নদীর পাড়ে বিকেলের আলোটা নরম হয়ে নামে। ঠিক সেই আলোতেই প্রথম দেখা হয়েছিল তাদের।
ছেলেটার নাম আর্য। শহরের কোলাহল ছেড়ে কয়েক দিনের জন্য গ্রামে এসেছে—নিজেকে খুঁজতে, না হয় অন্তত নিজের ভেতরের ক্লান্তিটাকে একটু ছুঁয়ে দেখতে। নদীর ধারে এসে বসাটাই তার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল।
সেদিন হঠাৎ করেই সে তাকে দেখে।
মেয়েটা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে, জলের দিকে তাকিয়ে আছে। হাতে ছোট একটা খাতা। মাঝে মাঝে কলম চালাচ্ছে, আবার থেমে যাচ্ছে। চোখে এক ধরনের শান্ত দুঃখ—যেটা খুব চুপচাপ থাকে, কিন্তু গভীর।
আর্য জানে না কেন, কিন্তু ওই মুহূর্তে সে আর চোখ সরাতে পারে না।
খুব সাধারণভাবে পরিচয় হয়।
—“আপনি কি এখানে প্রতিদিন আসেন?”
মেয়েটা একটু চমকে তাকায়, তারপর হালকা হাসে।
—“হ্যাঁ… নদীটা আমার খুব কাছের।”
নাম তার নীরা।
সেই দিনটা ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের কথা। কিন্তু আর্যের মনে হয়েছিল, যেন অনেকদিনের চেনা কাউকে হঠাৎ সামনে পেয়ে গেছে।
এরপর থেকে প্রতিদিন বিকেলে দেখা হতে থাকে।
কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়া। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া। শুধু নদীর ধারে বসে থাকা, আর কথা বলা।
কখনো বই নিয়ে কথা, কখনো গান, কখনো খুব ছোট ছোট জীবনের গল্প।
নীরা খুব কম কথা বলত নিজের বিষয়ে। আর্যও জোর করত না। সে বুঝে গিয়েছিল—কিছু মানুষকে জানতে হলে প্রশ্ন করতে হয় না, পাশে থাকতে হয়।
একদিন নীরা নিজের খাতাটা আর্যের দিকে বাড়িয়ে দেয়।
ভেতরে ছোট ছোট কবিতা।
সব কবিতার শেষ লাইনে শুধু একটা কথাই বারবার—
“কিছু মানুষ আসে, থেকে যাওয়ার সাহস নিয়ে।”
আর্য বুঝতে পারে না, কেন বুকের ভেতরটা হঠাৎ ভারী হয়ে আসে।
সেই সন্ধ্যায় নদীর জলে সূর্য ডুবছিল। আকাশটা গোলাপ।
58
View