বর্ষার শেষ বিকেল। গ্রামের মেঠো পথে একা হাঁটছিল মায়া। আকাশে জমে থাকা মেঘ যেন তার বুকের ভেতরের অজানা কষ্টের মতোই ভারী। ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারানোর পর পৃথিবীটা তার কাছে কেমন নির্জন হয়ে গেছে।
ঠিক সেই সময় শহর থেকে পড়াশোনা শেষ করে গ্রামে ফিরে আসে আরিয়ান। সবার কাছে সে সফল ছেলে, কিন্তু নিজের ভেতরে সে খুঁজে ফিরছিল এক টুকরো শান্তি। মায়ার সঙ্গে প্রথম দেখা হয় লাইব্রেরির বারান্দায়। বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ চোখাচোখি—দু’জনের মাঝখানে নীরব এক গল্পের শুরু।
মায়া কথা কম বলে, কিন্তু তার চোখে ছিল হাজারটা না-বলা কথা। আরিয়ান ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, এই মেয়েটার ভাঙা হাসির পেছনে জমে আছে এক সমুদ্র একাকীত্ব।
দিন গড়াতে থাকে। বৃষ্টিভেজা বিকেল, নদীর ধারে হেঁটে চলা, আর চুপচাপ একে অপরের পাশে বসে থাকা—সব মিলিয়ে তাদের সম্পর্ক নীরবে গভীর হতে থাকে। কিন্তু সমাজের বাঁধা, ভুল বোঝাবুঝি আর অতীতের ভয় তাদের ভালোবাসাকে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করায়।