Posts

চিন্তা

এবারের জাতীয় নির্বাচনের বড় শক্তি কী!

February 15, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

20
View

চরম অশ্লীল, আক্রমণাত্মক, শিষ্টাচারবহির্ভূত, ভাঁড়ামি ও কুরুচিপূর্ণ যে গালিগুলো মুখে আনতে পারছি না। এমনকি কল্পনায় আনলেও ব্রেন অনীহা প্রকাশ করছে -গেল দেড় বছর ধরে শিবিরের স্বঘোষিত সুবর্ণ ছেলেরা, ইনকিলাব মঞ্চের বিপ্লবী ও এনসিপির নয়া বন্দোবস্তের দাবিদার তরুণেরা এই সমাজ ও জাতিরাষ্ট্রকে যেসব গেলাতে চেয়েছিল এককথায় ভয়াবহভাবে গতকাল তা ফেইল করেছে। বটের বাটপারির বিরুদ্ধে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে নীরব ভোটারেরা। ওদের পৃষ্ঠপোষক অর্থগৃধ্নু ইনফ্লুয়েন্সারদের টাটা বাই বাই বলে দিয়েছে দেশের মেজরিটি।

গতকালের জাতীয় নির্বাচনের বড় শক্তি এটা। এবং যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান সফল করতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন প্রফেসর ইউনুস এরং জেনারেল ওয়াকারের মতো রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকেরা।

রাজনীতির বড় গোল হলো ক্ষমতার পাটাতনে শামিল থাকা। হ্যাঁ জামায়াত হয়ত সেটা পারল। সরকারের বিরোধীদলের বড় অংশ এখন তারাই। তাদের জন্মের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি এমপির মুখ তারা এবারই প্রথম দেখল। দেশের প্রচলিত রীতি, আচার, সংস্কৃতি, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধী হয়েও তারা সেটা পারল অন্য সতীর্থদের ব্যর্থতাকে পুঁজি করে।

কিন্তু তারা যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের নাম শুনলেই নাক সিঁটকায়, রিসেট বাটনের গপ্প শোনায়, গালাগালি করে প্রতিমতকে ভিলিফাই করে -সেসবের কবর একসাথে রচনা হলো কাল। জামায়াত এখন গেল দেড় বছরের মুখ খারাপ রাজনীতি ঝেড়ে ফেলে শুদ্ধাচার, ভব্যতা ও সভ্যতার পথে হাঁটতে পারে। সেটির ফল আখেরে তাদের জন্যই ভালো হবে।

অপরদিকে বিএনপির ওপর দেশের গুরুভার অর্পণ করেছে দেশবাসী। মাটিতে পা রেখে সেই দায় তাদের মেটাতে হবে। সেটা করতে হবে বেপরোয়া বিরোধীদল জামায়াতকে চোখে চোখে রেখে।

নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারোরই নাই। আপনাদের সকল দলের মেনিফেস্টোও তা সমর্থন করবে না। আপাতত সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতি শুভকামনা। দেখি আপনারা আগামী একশ দিনে নতুন কী কী করেন।

লেখক: সাংবাদিক 

১৩ ফেব্রুয়ারি ২৬

Comments

    Please login to post comment. Login