শহরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে বহু পুরোনো এক বাড়ি। সবাই বলে, বাড়িটা নাকি অভিশপ্ত। সন্ধ্যার পর কেউ সেখানে যায় না।
একদিন সাহস করে সেই বাড়িতে ঢুকে পড়ল আরিয়ান। তার বন্ধুরা চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল—ভিতরে গিয়ে একটা রাত কাটাতে পারলে সে-ই সবচেয়ে সাহসী।
রাত গভীর হতেই উপরের ঘর থেকে টুপ… টুপ… শব্দ ভেসে এলো। যেন কেউ ধীরে ধীরে হাঁটছে। আরিয়ানের বুক ধড়ফড় করতে লাগল। তবুও সে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল।
দরজাটা অল্প খোলা। ভেতরে সম্পূর্ণ অন্ধকার। হঠাৎ পেছন থেকে ঠান্ডা হাওয়া বয়ে গেল। সে ঘুরে দাঁড়াতেই দরজাটা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
মোবাইলের আলো জ্বালাতেই সে দেখল—ঘরের মাঝখানে একটা পুরোনো আয়না। আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি… কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, প্রতিচ্ছবিটা হাসছে, অথচ সে হাসছে না!
হঠাৎ আয়নার কাচে ফাটল ধরল। ফাটলের ভেতর থেকে ভেসে এলো এক ফিসফিসে কণ্ঠ—
“এখানে যারা আসে… তারা আর আগের মতো ফিরে যায় না…”
পরদিন সকালে বাড়িটার দরজা খোলা ছিল। কিন্তু আরিয়ানকে আর কেউ খুঁজে পেল না। শুধু আয়নার সামনে পড়ে ছিল তার মোবাইল—স্ক্রিনে একটি ছবি… যেখানে সে দাঁড়িয়ে আছে, আর আয়নায় দেখা যাচ্ছে শূন্য ঘর।