দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার গ্রামীণ জনপদের পথগুলো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এগুলো মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির ধারক। পাটকেলঘাটা থেকে দলুয়া যাওয়ার পথটি তেমনই এক জীবন্ত পথ, যেখানে একের পর এক বাজার, মোড় ও পাড়া মিলিয়ে গড়ে উঠেছে মানুষের চলমান জীবনচিত্র।
এই যাত্রা শুরু হয় পাটকেলঘাটা থেকে। এটি একটি ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সমবেত হয়। এখান থেকে সামনে এগোতেই পড়ে আচিমতলা। আচিমতলা ছোট হলেও এটি স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থল। এখানকার চায়ের দোকানগুলোতে সকালবেলা জমে ওঠে আড্ডা।
এরপর আসে জামতলা, যা তার প্রাচীন গাছপালা ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। এই স্থান পেরিয়ে পৌঁছানো যায় ইসলাম কাটি মোড়ে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, যেখানে বিভিন্ন দিক থেকে মানুষ এসে মিলিত হয়।
যাত্রার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থান গনেশপুর বাজার। এটি একটি প্রাণবন্ত বাজার, যেখানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করেন। এখানকার কোলাহল গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক। এর পরেই হাজরাপাড়া, একটি শান্ত আবাসিক এলাকা, যেখানে গ্রামের স্বাভাবিক জীবনধারা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
এরপর আসে খলিষখালী বাজার, যা এই পথের অন্যতম প্রধান বাজার। এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু পাওয়া যায়। এই বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, এটি মানুষের সামাজিক সম্পর্কেরও কেন্দ্র। খলিষখালী বাজারের পর পড়ে হরিতলা মোড়, যা বিভিন্ন গ্রামের সংযোগস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এরপর খলিষখালী দক্ষিণ পাড়া, একটি জনবহুল এলাকা, যেখানে মানুষের বসতি ঘন। এখানকার মানুষ প্রধানত কৃষিকাজ ও ছোট ব্যবসার সাথে যুক্ত। সামনে এগোলেই বয়ারডাংগা, একটি শান্ত ও সবুজে ঘেরা জনপদ, যেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য মুগ্ধ করে।
এরপর পড়ে টিকারামপুর, যা তার সরল ও আন্তরিক মানুষের জন্য পরিচিত। এই স্থান পেরোলেই পৌঁছানো যায় আমাদের গন্তব্য দলুয়া। দলুয়া একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ, যেখানে গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ প্রবাহিত হয়।
এই পুরো পথটি শুধু একটি যাত্রাপথ নয়, এটি মানুষের জীবন, সংগ্রাম, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি বাজার, প্রতিটি মোড়, প্রতিটি পাড়া এই পথকে করেছে জীবন্ত। পাটকেলঘাটা থেকে দলুয়া পর্যন্ত এই পথ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—গ্রামের পথ মানেই শুধু দূরত্ব পেরোনো নয়, এটি মানুষের হৃদয়ের সংযোগের পথ।
3
View