বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে অরুন্ধতী জানিয়েছেন, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি প্রেসিডেন্ট ও জার্মানির বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ভিম ভেন্ডার্সের মন্তব্যের প্রতিবাদে তিনি এই উৎসবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ভেন্ডার্স বলেছেন, চলচ্চিত্র রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। এই প্রসঙ্গে অরুন্ধতী বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে ভেন্ডার্স ও জুরির অন্য সদস্যদের প্রতিক্রিয়ায় আমি ‘স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ’।
সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভেন্ডার্স বলেছেন, রাজনীতির মাঠে আমরা আসলেই ঢুকতে পারি না। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রাজনীতির পাল্টা ভারসাম্য রক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। ইভা পুশ্চিন্সকা নামের জুরির এক সদস্য বলেছেন, এই বিষয়ে সরাসরি অবস্থান নিতে জুরির কাছে প্রত্যাশা করা কিছুটা অন্যায্য।
তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ৬৬ বছর বয়সী বুকারজয়ী এই লেখক বলেন, শিল্প রাজনৈতিক হওয়া উচিত নয় বলে ভিম ভেন্ডার্স ও জুরির অন্য সদস্যদের বিবেকবর্জিত মন্তব্য আমাকে গভীর দুঃখ দিয়েছে। তাদের এ মন্তব্য হতবাক করে দেওয়ার মতো ব্যাপার। তাই আমি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছি।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েল রাষ্ট্রের গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করে অরুন্ধতী বলেন, আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় নির্মাতা ও শিল্পীরা যদি দাঁড়িয়ে এটা বলতে না পারেন, তাহলে তাদের জেনে রাখা উচিত, ইতিহাস তাদের বিচার করবে।
চলতি বছরের বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে অরুন্ধতী রায়কে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এতে ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভজ ইট দোজ ওয়ানজ’ সিনেমার পুনরুদ্ধার করা সংস্করণ দেখানোর কথা ছিল। ১৯৮৯ সালের এই সিনেমায় চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন অরুন্ধতী।
উল্লেখ্য, অরুন্ধতী রায় ১৯৯৭ সালে ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ উপন্যাসের জন্য বুকার প্রাইজ পান। তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থক। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হল, ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’, ‘আজাদি, দ্য এন্ড অব ইমাজিনেশন’।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান