আন্টির নাম কি কে জানে – দেশবাসী উনাকে চিনেন রনীর মা নামে। রনী উনার বড়মেয়ের নাম।
ছোটখাট মানুষ। অল্প বয়সে নিজের গৃহশিক্ষককে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। মেয়েদের চাইতেও মা’কে ছোট মনে হয়। খুব বুদ্ধিমতী। খুব চটপটে, শান্তহাতে বিশাল সংসার সামলান।
আমাদের উল্টাদিকের বাসায় থাকতেন একসময়। প্রথম রোজার তারাবী শুরু করতেন আমার নানীকে সালাম করে। আংকেল-আন্টি গায়েপড়ে এলাকার বয়স্কদের খোজখবর নিতেন – আমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগতো ব্যাপারটা !
সালাম করতে এলে, আমার নানী আন্টির হাত জাপটে বলতেন, ‘এই রনীর মা – আমাকে দুইটা চিকেন রোল দিবা। আমি খাবো। আমার শখ হইসে … ‘

নানীকে জড়িয়ে আন্টি হাসতেন। বলতেন, খালাম্মা আমার মনে আছে ! আমার নানী অন্যের হাতে রাঁধা খাবার ধরতেন না। চিকেন রোল খাবার তো প্রশ্নই আসে না। তিনি রোল খুজতেন তাঁর পেটুক নাতীর জন্য। নাতী সারাদিন খাই-খাই করে। দোকানের ডুবা তেলে ভাজা জিনিসের প্রতি তার ভালোবাসা অন্তিম। যন্ত্রনায় তাঁকে রনীর মা’কে ধরা লাগে। রনীর মায়ের বাসায় বানানো জিনিস, তেলটা ভালো …
রোল এনেও শান্তি নাই। নাতীটা দুষ্ট, তারে ভরসা নাই। হুট করে লম্বা লম্বা পা ফেলে দোকানে কিছু কিনতে চলে যাবে। অতি আদরের নাতীর উপরে বেচারি রাগ করতে পারেন না। তিনি শুধু দুপুর দুইটায় দারোয়ান পাঠিয়ে মালঞ্চের ফাস্ট ব্যাচের গরম গরম জিলাপী আনিয়ে ‘রেডি’ রাখতে
পারেন। এতে যদি দুষ্ট নাতীটাকে দোকানে যাওয়া থেকে আটকানো যায় …
বেঁচে যাওয়া ইফতার মাগরিবের পরে অর্ধেক দামে বিক্রি হয়। নাতী সেটা খেতে চলে যায়। বৃদ্ধ এক মানুষ, হুইলচেয়ারে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কি করবেন ? এই ছেলে কথা শুনে না।
বাবা-মায়ের জন্যে দোয়া আছে। আমার যে নানী নিজের কলিজা ভুনা করে আমাকে রেধে খাওয়ানো বাকি রেখেছিলেন, তাঁর জন্য বিশেষ কিছু নাই। আমাকে বাংলা ভাষায় আশ্রয় খোজা লাগে। কিন্তু আমি শব্দ খুজে পাই না। ঝরঝর করে আমার চোখ ভেসে আসে।
খোদাতালা কি মানুষের চোখের ভাষা পড়তে জানেন ... ?