Posts

গল্প

মানবজীবন

February 16, 2026

Rakib Shafqat Reza

Original Author My original post

41
View

ঢাকায় আমাকে প্রায় মেট্রোরেলে চড়া লাগতো। উত্তরা থেকে শাহবাগ। শাহবাগ থেকে উত্তরা। 

ট্রেনভর্তি মানুষ দলবেঁধে একসাথে একদিকে যাই। কিন্তু আমরা যাই-ফিরি ভিন্ন ভিন্ন অফিস-বাসা-মানুষ-গল্পে। আমার যেহেতু স্বভাব খারাপ, ভিড়ের মাঝে উকি দিয়ে মানুষের চোখেমুখে গল্প খুজি।

ফেরার পথে প্রায় দেখতাম, কোন আপু খুব আদরে তার প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে দাড়িয়ে আছেন। ভাইয়াটা আপুকে সব মানুষের থেকে আগলে রাখেন। চালচলনে বুঝি, তারা বিবাহিত। অফিস শেষে বাড়ি ফিরছেন। অবিবাহিত মানুষের জড়ানোতে কেন জানি মায়া থাকে না। 

রেল যত উত্তরার দিকে আগায়, ভিড় কমে আসে। সিট ফাকা হয়। সব মানুষ কিন্তু তাও বসে না। নিজেদের জড়িয়ে দাড়িয়ে থাকে। জানালা দিয়ে ধুলো উড়া একটা মলিন পৃথিবী দেখে। গুটুগুটু করে কথা বলে। কথার সে শব্দ আমরা পাই না। কখনো কখনো তাদের মুখে হাসি লেগে থাকে। বসলেও, একে অন্যের হাত ধরে রাখে। একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে বসে। আপুরাই এমনটা বেশি করেন। কোন কোন আপু ভাইয়ার কাধে মাথা রেখে ঘুমান। 

সাদাসিধে জামাকাপড়। কারো হাতে দুপুরের লাঞ্চ বক্স। কেউ ফেরেন কাওরান বাজারের ব্যাগ হাতে। ব্যাগের মাথায় শাক নইলে লাউয়ের ডগা বের হয়ে থাকে। কারো হাতে থাকে বাচ্চার ডায়াপার। কারো হাতে ডাক্তারের চেম্বারের ফাইল। একদিন দেখি দুজন মিলে কি যত্নে বাচ্চার জন্যে সাইকেল কিনে ফিরছেন। খুশিতে কারো ঠোটে হাসি আটছে না । বহুবছর আমি অত সুন্দর কোন দৃশ্য দেখিনি ! 

ট্রেন থেকে নেমে তারা একসাথে রিকশায় ওঠেন। সিড়িতে একজন আরেকজনের হাত ধরে নামেন। অনেক ভাইয়া রাস্তা থেকে আপুকে বেলী ফুলের মালা কিনে দেন। কোন কোন ভাইয়া, একাই ফুল হাতে বাড়ি ফেরেন। 

  

আমার প্রায় মনে হত বেয়াক্কলের মত গিয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘বাসায় ফিরে কি আপনাদের ঝগড়া হয় ? কখনো কি মনে হয় ছেড়ে চলে যাই ? রাগ হলে কি আপনারা একজন আরেকজনকে ফেসবুকে ব্লক করে দেন ? তারপর কি আর কোনদিন আপনাদের কথা হয় না … ?’ 

ছোটকালে খেয়েছি একনম্বর সুজি, মাথায় ডান হাতে ভাত খাবার বুদ্ধি নিয়ে তাই আমি দূর থেকে তাদের একসাথে দূরে মিলিয়ে যাওয়া দেখি। 

আমার আর জিজ্ঞেস করা হয় না, আমার তাই আর জানা হয় না। মানুষ হিসেবে জন্মালে, এই পৃথিবীর সবকিছু জানতে হয় না … 

-রাকীবামানিবাস
১৬ই ফেব্রুয়ারী,২০২৬  

Comments

    Please login to post comment. Login