এগোতে চাই।
৩৭
আমার জীবনের অনেক অন্ধকারে তিনি আলো জ্বালিয়েছেন।
৩৮
আমি হয়তো শ্রেষ্ঠ ছাত্র নই, কিন্তু তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা সত্য।
৩৯
তিনি আমার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৪০
তাঁর আশীর্বাদ আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
৪১
যতদিন গিটার বাজাবো, তাঁর কথা মনে রাখবো।
৪২
তাঁর শেখানো প্রতিটি সুর আমার হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
৪৩
তিনি আমার প্রিয় গুরু, প্রিয় পথপ্রদর্শক।
৪৪
আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।
৪৫
আমার জীবনের সুরে তিনি চিরকাল থাকবেন।
৪৬
তিনি আমাকে শিখিয়েছেন ধৈর্য।
৪৭
তিনি আমাকে শিখিয়েছেন আত্মবিশ্বাস।
৪৮
তিনি আমাকে শিখিয়েছেন শ্রদ্ধা।
৪৯
তিনি আমাকে শিখিয়েছেন ভালোবাসা।
৫০
আমি তাঁর ছাত্র হতে পেরে ধন্য।
৫১
আমার গিটার গুরু, আপনি আমার জীবনের এক অনন্য অধ্যায়।
৫২
আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা কখনো শেষ হবে না।
৫৩
আপনি আমার হৃদয়ের গভীরে বাস করেন।
৫৪
আপনার আশীর্বাদ নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই জীবনের প্রতিটি পথে।
✍️ লেখক পরিচিতি
আদিত্য ভৌমিক
জন্ম: ২২ এপ্রিল ১৯৯৮, চট্টগ্রাম।
তিনি ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি ভালোবাসেন এবং অনুভূতির গভীরতা শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতে আগ্রহী। তাঁর লেখায় আবেগ, শ্রদ্ধা ও মানবিকতার ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
7
View